বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১, ১১:২৫ পূর্বাহ্ন

উল্লাপাড়ার হামিম ইউনানী ল্যাবরেটরিজের ৮ কর্মকর্তাকে আসামী করে মামলা

উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
  • সময় কাল : সোমবার, ৭ জুন, ২০২১
  • ৩২৮ বার পড়া হয়েছে
{"subsource":"done_button","uid":"302955A1-5B30-4387-BCE4-338BF66F1C70_1623060381067","source":"other","origin":"gallery","source_sid":"302955A1-5B30-4387-BCE4-338BF66F1C70_1623060640659"}

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার একটি বেসরকারি ঔষধ কোম্পানি হামিম ইউনানী ল্যাবরেটরিজ লিঃ এর বিরুদ্ধে জীবন বিধ্বংসী হারবাল ঔষধ তৈরি পরীক্ষা ছাড়াই মানব দেহে প্রয়োগের অপরাধে উল্লাপাড়া মডেল থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ৩ ( জুন)  সন্ধ্যায় নীলা আক্তার নামের এক মহিলা বাদী হয়ে জন কর্মকর্তাকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন।

মামলার বাদী নীলা আক্তারের অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, উল্লাপাড়া পৌরসভায় অবস্থিত হামিম ইউনানী ল্যাবরেটরিজ লিঃ কোম্পানিতে ওয়ার্কার পদে চাকুরি করে আসছিল নীলা। কোম্পানির মালিক ডায়াবেটিক রোগের জন্য নতুন উৎপাদিত ডাইজিক কেয়ার নামে একটি ঔষধ উৎপাদন করতে চলেছেন। ডাইজিক কেয়ার নামের উৎপাদিত ঔষধের (ক্যাপসুল) কিছু স্যাম্পল কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ম্যানেজিং ডিরেক্টরের নির্দেশে হেকিম আলামিন ওয়ার্কার নীলাকে প্রদান করেন এবং বিভিন্ন ডায়াবেটিক রোগিদের মধ্যে বিতরণ প্রয়োগ করে ফলাফল জানানোর নির্দেশ দেন। তিনি সরল মনে উৎপাদিত ঔষধ গ্রহন করে তার বাড়ী কয়ড়া নিয়ে যান। নীলার স্বামী নাজমুল হুদা শ্বশুর আসাব আলী তারা উভয়ে ডায়াবেটিক রোগী  হওয়ায় তাদের দুজনকেই উক্ত ঔষধ সেবন করান।  সেবনের কিছু সময় পড়েই তার স্বামী শ্বশুর উভয়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়ার পথে তারা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে স্বামী শ্বশুরকে নিয়ে নীলা বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। কর্তব্যরত চিকিৎসকের নিবির পরিচর্চায় ৪৮ ঘন্টা পর উভয়ে জ্ঞান ফিরে পান। পরীক্ষা করে তাদের শরীরে জীবন বিধ্বংসী ডিএম, এইচটিএন, হারবাল পয়জন শনাক্ত করেন চিকিৎসকরা। বর্তমানে অসুস্থ অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। এই কোম্পানীর বিরুদ্ধে যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট প্রস্তুত করে বাজারে বিপননের মাধ্যমে যুব সমাজকে ধ্বংসের অভিযোগ রয়েছে।

উল্লাপাড়ার হামিম ইউনানী ল্যাবরেটরিজ লিঃ এর নতুন উৎপাদিত ডাইজিক কেয়ার নামের ক্যাপসুল খেয়ে অসুস্থ হওয়া রোগির শরীরে জীবন বিধ্বংসী  পয়জন শনাক্ত হওয়ার অপরাধে বাদী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন কর্মকর্তাকে আসামী করে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেছেন উল্লাপাড়া মডেল থানায়। অভিযুক্ত আসামীরা হলেনহামিম ইউনানী ল্যাবরেটরিজ লিঃ ঐষধ প্রস্ততকারী কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর আব্দুল গণি মন্ডল (৫৮), হেকিম মোঃ আলামিন (৪০), ম্যানেজার মোঃ আজিম (৩৫), পরীক্ষক মোঃ মাসুম (৩৬), মেশিন অপারেটর শিবলী  মন্ডল (৩৭), সহকারি ম্যানেজিং ডিরেক্টর জাহাঙ্গীর (৪৫), মোঃ সুমন মন্ডল (৪০), কোম্পানির তত্বাবধায়ক মোছাঃ  রোজিনা বেগম।

বিষয়ে কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর আব্দুল গণি মন্ডলের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগটির বিষয়ে কোন কিছু বলতে পারবে না বলে মুঠোফোনের লাইনটি বিছিন্ন করেন |

উল্লাপাড়া মডেল থানার উপপরিদর্শক মামলা তদন্তকারি কর্মকর্তা গাজীউল হক জানান, ঔষধ কোম্পানিটির বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় বর্তমানে কোম্পানিটি বন্ধ রেখে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে। পুলিশ তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও খবর
themesba-lates1749691102