মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৩৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মহেশখালী পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদে জয় হলেন যারা টঙ্গীতে বগি লাইনচ্যুত, সাড়ে ৩ ঘন্টা পর উদ্ধার কার্যক্রম শুরু সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় পূর্ব শত্রুতার জেরে গৃহবধুকে মারধরের অভিযোগ ইউপি নির্বাচনে নৌকার মাঝি হয়ে শক্ত হাতে বৈঠা ধরবে যুবলীগ নেতা তুহিন উল্লাপাড়ার করতোয়ানদীতে এইচটি ইমাম স্মৃতি ফাইনাল নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত মির্জাপুরে “মানবতার হাতের” উদ্যোগে ফ্রি চক্ষু মেডিকেল ক্যাম্প গাজীপুরে পরকীয়ার জেরে স্ত্রী হত্যা, স্বামী গ্রেপ্তার রূপগঞ্জে জালিয়াতি করে কৃষকের সর্বনাশ কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নার্সদের অবহেলায় ২ শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ কুড়িগ্রামে মসজিদের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন কর‌লেন জেলা পরিষদের চেয়ারম‌্যান

প্রজাপতি ব্যবসায়িক সমবায় সমিতির অর্থ আত্নসাত-আদালতে মামলা দায়ের

আশরাফুল হক, লালমনিরহাট :
  • সময় কাল : রবিবার, ৮ আগস্ট, ২০২১
  • ৬৬ বার পড়া হয়েছে
লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়ন বাজারস্থ মহিষখোচা প্রজাপতি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিঃ এর সভাপতি, সহ-সভাপতি, সম্পাদক ও ক্যাশিয়ার এর বিরুদ্ধে সমিতির সদস্যেদের সঞ্চায়ের ত্রিশ লক্ষ টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে ।আদালতে মামলা দায়ের করেছেন অভিযুক্ত এক সদস্য। দায়িত্ব এড়াতে সমিতির গভঃ নিং বডির সদস্যদের একে-অপরকে দোষারোপ করছে।
অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, মহিষখোচা প্রজাপতি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিঃ গত ১২-৩-২০১২ ইং তারিখে প্রতিষ্ঠিত হয়। যেখানে লেখা আছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত। যার রেজি নং-৫৮। উক্ত সমিতির বর্তমান সদস্য
সংখা প্রায় পাচঁ হাজার দুইশত। তৎকালীন ২২-০৬-২০২০ইং পর্যন্ত তাদের মাঠ পর্যায়ে বিতরণকৃত লোনের পরিমান ছিল প্রায় কোটি টাকার সমান হলেও এই প্রতিষ্ঠানের মোট মূলধনের পরিমান ছিল প্রায় তের কোটি টাকার সমান। এ টাকা পুরোটাই সমিতির সদস্যদের কাছ থেকে দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক হারে গ্রহনকৃত।
সরেজমিনে দেখা যায, সমিতির সদস্য মোছাঃ মর্জিনা বেগম, মোছাঃ-দুলালি বেগম, মোঃ ফজলার রহমান, আব্দুল হান্নান, স্বপ্না বেগম ,মুহসীন আলী, শাপলা বেগম এবং সাইদুুল ইসলাম ও মহুবর রহমানসহ মোট ১১জন সদস্যের অভিযোগের ভিত্তিতে দেখা যায় তারা দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক হারে টাকা জমা রাখত। তাদের সকলের জমাকৃত টাকার পরিমান ছিল চার লাখ পয়ত্রিশ হাজার চারশত ত্রিশ ।
অভিযোগকারী এগার সদস্যদের পক্ষে মোছাঃ শাপলা বেগম বলেন, আমি মাসিক পাচঁশত টাকা জমা রাখতাম। আমার কোড নম্বর-২২৬৬ আমি ৩০মার্চ ২০১৭ইং সদস্য পদ লাভ করে মাসিক পাচঁশত টাকা হারে ৩০ জুলাই ২০২০ইং পর্যন্ত টাকা জমা রাখি যার পরিমান আঠার শত টাকা । সদস্য মহুবর রহমান কোড নং-৬৫১ তার জমাকৃত টাকার পরিমান ছিল এক লাখ ছয়শত টাকা।
এমনি ভাবে, ফজলার রহমান কোড নং- ১৯০৪ জমার পরিমান-৩৫৫০০ টাকা, স্বপ্না বেগম কোড নং-১,৯০৪ জমার ছবিসহ পরিমান ৩১,১২০ টাকা ,দুলালি বেগম কোড নং-২০৩ জমার পরিমান ৩৫৪৬০ টাকা, মোঃ নুর হক কোড নং- ২৯৯৫ জমার পরিমান-৭১,৩০০টাকা ,মর্জিনা বেগম কোড নং-৩০২৬ জমার পরিমান-২৪৪৪০ টাকা, হান্নান মিয়া কোড নং-১,৫৭২, জমার পরিমান- ৪,৪১০টাকা ,সাইদুল ইসলাম কোড নং-৩১৫৪ জমার পরিমান-৩০০০টাকা। মোছাঃ ফুলতি বেগম কোড নং- ১০৯১ টাকার পরিমান-৮৫৬০ টাকা, মুহসীন আলী কোড নং- ৩১১৮ টাকার পরিমান- ৮,০০০ টাকা এমনি ভাবে মোট এগার সদস্যের জমাকৃত টাকার পরিমান দাড়িয়েছে প্রায় ৪,৩৫,৪৩০ ( চার লাখ পয়ত্রিশ হাজার চারশত ত্রিশ ) টাকা। বিভিন্ন সময় যখন অভিযোগকারী সভাপতি-সম্পাদক-সহ-সভাপতি-ক্যাশিয়ার এর কাছে তাদের জমাকৃত টাকা ফিরত চায়, সে সময় দ্বায়িত্বশীল চার ব্যক্তিবর্গ টাকা ফিরত না দিয়ে একে অপরের উপর দোষারোপ করতে থাকেন মর্মে অভিযোগে প্রকাশ।
সরেজমিন পর্যবেক্ষন কালে তাদের মুখে শোনা যায়, তারা নিতান্তই খেটে খাওয়া অসহায় গরীব মানুষ। তারা কেউ ডিম বিক্রি করে এবং মুদি দোকান করে তাদের কষ্টার্জিত টাকা ভবিষ্যতে মুনাফা লাভের আশায় দৈনিক, সাপ্তাহিকও মাসিক হারে সঞ্চয় জমা রেখেছিল। এই টাকা সমিতির সভাপতি-সহ-সভাপতি-সম্পাদক-ক্যাশিয়ারসহ যারা দ্বায়িত্বে ছিলেন তারা কৌশলে তাদের টাকা আত্মসাত করার অপচেষ্টায় ব্যস্ত আছে। তাদের ভাষ্য আমরা গরীব মানুষ আমাদের টাকা ফেরত দেবার ব্যবস্থা করে দেন । অর্থ আত্মসাত এর ব্যাপারে সমিতির সভাপতি জনাব মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমি সভাপতি ছিলাম ২০১২-১৩-১৪-১৫ইং সাল পর্যন্ত । তাও আবার নামে মাত্র। সমিতিতে কখন কাকে কিভাবে টাকা পয়সা লোন দিয়েছেন আমি কিছুই জানিনা। কিভাবে সঞ্চয় তারা আদায় করেছেন তাও জানিনা। তবে এতটুকু বলতে পারবো আমার দায়িত্ব থাকাকালীর অবস্থায় সমিতির চার বারে লাভ হয়েছিল তিন লাখ সায়ত্রিশ হাজার টাকা। তাছাড়া আমি নিজেও এ সমিতির সদস্য ছিলাম।
আমার নিজ নামীয় সাপ্তাহিক জমার পরিমান ছিল প্রায় ৭২০০০টাকা । ওই সভাপতি বলেন যে, আমার অনুপস্থিতিতে কাশিয়ার-সম্পাদক-সহ-সভাপতি নামে বেনামে প্রায় চার লাখ টাকা সরিযে নেয়। কোন কোন ক্ষেত্রে ১০লাখ টাকার সঞ্চয় ৫ লাখ টাকায় পরিশোধ করেছে। সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হক বলেন, অত্র প্রতিষ্ঠানের মোট সদস্য সংখ্যা ৫২০০জন, জমাকৃত টাকার পরিমান দাড়িয়েছিল প্রায ১৩ কোটি টাকা যা সদস্যের বিভিন্ন মেয়াদে জমাকৃত সঞ্চয়ের টাকা। গত ১২ই মার্চন২০১২ ইং সালে প্রতিষ্টিত হয়ে ১১ই সেপ্টেম্বর ২০২০ ইং সাল পর্যন্ত সমিতির কার্যত্রম অব্যাহত ছিল। আমার দায়িত্ব নেয়ার পূর্বে পার্টনারশীপ ছিল ৬ জন। তিন জন চলে যাওয়ার পর এবং নতুন একজন (জিয়াউর) যোগ দিলে সমিতির দায়িত্বশীল বডিতে আমরা চারজন দায়িত্ব গ্রহন করি। পূর্বের তিনজন চলে যাওয়ার সময় তাদের লভ্যাশের পাচঁ লাখ একষট্টি হাজার টাকা নিয়ে চলে যায়।
আমি দায়িত্ব গ্রহনকালে মূলধনের পরিমান ছিল (৫০-৬০) লাখ টাকা। আমাদের  দ্বন্ধের মূল কারণ সভাপতি এবং ক্যাশিয়ার। কোন মিটিং ডাকলে সভাপতি-সম্পাদক সে মিটিং এ উপস্থিত থাকতেন না। অভ্যন্তরীন কোন্দল যখন বেশী মাত্রায় দেখা দেয় সে সুযোগে সভাপতি নিজ ক্ষমতাবলে এমদাদের দ্বারা ভারপ্রাপ্ত উপজেলা  চেয়ারম্যান চিত্তবাবুর মাধ্যমে পূরো কমিটি পরিবর্তন করবার অপচেষ্টা করেন। কোষাধ্যক্ষ এককভাবে (২০১৮-২০২০) মোট ২-৩ সাল পর্যন্ত একাই অফিস পরিচালনা করেন। সমিতির সমস্ত টাকা ব্যাংকে জমা না রেখে একাই হস্তগত করেন । আমার জানা-মতে, সে সময় কোষাধ্যক্ষের হাতে টাকা ছিল সাত লাখ। সে সময় লেনদেন কার্যক্রম কোষাধ্যক্ষ একাই পরিচালনা করতেন। রেজুলেশন বই ও কর্মীর অঙ্গিকার পত্র সহ অনেক কাগজপত্র নিজেই কোষাধ্যক্ষ সড়িয়ে রাখেন।
আমি গত জুন ২০২০ইং এ বাধ্য হয়ে মাঠ কর্মী ফখরুল এবং আঃ খালেক এর মাধ্যমে এসমস্ত ঘটনা ইউএনও মহোদ্বয় আদিতমারীকে জানাই। ইউএনও মহোদ্বয় উপজেলা সমবায় কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিলে তিনি সবাইকে মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে মিটিং এর মাধ্যমে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি বর্গের উপস্থিতিতে সদস্যদের টাকা দু-তৃতীয়াংশ ফিরত দানের ব্যবস্থা করেন। সেসময় আমরা চারজন (১৫-০২-২১ইং এবং ১২-০৩-২০২১) ইং দুই তারিখে চুয়াল্লিশ লাখ একানব্বই হাজার তিন শত পচানব্বই টাকা পরিশোধ করলেও অনেক সদস্য বাকী থেকে যায়। ইউএনও মহোদ্বয় বাকী সদস্যদের টাকা স্থানীয় কামাল, হোছট মেম্বার, আঃ হক, সেকেন্দার মেম্বারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি বর্গের দারা পরিষোধ করার তাগিত দেন।
কিন্তু আদৌ এ পর্যন্ত প্রায় দু-তিন’শ সদস্য তাদের সঞ্চায়ের টাকা ফিরত পাননি মহিষখোচা প্রজাপতি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিঃ এ ক্যাশিয়ার আঃ সালাম। ওই সমিতির আঃ সালামকে (০১৭৭৪৩৮৯৮৯৪) ফোন করলে তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৮ লাখ টাকা লোন করে সমিতির ১৪লাখ টাকা জড়িমানা দিয়েছি। ইউনিয়ন পরিষদের সকলেই স্বাক্ষী আছেন। বাকী সদস্য যারা টাকা পায়নি সে ব্যাপারে কি করবেন জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, যারা বিচারের দায়িত্ব নিয়েছিলেন তাদেরকে বলেন।
সঞ্চয়ের টাকা সদস্যরা না পাওয়ার পিছনে বিচারকগণ ও দ্বায়ী। উপজেলা যুবলীগ সভাপতি কামাল বলেন, আমি এবং আমরা যারা দায়িত্বে ছিলাম সবাই চেষ্টা করেছি বিষয়টি সমাধান করার জন্য। আমরা কিছু টাকা সদস্যের মাঝে বিতরণ ও করেছি। তিনি ক্যাশিয়ারের কথা নাকচ করে বলেন, ওনারা গরীব মানুষের মেরে খেলে তার জবাব তারাই দিবে। অত্র সমিতির সহ-সভাপতি জিয়াউর রহমান কে ০১৭২৮৫৯২৮৪০ এ ফোন করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা বলেন, মহিষখোচা প্রজাপতি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিঃ এর সকল কার্যত্রম বন্ধ এবং তাদের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। সদস্যদের টাকা স্থানীয় কামাল, হোছট মেম্বার, আঃ হক, সেকেন্দার মেম্বার-সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি বর্গের দারা পরিষোধ করার অনুরোধ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ঘোড়াঘুড়ির এক পর্যায়ে টাকা ফেরত না পাওয়ার কারণে অত্র প্রতিষ্ঠিানের সদস্য মহুবর রহমান, সদস্য কোড নং -৬৫১ বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট, আমলী আদালত-২ এ ৪২০/৪০৬/১০৯ ধারায় মামলা দ্বায়ের করেন। যার মামলা নং-সি-আর ১১৬/২০২১(এ) তারিখঃ ২৩-০৬-২১ইং মহুবর রহমান বনাম জাহিদুল ইসলাম। আদালত ফৌজদারী কার্য বিধির ২০০ ধারা মতে, অভিযোগকারীর হলফ পাঠঅন্তে জবানবন্দি গ্রহণ করে ১৬-৮-২০২১ইং তারিখের মধ্যে সমস্ত কাগজপত্র পিআরবি- ২৬১ প্রবিধান মতে ওসি আদিতমারী কে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন ।
Spread the love
  •  
  •  
  •  

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও খবর
এই নিউজ পোর্টাল এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ ।  About Us | Contact Us | Terms & Conditions | Privacy Policy
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102