মঙ্গলবার, ১৫ জুন ২০২১, ০১:৪১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
গাজীপুরে ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামী ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার শাহজাদপুরে আলোকবর্তিকা’র বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীর উদ্বোধন নায়িকা পরীমনিকে ধর্ষণচেষ্টার মামলা : নাসির-অমিসহ গ্রেফতার ৫ ভাঙ্গুড়ায় গলায় খাবার আটকে নারীর মৃত্যু সলঙ্গায় ব্রীজের মুখ বন্ধ করে পুকুর খনন করে মাছ চাষ শতাধিক ফসলি জমি ও বসতবাড়িতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি কোনাবাড়ীতে স্কুল ছাত্রের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার  নতুন সভাপতি পেল দুই সংসদীয় কমিটি সিরাজগঞ্জে যুবলীগের উদ্যোগে- মরহুম মোহাম্মদ নাসিমের ১ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে- খাবার বিতরণ আশুলিয়ায় চেকজালিয়াতি মামলায় গ্রেপ্তার-১ প্রথমবারের মতো পোশাক কারখানায় খোলা বাজারে খাদ্য সামগ্রী বিক্রি শুরু

কী লেখা হয়েছে মিন্নিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া রায়ে

Reportar Name
  • সময় কাল : সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২০
  • ৫৯ বার পড়া হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক

মিন্নিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশিত হয়েছে।

বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালত গত ৩০ সেপ্টেম্বর রায়ে নিহতের স্ত্রী আয়েশা আক্তার মিন্নিসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চারজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। ৩ অক্টোবর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়।

রায়ে বলা হয়েছে, মিন্নির সঙ্গে স্বামী রিফাত শরীফের সম্পর্কের অবনতি ও মিন্নিকে মারধর করার জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ কারণেই মিন্নিকে ওই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রায়ে মিন্নির বিরুদ্ধে একসঙ্গে দুজন স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়টিও উল্লেখ আছে।
রায়ে বলা হয়েছে, আসামি মিন্নি তাঁর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেন যে আইডিয়াল কলেজে পড়ার সময় ভিকটিম রিফাত শরীফের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক হয়। রিফাত শরীফের মাধ্যমে তাঁর বন্ধু আসামি নয়ন বন্ডের সঙ্গেও পরিচয় এবং পরবর্তী সময়ে নয়ন বন্ডের সঙ্গেও তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

রায়ে বলা হয়, আসামি নয়ন বন্ডের সঙ্গে আসামি মিন্নির বিয়ে হয় ২০১৮ সালের ১৫ অক্টোবর। এই তথ্য গোপন করে ২০১৯ সালের ২৬ এপ্রিল ভিকটিম রিফাত শরীফের সঙ্গে বিয়ে হয় মিন্নির। শরীফের সঙ্গে বিয়ের পরও আসামি নয়ন বন্ডের সঙ্গে আসামি মিন্নির সম্পর্ক অব্যাহত থাকে। এ নিয়ে ভিকটিম রিফাত শরীফের সঙ্গে মিন্নির মনোমালিন্য হয়। আসামি নয়ন বন্ডের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে আসামি মিন্নির উপস্থিতির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করা, এ কারণে হেলালের মোবাইল ফোনসেট আনায় হেলালের বন্ধু আসামি রিফাত ফরাজী ও মিন্নির সঙ্গে ভিকটিম রিফাত শরীফের ঝগড়া, মিন্নির মারধর (তলপেটে লাথি মারা) করার ঘটনা থেকেই রিফাত শরীফকে হত্যার পরিকল্পনা হয় বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও মিন্নির দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বরাত দিয়ে রায়ে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, এই মামলার ভিকটিম রিফাত শরীফকে খুন করার দায়ে আসামিরা সমানভাবে দায়ী। রায়ে বলা হয়, আসামি মিন্নি এ মামলার ঘটনার পরিকল্পনার মূল উদ্যোক্তা (মাস্টারমাইন্ড) এবং তাঁর কারণেই হতভাগ্য রিফাত শরীফ নির্মমভাবে খুন হয়েছেন এবং তাঁর মা-বাবা পুত্রহারা হয়েছেন। তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণে তাঁর বয়সী মেয়েদের বিপথগামী হওয়ার আশঙ্কা থাকবে। তাই এই মামলায় তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া বাঞ্ছনীয়।

রায়ে বলা হয়, প্রকাশ্য দিবালোকে সনাতনি অস্ত্র রামদা দিয়ে কুপিয়ে নির্মম হত্যাকাণ্ড মধ্যযুগীয় বর্রতাকেও হার মানিয়েছে। এই নির্মম হত্যাকাণ্ড সংঘটনকারী আসামিরা প্রত্যেকে যুবক। তথ্য-প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বদৌলতে যুবসমাজসহ দেশ-বিদেশের সব বয়সের মানুষ ওই নির্মমতা প্রত্যক্ষ করেছে। এমতাবস্থায় তাঁদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে দেশের যুবসমাজ ভুল পথে অগ্রসর হওয়ার আশঙ্কা থাকবে। তাই তাঁদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া বাঞ্ছনীয়।

 

Spread the love
  •  
  •  
  •  

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও খবর
themesba-lates1749691102