বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১, ১২:৪২ অপরাহ্ন

প্রতিবেশী পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করায় ঘর ছাড়া বিধবা নারী

আশরাফুল হক, লালমনিরহাট
  • সময় কাল : শনিবার, ৫ জুন, ২০২১
  • ২৪৮ বার পড়া হয়েছে

লালমনিরহাটে প্রতিবেশী এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করে ঘর ছাড়া হয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুল্লী বেওয়া(৭০) নামে এক বিধবা। শনিবার(০৫ জুন) দুপুরে জীবন ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে লালমনিরহাট সদর থানায় একটি সাধারন ডায়েরী (জিডি) করেন ভুল্লী বেওয়ার ছেলে ভোলা মিয়া। বিধবা ভুল্লী বেওয়া লালমনিরহাট সদর উপজেলার হারাটী ইউনিয়নের ঢাকনাই কুড়ারপাড় গ্রামের মৃত ছানে মামুদের স্ত্রী। থানায় দায়ের করা মামলা ও জিডি সুত্রে জানা গেছে, স্বামীর রেখে যাওয়া আড়াই শতাংশ জমির উপর সরকারী ভাবে দেয়া আধাপাকা ঘরে বসবাস করেন বিধবা ভুল্লী বেওয়া। দুই ছেলে তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে রাজধানী ঢাকায় রিক্সা চালান।

সেখান থেকে ছেলেদের পাঠানো সামান্য টাকা আর সরকারী ভাবে পাওয়া বিধবা ভাতায় চলে তার সংসার। বাড়ির পাশে সরকারী কুড়ায় (বিল) হাঁস পালন করেন বৃদ্ধা। দুই বছর আগে সেই কুড়া জবর দখল করতে কুড়ায় বিষ দিয়ে হাঁস মেরে ফেলেন প্রতিবেশী আকবর আলীর ছেলে কুড়িগ্রাম পুলিশ লাইনে কর্মরত কনস্টবল আমিনুর রহমান গংরা। এ ঘটনায় ক্ষতিপুরন চেয়ে পুলিশ সদস্যসহ তার পরিবারের লোকজনের বিরুদ্ধে সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। যা রহস্যজনক ভাবে নথিভুক্ত না হলেও কপাল পুড়ে যায় বিধবা ভুল্লী বেওয়ার। এ অভিযোগ দায়ের করায় ভুল্লী বেওয়ার পক্ষে স্বাক্ষী দেয়া স্বাক্ষী জুয়েল সরকারের ঘর বাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এতেই শেষ নয়, ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশ সদস্য আমিনুর রহমান গত ১ জানুয়ারী ছুটি ছাড়ায় বাড়িতে এসে বিধবা ভুল্লী বেওয়ার সরকারী ঘরটি ভেঙে আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয় বলে অভিযোগ বিধবার।

এ ঘটনায় বিধবা ঘটনাস্থলের ভিডিওসহ সদর থানায় একটি মামলা (জিআর-১২৬/২১) দায়ের করেন। এ মামলায় পুলিশ সদস্য আমিনুরকে প্রধান আসামী করা হয়। কিন্তু লালমনিরহাট সদর থানা পুলিশের খাতায় এ আসামী আমিনুর রহমান পলাতক থাকলেও কুড়িগ্রাম পুলিশ লাইনে তিনি কনস্টবল পদে কর্মরত রয়েছেন। আদালতে জামিন না নিয়ে বীরদর্পে পুলিশে চাকুরী করছেন প্রধান আসামী। পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে দায়ের করা এ মামলা দ্রুত তুলে নিতে ভুল্লী বেওয়া ও তার ছেলেদের বিভিন্ন ভাবে হুমকী দেয়া হচ্ছে। একা বসবাস করা বিধবাকে মেরে কুড়ায় (বিলে) মরদেহ ফেলে রাখার অব্যহত হুমকীর ভয়ে রাতে অন্যের বাড়িতে আত্নগোপনে থাকছেন বিধবা ভুল্লী বেওয়া। মায়ের নিরাপত্তাহীনতার খবরে রিক্সা চালক ছেলে ভোলা মিয়া বাড়িতে এলে তাকেও মেরে ফেলার হুমকী দেয়া হয়। এ ঘটনায় মা ও নিজের নিরাপত্তা চেয়ে শনিবার(৫ জুন) লালমনিরহাট সদর থানায় জিডি (নং-২৫২) দায়ের করেন ভোলা মিয়া। ভুল্লী বেওয়া বলেন, পুলিশের নামে মামলা দেয়ার পর থেকে বাড়িতে রাত কাটাতে পারি না। মামলা তুলে না নিলে আমাকে মেরে কুড়ায় লাশ লুকিয়ে রাখার হুমকী দিচ্ছে। আমাকে দেখতে আসা ছেলেকেও মেরে ফেলার হুমকী দিচ্ছে। গরিবের বিচার আল্লাহ ছাড়া কেউ করে না।

অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টবল আমিনুর রহমান সাংবাদিক পরিচয় পাওয়া মাত্র মোবাইল কেটে সুইচ অফ করে রাখেন। তাই তার মন্তব্য জানা যায়নি। কুড়িগ্রাম পুলিশ লাইনের ইনচার্জ উপ পরিদর্শক (এসআই) রাসেল বলেন, কনস্টবল আমিনুর পুলিশ লাইনে কর্মরত রয়েছেন। মামলার বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করেন নি। এ বিষয়ে সিনিয়র অফিসারদের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি। লালমনিরহাট সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ্ আলম বলেন, পুলিশই নয়, সরকারী চাকুরী জীবীর বিরুদ্ধে কোন মামলা হলে তা তার কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়। বিধবা ভুল্লী বেওয়ার মামলার বিষয়টি অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টবল আমিনুরের কর্মস্থলে পাঠিয়েছি। তারা আইনগত ব্যবস্থা নিবেন। বিধবা ও তার ছেলেকে হুমকীর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। আশরাফুল হক, লালমনিরহাট।

Spread the love
  •  
  •  
  •  

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও খবর
themesba-lates1749691102