সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কোনাবাড়ীতে গাঁজাসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী আটক ঠাকুরগাঁওয়ে দুইদিন ব্যাপী শিশু সাংবাদিকদের কর্মশালা শুরু লালমনিরহাট পাটগ্রামে দুই রোহিঙ্গা আটক গাজীপুরে নিখোঁজের ৫ দিন পর যুবকের লাশ উদ্ধার সন্ত্রাসীর চুরিকাঘাতে সাংবাদিক অশোক দাস গুরুতর আহত কাজিপুরের চরাঞ্চলে মাদক সন্ত্রাস বিরোধী মিছিল ও সমাবেশ করেছে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল ৩ ঘন্টা পর উল্লাপাড়ায় ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রূপগঞ্জে সেজান জুস কারখানায় অগ্নিকান্ডে নিহত ও আহতদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে স্কপ এর শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান অনুশীলনে ফিরেছেন ড্যাসিং ওপেনার তামিম ইকবাল জয়পুরহাট র‍্যাব ৫ এর হাতে বগুড়াতে ১১ কেজি গাঁজাসহ ৫ জন গ্রেফতার

উল্লাপাড়ার ধরইল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার :
  • সময় কাল : বুধবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৩৫ বার পড়া হয়েছে

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার ধরইল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সাত্তার আজাদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও অর্থআত্মসাতের অভিযোগ উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর দাখিল করেছেন বিদ্যালয়ের ১৩ জন শিক্ষক ও কর্মচারী। অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে ১৯৯৬ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হবার পর শিক্ষকদের নিয়োগ বানিজ্য ও জেএসসি কেন্দ্র ফি আত্মসাৎ করে আসছেন প্রধান শিক্ষক আব্দুস সাত্তার আজাদ।

বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর একই গ্রামের হাজী আব্দুস সাত্তার নামে এক ব্যক্তি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। প্রধান শিক্ষক আব্দুস সাত্তার আজাদ বিদ্যালয়ের সেই সভাপতিকে বিভিন্ন কাজের কথা বলে স্বাক্ষর নেয়। স্বাক্ষর না দিলে হুমকি ও শোকজের ভয় দেখায়। অভিযোগে বলা হয়েছে শিক্ষক নিয়োগে অফিস সহকারী পদে রবিউল ইসলামের কাছ থেকে ৬ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, আবুল কালাম আজাদের কাছ থেকে ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা এবং কৃষি শিক্ষক আল মাহমুদের কাছ থেকে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেন শিক্ষক ও কর্মচারীবৃন্দ। এছাড়াও তিনি জেএসসি ও এসএসসি পরিক্ষা কেন্দ্র কোন হিসাব নিকাশ ছাড়াই পরিচালনা করেন।

২০১৯ সালে জেএসসি পরীক্ষায় আয় ১ লাখ ৬ হাজার টাকা এবং ব্যয় ৭৩ হাজার ৫৬ টাকা এবং এসএসসি পরিক্ষায় আয় ৩ লাখ ১৩ হাজার ১০০ টাকা এবং ব্যয় ১ লাখ ২০ হাজার ৫০০ টাকা। জেএসসি পরিক্ষার অবশিষ্ট ৫৫ হাজার ১০৪ টাকা এবং এসএসসি পরিক্ষার ১ লাখ ৯২ হাজার ৬০০ টাকা আত্মসাৎ করেন। ২০০৩ সালে সিনিয়র সেকশনে ৩ জন শিক্ষক ও ১ জন কর্মচারী নিয়োগ প্রদান করেন, তাদেরকে ২০১৭ সালের পূর্ব পর্যন্ত কোন ভাতা দেওয়া হয়নি, ২০১৭ সাল থেকে ৫০০ টাকা ভাতা দেওয়া হয় এবং ২০১৮ সাল থেকে ১০০০ টাকা ভাতা প্রদান করা হয়।

শিক্ষকবৃন্দ আরো বলেন, আমাদের জানামতে নন-এমপিও ভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নূন্যতম মাসিক ৫০০০ টাকা ভাতা দেওয়া হয়। এছাড়াও তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থেকেও একদিনে সবগুলো স্বাক্ষর করে। শিক্ষকরা কিছু বললে তিনি বলেন, এটা কমিটির ব্যাপার, আমি আপনাদের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নই। এছাড়াও বিভিন্ন অফিসের কথা বলে অসামঞ্জস্য হিসাব উপস্থাপন করে অর্থ আত্মসাৎ করেন বলে জানান শিক্ষকবৃন্দ। শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ করলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তদন্তভার দেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোসলেম উদ্দিন কে।

তদন্ত কর্মকর্তা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, কাউকে না জানিয়ে কমিটি করা, পরিক্ষার সম্মানি প্রদানে অনিয়মসহ অন্যান্য অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনৈতিক স্থলনের আরো অভিযোগ আছে, ২০১৫ সালে জেএসসি পরীক্ষায় নকল সাপ্লাই দিতে গিয়ে ধরা পরে ৪ দিন জেল খাটেন। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করার আগে কঠোর লকডাউনে সহকারী শিক্ষক মোঃ রফিকুল ইসলাম কে বরখাস্ত করেন।
এছাড়া তিনি আইসিটি বিষয়ে তার শালিকা আফরোজা খানম কে ২০১৪ সালে নিয়োগ প্রদান করেন বলে জানান কিন্তু কোন প্রমাণাদি দেখাতে পারেন নাই কিন্তু ২০২১ সালের আগস্ট মাসে বেতনের তালিকাভুক্ত করার জন্য আবেদন করেন, আফরোজা খানমের নাম দেখে শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ অবাক হন।

সরেজমিনে গেলে এলাকাবাসী ও শিক্ষকরা জানান, এ নামে কোন শিক্ষককে চেনেন না বা দেখেননি, এই প্রথম নামটা শুনলেন। আইসিটি বিষয়ে আফরোজা খানম নামে কোন শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে এইটা স্কুল কমিটির সভাপতি হাজী আব্দুস সাত্তারও জানেন না বলে সাংবাদিকদের জানান।

বিদ্যালয় সংলগ্ন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম তালুকদার বলেন আফরোজা খানম নামে কোন শিক্ষক আছে বলে আমার জানা নাই। ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি প্রফেসর আবু সাঈদ তালুকদার জানান, শিক্ষকদের অভিযোগ সম্পর্কে আমি অবহিত, সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের শাস্তি দাবি করেন ।

এব্যাপারে মঙ্গলবার বিকেলে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য,অভিভাবকসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিরা একটি সাধারণ সভা করেছে। সাধারণ সভায় প্রধান শিক্ষক আব্দুস সাত্তার আজাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ধরইল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সাত্তার আজাদ বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গুলো সঠিক নয়। আমি যা করেছি সবার সাথে আলোচনা করেই করেছি।

উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেওয়ান মওদুদ আহমেদ মুঠোফোনে জানান,অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও খবর
এই নিউজ পোর্টাল এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ ।  About Us | Contact Us | Terms & Conditions | Privacy Policy
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102