মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১, ০৫:৩০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

কাস্টমস ঘুষ কেলেংকারির ফলোআপ না করতে টাকা নিয়ে আসলেন অবৈধ বিড়ি মালিক

আশরাফুল হক, লালমনিরহাট
  • সময় কাল : বৃহস্পতিবার, ১৮ মার্চ, ২০২১
  • ৩১ বার পড়া হয়েছে

এবার ফলোআপ নিউজ প্রকাশ না করার জন্য সরাসরি ঘুষের প্রস্তাব দিয়ে বিষয়টি নিয়ে চুপচাপ থাকার আকুতি জানিয়েছে লালমনিরহাট কাষ্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের আলোচিত সেই দুই সিপাহী রনি বাবু ও ধীমান চন্দ্র রায়। এরই মধ্যে একাধিকবার ওই দুই কাষ্টমস সিপাহীর প্রতিনিধি হিসেবে এক অবৈধ বিড়ি কারখানার মালিককে দিয়ে সাংবাদিককে ফলো-আপ সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করে এবং উৎকোচ দেওয়ার চেষ্ঠা করেন। উৎকোচ নিয়ে আসা ওই অবৈধ বিড়ি মালিকের নাম মোহন এবং তার বাড়ি রংপুরের হারাগাছ উপজেলায়। উল্লেখ্য, গেল দশ মার্চ লালমনিরহাট কাস্টমস এর দুই সিপাহীর ঘুষ কেলেংকারি নিয়ে বিভিন্ন জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর তোলপাড় অবস্থার সৃষ্টি হয়। এরপর কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করলে অভিযুক্ত সিপাহী রনি বাবু ও ধীমান বিভিন্ন মাধ্যমে এই প্রতিবেদককে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন। এমনকি ফোনে ম্যানেজ করতে না পেরে একাধিকবার লালমনিরহাট প্রেসক্লাবে এসে প্রতিবেদককে ডেকে নিয়ে সরাসরি টাকা দেওয়ার চেষ্টা করে বিড়ি ব্যবসায়ী মোহন। অনৈতিক প্রস্তাবনা দেওয়ারও ভিডিও সংরক্ষিত রয়েছে এই প্রতিবেদকের কাছে। উল্ল্যেখ্য, গেল ১ মার্চ রাত ১১ টায় শহরের মিশন-মোর এলাকায় অবস্থিত এস আর পার্সেলের সামনে একটি পিক-আপ ও দুটি অটো ভর্তি কয়েলের কার্টুন আটক করে লালমনিরহাট কাস্টমস,এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগে কর্মরত সিপাই মোঃ রনি বাবু ও ধীমান চন্দ্র্র রায়। অভিযোগ ছিলো এস আর পার্সেলে কন্ডিশনের মাধ্যমে সরকারী ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে এই কয়েলগুলো লালমনিরহাটে এসেছে। সেই কয়েলগুলো আটক করে সাড়ে সাত হাজার টাকা ঘুষ গ্রহন করে এবং বাকি টাকা বিকাশে পাঠানোর শর্তে তাদের কয়েলগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘুষ গ্রহনের সেই ঘটনার বিশ মিনিটের একটি ভিডিও ফুটেজ সাংবাদিকদের হাতে চলে আসে।

অনুসন্ধানে কাষ্টমস সিপাহী রনি বাবু ও ধীমান চন্দ্রের ঘুষ লেনদেনের ভিডিও ও অডিও ক্লিপ পাওয়ার পর নিউজের জন্য তার কাছে বক্তব্য চাইলে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেছিলেন, তার বিরুদ্ধে নিউজ করে তাকে বদলি করাতে পারলে তিনি মিষ্টি খাওয়াবেন। এরপরেই ১০ মার্চ বিভিন্ন জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন পত্রিকায় “ছবিসহ পত্রিকায় নিউজ ছাপুন, বদলি হলে মিষ্টি খাওয়াবো’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পরেই নড়েচড়ে বসে ওই অফিসের কর্মকর্তারা। এরপর তাৎক্ষণিক রনি বাবুকে পাটগ্রাম সার্কেলে বদলি করে দেওয়া হয় এবং আরেক অভিযুক্ত সিপাহী ধীমান চন্দ্র্র রায়কে বিভাগীয় কার্যালয়েই সংযুক্ত রাখা হয়। সংবাদ প্রকাশের পর ওই দিনই চার সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন ওই কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (অতিরিক্ত দ্বায়িত্ব) মোঃ আব্দুল হান্নান। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যেই এই কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিবেন বলে জানান তিনি। এদিকে বিভিন্ন তদবির অব্যাহত থাকতেই আরো অনুসন্ধান চালানো হয় এই অভিযুক্ত সিপাহী রনি বাবু ও ধীমান চন্দ্র রায়কে নিয়ে। এরপরেই বেরিয়ে আসে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। সম্প্রতি রনি বাবু রংপুর কাষ্টমসের হারাগাছ সার্কেল থেকে লালমনিরহাট সার্কেলে ও ধীমান চন্দ্র লালমনিরহাট জেলার বুড়িমারী সার্কেল থেকে বিভাগীয় কার্যালয়ে বদলি হয়ে এসেছেন। এই দুই সিপাহী রনি বাবু ও ধীমান চন্দ্রের বিরুদ্ধে পূর্বের কর্মস্থলেও বিভিন্ন অনিয়ম করারও অভিযোগ উঠেছে যা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।

 

Spread the love
  •  
  •  
  •  

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও খবর
themesba-lates1749691102