মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১, ০৯:১৬ অপরাহ্ন

বগুড়া জুড়েই মোড়ে মোড়ে শীতের ভাপা পিঠা

মোঃ সবুজ মিয়া বগুড়া প্রতিনিধি
  • সময় কাল : বৃহস্পতিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৫৬ বার পড়া হয়েছে

পিঠা পছন্দ করে না এমন মানুষ কম। শীত আসলেই বাঙালির ঘরে ঘরে পিঠা তৈরির ধুম পড়ে। নানান রঙের পিঠা তৈরি করা হয় ঘরে ঘরে। এছাড়া শীতে শহরের অলি গলি কিংবা পাড়া মহল্লায় পিঠা তৈরিতে ব্যস্ত থাকেন অনেক।

বাহারি ধরনের পিঠা তৈরি করে বিক্রি করেও আয় করে থাকেন নিম্ন আয়ের অনেকে। তেমনি একজন বগুড়ার বেগুনি খালা। এই নামে সবার কাছে পরিচিত তিনি। বগুড়া শহরের খান্দার এলাকার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামের সামনে দীর্ঘ দুই যুগ ধরে পিঠা বিক্রি করছেন বেগুনি খালা। নানান ধরনের পিঠা বিক্রি করছেন। রয়েছে ৬জন কর্মচারিও।

পিঠাপিয়াসুুরা জানায়, বেগুনি খালার পিঠা মানেই অন্যরকম স্বাদ। একের পর এক লাইন ধরে পিঠা কিনছের ক্রেতারা। দূর দূরান্ত থেকেও আসছেন অনেকে। বেগুনী খালার পিঠার সুনাম বগুড়াসহ আশপাশের জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। গরম পিঠা খেতে বিকেল থেকে ভিড় লেগে থাকে বেগুনী খালার দোকানে। শহরের বিভিন্ন স্থানে শীতকালীন নানা ধরনের খাবারের দোকান থাকলেও বেগুনী খালার দোকানের পিঠার চাহিদা বেশি।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গিয়ে দেখা যায়, বেগুনি খালার ৬টি মাটির চুলায় পিঠা তৈরিতে ব্যস্ত তার কর্মচারিরা। যেন দম ফেলারও ফুরসত নেই তাদের। কোন চুলায় মিস্টি কুশলী, কোন চুলায় ঝাল কুশলী, আবার একটি চুলায় ভাপা পিঠা, অন্যগুলোতে চিতই পিঠা, তেল পিঠা, চালের ঝাল পিঠাসহ নানা ধরনের পিঠা তৈরি করা হচ্ছে।

নারিকেলের মিস্টি কুশলী প্রতিটি ১০ টাকা, ঝাল কুশলী ৮ টাকা, বুটের কুশলী ৮ টাকা করে, ভাপা পিঠা প্রতিটি ১০ টাকা, চিতই পিঠা ১০ টাকা করে, তেল পিঠা ১০ টাকা করে, চালের ঝাল পিঠা ১৫ টাকা করে, ডিমের ঝাল পিঠা ২৫ টাকা করে বিক্রি হয়।

বেগুনী বেগম জানান, প্রায় দুই যুগ ধরে তিনি পিঠা বিক্রি করে আসছেন। শুরুতে তিনি একলা পিঠা তৈরি করে পিঠা বিক্রি করলেও বর্তমানে ক্রেতার চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে তার দোকানে ৬ জন কর্মচারী রয়েছে। দিন হিসেবে তাদের বেতন দেন। প্রতিদিন ৬-৭ হাজার টাকার পিঠা বিক্রি করে থাকেন। তিনি জানান, শীতের সময় ভালো ব্যবসা হয়। প্রতিদিন সব খরচ মিটিয়ে হাজার টাকার মত লাভ থাকে।

বেগুনী বেগমের দোকানের কর্মচারী কমলা বেগম ও রহমত আলী জানান, শীত আসতেই দোকানে কাজের চাপ অনেক। পিঠা বানানো থেকে সব কিছু করতে হয়। ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে ব্যস্ত সময় পার হয়।

পিঠা বিক্রেতা বেগুনী বেগম জানান, তার স্বামী ইদ্রিস আলী বেপারী, সহযোগী রাবেয়া বেগম, সিফাত, করিমুল্লাহসহ আরো দু’জন প্রত্যেক বছর শীতের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তারা পিঠা-পুলির ব্যবসা করে থাকেন। তাদের সবার বাড়ি শহীদ চাঁন্দু স্টেডিয়াম এলাকায়। তরুণ সহযোগী সিফাত জানান, বেগুনী বেগম ও তার স্বামী ইদ্রিস আলী সম্পর্কে তার দাদা-দাদী।

বেগুনী বেগম বলেন, প্রায় বিশ বছর ধরে শীতকালীন পিঠা-পুলির ব্যবসা করে আসছেন তারা। শীত শেষে অন্য কাজ করেন। তিনি জানান, বিকাল হলেই তারা পিঠার দোকান দিয়ে বসেন।

 

Spread the love
  •  
  •  
  •  

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও খবর
themesba-lates1749691102