মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১, ০৮:৫২ অপরাহ্ন

কাঠালিয়ার ভ্রাম্যমান আদালতের আদায়কৃত টাকা লোপাট! ধামাচাপা দিতে ইউএনও ও এসিল্যান্ডের দৌড়ঝাঁপ

সাইদুল ইসলাম, রাজাপুর প্রতিনিধি :
  • সময় কাল : শুক্রবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৮৬ বার পড়া হয়েছে

ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় মেসার্স ত্বোহা ব্রিকস ফিল্ডে অনিয়মের অজুহাত তুলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ভ্রম্যমান আদালতের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে চার লাখ টাকা আদায় করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে । পরে ভাটা কর্তৃপক্ষের তোপের মুখে পড়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুমিত সাহার স্বাক্ষরিত মামলার (নম্বর ০৫/২০২১ইং) মাধ্যমে (যার ক্রমিক নং ৪৮০৮২৩) ইট ভাটা মালিককে আদায়কৃত চার লাখ টাকার অর্ধেক দুই লাখ টাকার রশিদ প্রদান করে। এবং বাকি দুই লাখ টাকা আত্মসাৎ করে। বিষয়টি গনমাধ্যমকর্মীসহ সুশীল সমাজের মধ্যে জানাজানি হলে ধামাচাপা দিতে নানা কৌশাল ও দৌড়ঝাঁপ শুরু করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুফল চন্দ্র গোলদার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)।
ঘটনার পরথেকেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুফল চন্দ্র গোলদার  আত্মসাৎ বিষয়টি আপোশরফা করার জন্য ও ঘুষের দুই লাখ টাকা ফেরৎ দিতে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির সাথে তার ব্যবহারিত (ব্যাক্তিগত ও অফিসিয়াল) নম্বর দিয়ে এবং স্ব-শরীরে যোগাযোগের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
অন্য দিকে বিষয়টি জেলা প্রশাসকসহ কাঠালিয়ার বিভিন্ন মহলে জানাজানি হলে এলাকায় জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর ২৬ জানুয়ারী কাঠালিয়া উপজেলায় বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের নানা প্রোগ্রামে অংশগ্রহনের কথা থাকলেও উল্লেখ্য কোনো কারনে তিনি অংশগ্রহন করেননি। যা নিয়েও সুশীল সমাজের মধ্যে নানাবিধ প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
ইট ভাটার পার্টনার মালিক মোঃ শাহিন আকন জানান, গত ২৫ জানুয়ারি সোমবার সকালে এসিল্যান্ড সুমিত সাহা, তার অফিসের নাজির মাঈনুল, কয়েকজন পুলিশ ও দমকল বাহিনীর সদস্য নিয়ে আমাদের ফিল্ডে উপস্থিত হয়। এ সময় নানা অভিযোগ তুলে ফায়ার সার্ভিসের লোকদের নাজির মাঈনুল ভাটার চুলায় পানি দিয়ে নিভিয়ে ফেলতে বললে, অনেক অনুনয়-বিনয়ের পর নগদ দশ লাখ টাকা দাবি করলে নগদ এত টাকা তাদের কাছে নেই বলে জানালে ক্ষুদ্বু হয়ে ইট ভাটার অপর মালিক মোঃ এনামুল হকের শ্বশুর হাবিবুর রহমান ও কর্মচারী মফিজুলকে আটক করে কাঠালিয়া সদরে এসিল্যান্ড কার্যালয়ে নিয়ে আসে।
এ অবস্থায় শাহিন আকন তার আত্মীয়সহ বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে ধার-দেনা করে ৪ লক্ষ টাকা নিয়ে উপজেলা ভূমি অফিসে গিয়ে নাজির মাঈনুলের হাতে পৌছে দিলে এসিল্যান্ড সাক্ষরিত একটি রশিদ দেয় যাতে দু’লক্ষ টাকা লেখা দেখে। সে দুই লক্ষ টাকার রশিদ কেনো জানতে চাইলে তাকে ধমকিয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়”।
এদিকে স্থানীয় সাংবাদিকদের একটি সূত্র জানায়, অভিযানের পর এসিল্যান্ড সুমিত সাহা কয়েক সাংবাদিকের ম্যাসেঞ্জারে দু’লাখ টাকা জড়িমানার তথ্য প্রদান করেন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় অভিযান চালান বলে দাবী করেন। একই তথ্য উল্লেখ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুফল চন্দ্র গোলদারও এটি ফেসবুকে পোষ্ট দেন কিন্তু অর্থলোপাটের তথ্য ফাঁস হওয়ার পর সেই পোষ্টটি আর নেই বলে জানান।
বিষয়টি আপোশরফা ও আত্মসাতকৃত টাকা ফেরত দেয়ার চেষ্ঠায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ভূমিকা নিয়ে জানাতে চাইলে সুফল চন্দ্র গোলদার বলেন, মেসার্স ত্বহা ব্রিকস ফিল্ডে একটি অভিযান করা হয়েছে এবং সেখানে ভ্রম্যমান আদালত পরিচালনা করে দুই লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে তিনি জানেন। এর বাহিরে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবী করেন।
সহকারী কমিশনার সুমিত সাহা ৪ লক্ষ টাকা নেয়ার কথাটি অস্বীকার করে বলেন, অন্য কেউ টাকা নিয়েছে কিনা আমার জানা নেই, আমি ২ দুই লক্ষ টাকা জরিমানা করেছি।

Spread the love
  •  
  •  
  •  

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও খবর
themesba-lates1749691102