সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:৫২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পপুলার লাইফের প্রধান কার্যালয়ে ক্লোজিং উপলক্ষে ব্যবসা উন্নয়ন সভা ও বীমা দাবীর চেক হস্তান্তর সিরাজগঞ্জে স্বাধীনতার সূর্বণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে- মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান সীতাকুণ্ডে মসজিদকে দুই ভাগে বিভক্ত করার প্রতিবাদে মুসল্লিদের বিক্ষোভ গাইবান্ধায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে সিভিল সার্জনের ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা ভালুকায় আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী দিবস পালন কামারখন্দে মেম্বার পদপ্রার্থীর গণসংযোগ কামারখন্দে মেম্বার পদপ্রার্থীর গণসংযোগ গাজীপুরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ  ৬ ডিসেম্বর লালমনিরহাট হানাদার মুক্ত দিবস! কোটচাঁদপুরে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ-২০২১ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

দল বদলের সাথে সাথে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়!

আশরাফুল হক, লালমনিরহাট
  • সময় কাল : রবিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২১
  • ২০১ বার পড়া হয়েছে

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরী মাত্র ১০ বছরের ক্ষমতায় গড়েছে কোটি কোটি টাকা সম্পদ। তেল বিক্রেতা থেকে ১০/১৫ বছরে শত-কোটিতে পৌছেছেন। দল বদলের সাথে ভাগ্যও বদল করেছেন তিনি। জানা গেছে, উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান মকছুল চৌধুরীর ছেলে মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরী ছাত্র জীবনে রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন না। কর্মজীবনের শুরুতে বাবার রেখে যাওয়া কৃষি জমির চাষাবাদের আয়ে চলত তার সংসার। তেমন কোন পরিচিতি ছিল না নিজ এলাকায়। কর্ম জীবনের শুরুতে মহিষখোচা বাজারে চৌধুরী বাজার রোডে খোলা বাজারে ডিজেল ও পেট্রোল বিক্রির দোকান করতেন। বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের উপ মন্ত্রী জেলা বিএনপি’র সভাপতি আসাদুল হাবীব দুলু বাড়ি থেকে মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরীকে ডেকে নিয়ে বিএনপি’র রাজনীতিতে সক্রিয় করেন। একই সাথে তিস্তা নদীর বাম তীরে সলেডি স্প্যার বাঁধ ২ এর জরুরী সংস্কার কাজ দেন উপ মন্ত্রী দুলু। সেই প্রকল্পের টাকায় তিনি হঠাৎ ফুলে ফেঁপে উঠেন বলে স্থানীয়দের দাবি। তৎকালিন উপ মন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলুর আর্শিবাদ পুষ্ট মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরী বিগত ২০০৬ সালে ইউপি নির্বাচনে বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে পরাজিত হলেও গত ২০১১ সালে মহিষখোচা ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর গত ২০১৪ সালে ২৫ জুন তাকে মহিষখোচা ইউনিয়ন বিএনপি’র আহবায়ক এবং গত ২০১৫ সালের ২ নভেম্বর ওই ইউনিয়ন বিএনপি’র সম্মেলনে মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরী সভাপতি নির্বাচিত হন। বিএনপি নেতা হিসেবে হাসিনা বিরোধী বিভিন্ন আন্দোলনে নেতৃত্বও দেন তিনি। কিন্তু কোন ভাবে আওয়ামীলীগের পতন না হলে সরকারী দলে ভিড়তে চেষ্টা করেন তিনি। সরকার দলীয় নেতা হতে গত ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনের কিছু দিন পুর্বে বিএনপি ত্যাগ করে আওয়ামীলীগের যোগদান করেন কৌশলী মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরী। নৌকা নিয়ে দ্বিতীয় বারের মত ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও আওয়ামীলীগে কোন পদ পদবি হয়নি তার। টানা দুই বার দুই ক্ষমতাসীন দলের চেয়ারম্যান হয়ে ভাগ্য বদলে ফেলেন তিনি। আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের খোঁজ খবর না নিলেও স্থানীয় সংসদ সদস্য সমাজকল্যান মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ এমপি’র আস্থাভাজন হন মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরী। সাম্প্রতি তার মোবাইল নম্বরে মৃত ব্যাক্তির বয়স্ক ভাতার টাকা চলে যাওয়া নিয়ে গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে ব্যাপক সমালোচনায় পড়েন তিনি। সমাজকল্যান মন্ত্রীর কাছের লোক হয়ে সমাজকল্যান মন্ত্রনালয়ের বয়স্ক ভাতা নিজের মোবাইলে নেয়ায় সংক্ষুব্ধ হন মন্ত্রী নিজেও। ফলশ্রুতিতে মন্ত্রীর সাথে সম্পর্কের কিছুটা দুরুত্ব তৈরী হলেও কৌশলী মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরী আসন্ন নির্বাচনের নৌকার টিকিট পেতে দুরুত্বের অবসান ঘটিয়ে ফেলেন। পেয়ে যান নৌকা মনোনায়ন। ১১ নভেম্বরের ভোটে পুনরায় জয়লাভ করতে নৌকার মাঝি হিসেবে প্রচারনা শুরু করেছেন তিনি। স্থানীয়রা জানান, ক্ষমতাসীন দুই দলের নেতা হিসেবে দুই বারের চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরী মাত্র ১০ বছরে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। অজোঁ পাড়া গাঁয়ে করেছেন দ্বিতল ভবনের আলিসান বাড়ি ও দামি দামি আসবাবপত্র এবং ঘুরে বেড়ান প্রায় ২৮ লাখ টাকা দামের গাড়িতে। এলাকায় কিনেছেন অনেক কৃষি জমি, করেছেন বড় বড় গোডাউন, আদিতমারীর বৈরাগীর ভিটা এলাকার ইটভাটায় শেয়ার, রংপুর শহরের মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ের সামনে ও শহরের বিভিন্ন স্থানে ক্রয় করেছেন কয়েক কোটির টাকার জমি।

তার বাবা প্রায়ত চেয়ারম্যান মকছুল হোসেন চৌধুরীর সময় ইউনিয়ন পরিষদের অর্থে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র গড়ে তুলতে মহিষখোচা বাজারে জমি ক্রয় করা হয়। তৎকালিন নিয়মানুযায়ী জমিটি ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে মকছুল হোসেন চৌধুরীর নামে রেজিস্ট্রি করে দেন ধরনী কান্ত ও তরনী কান্ত। জমিটি বিক্রেতার ছেলে কোকিলেশ্বর ও স্থানীয়রা এমনটি দাবি করেন। পরবর্তিতে জঠিলতায় ওই জমিতে স্বাস্থ্য কেন্দ্র গড়ে উঠেনি। ফলশ্রুতি জমির মালিক হয়ে যান তৎকালিন চেয়ারম্যান মকছুল হোসেন চৌধুরী। বাবার রেখে যাওয়া সেই জমিতে চৌধুরী কমপ্লেক্স নামে দ্বিতল মার্কেট গড়ে তুলেন বর্তমান চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরী। অর্ধ কোটি টাকায় কুষ্টারীর হাট ভাইয়ের নামে ইজারা নিয়ে কামারপাড়া এলাকার নিজের জমিতে বসিয়েছেন গরুহাট। সেখানেও রয়েছে বিশাল বড় গোডাউন। উপজেলা সদরের রথের পাড় এলাকায় অটোরাইস মিল গড়ার প্রস্তুতিও চুড়ান্ত। এতেই শেষ নয়, ঢাকা শহরে প্লোট কিনেছেন বলেও এলাকায় গুনজন উঠেছে। সব মিলে মাত্র ১০/১৫ বছরেই মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরী শতকোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের। মহিষখোচা ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মুরাদ বলেন, বিএনপি জামায়াত জোট সরকার আমলে মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরীর স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের নানা ভাবে হয়রানী করেছেন। স্থানীয় আওয়ামীলীগের কার্যলয় ভেঙে দেয়ার চক্রান্তও করেছিলেন তিনি। অবৈধ সম্পদ রক্ষায় ও ক্ষমতাসীন দলে থাকতে দল বদল করেছেন। আওয়ামীলীগকে ভালবেসে আসেননি। আওয়ামীলীগের বিভিন্ন কর্মসুচিতে তার সরব উপস্থিতি ছিল না। বিএনপি’র লোকজনের সাথে আজও আতাত করে চলছেন তিনি।

 

 

Spread the love

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও খবর
এই নিউজ পোর্টাল এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ ।  About Us | Contact Us | Terms & Conditions | Privacy Policy
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102