মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বেতাগীতে বিবিচিনি স্কুল অ্যান্ড কলেজএ এনসিটিএফ ইস্কুল কমিটি গঠন মহেশখালী পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদে জয় হলেন যারা টঙ্গীতে বগি লাইনচ্যুত, সাড়ে ৩ ঘন্টা পর উদ্ধার কার্যক্রম শুরু সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় পূর্ব শত্রুতার জেরে গৃহবধুকে মারধরের অভিযোগ ইউপি নির্বাচনে নৌকার মাঝি হয়ে শক্ত হাতে বৈঠা ধরবে যুবলীগ নেতা তুহিন উল্লাপাড়ার করতোয়ানদীতে এইচটি ইমাম স্মৃতি ফাইনাল নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত মির্জাপুরে “মানবতার হাতের” উদ্যোগে ফ্রি চক্ষু মেডিকেল ক্যাম্প গাজীপুরে পরকীয়ার জেরে স্ত্রী হত্যা, স্বামী গ্রেপ্তার রূপগঞ্জে জালিয়াতি করে কৃষকের সর্বনাশ কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নার্সদের অবহেলায় ২ শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ

বেঁধে সম্প্রদায় করোনায় ঘুরে বেড়ায় দেশান্তরে ! ওদের কেন নেই স্থায়ী বাসস্থান

মোঃ খাইরুল ইসলাম মুন্না, (বেতাগী) বরগুনা :
  • সময় কাল : রবিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২১
  • ৫৯ বার পড়া হয়েছে

দাঁতের পোকা ফালাই। কোমর ব্যথা, বাত ব্যথায় শিঙা লাগাই। যাদু দেখাই। সাপ খেলা দেখাই। খা-খা-খা বখখিলারে খা, কাঁচা ধইরা খা।’ – প্রচলিত এ কথাগুলো নদীতে ভাসমান যাযাবর বেদে সম্প্রদায়ের নারীদের। সুর ও ছন্দ মিশ্রিত এ কথাগুলোই জানান দিচ্ছে বেদেদের উপস্থিতি। সাধরানত শীতের মৌসুমে ক্ষেতের ধান পাকা শুরু হলেই জীবিকার উদ্দেশ্যে দক্ষিণাঞ্চলের ভাটির দেশের বিভিন্ন এলাকার নদী তীরে বিচিত্র রঙ ও বাহারি ঢঙের ছোট ছোট নৌকার বহর নিয়ে নোঙর ফেলে সম্প্রদায়।

ওদের অনেককেই আবার সড়ক পথে এসে নদী তীরে বাঁশের চেরা ও পলিথিনের সাহায্যে অস্থায়ী ছোট ছোট ডেরা বেঁধে খুপরি ঘরে ঘাঁটি গেড়ে থাকতে দেখা যায়। বর্তমানে রাতের বেলা কারো ঘরে সোলার বাতি আবার কারো ঘরে চার্জার লাইট ব্যবহার করতে দেখা যায়। এ সময় কৃষকের ঘরে ঘরে গোলা ভরা চাল ও হাতে থাকে টাকা। তাই এ সময়ে এ অঞ্চলে বেদেদের ব্যবসা হয়ে ওঠে জমজমাট। এ কারণেই শীতকালে ওরা আসে ভাটির দেশে। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ বেদেদেরকে বাইদ্যা বা বাইদানী বলে ডাকে।হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখ নিয়েই শত শত বছর ধরে জীবনের সাথে সংগ্রাম করে ওরা আজও টিকে আছে।

আধুনিক সমাজ ও সভ্যতার ধার ধারে না ওরা। নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রেখে বেদে সমাজের প্রচলিত ব্যবসাকেই ওরা আঁকড়ে ধরে বেঁচে আছে। শত কষ্টের মাঝেও এতেই যেন ওরা সমস্ত সুখ খুঁজে পায়। বেদে সমাজের নারীরাই সংসারের মূল চালিকাশক্তি। নারীরা দূর-দূরান্তের গ্রাম-গঞ্জে গিয়ে পরিশ্রম করে অর্থ উপার্জন করতে অভ্যস্ত। নারীরা রোগের জন্য মানুষের কাছে তাবিজ, কবচ, ওষুধ, কড়ি বিক্রি করে এবং মানুষকে যাদু ও সাপখেলা দেখিয়ে অর্থ উপার্জন করে। আর পুরুষরা পাখি শিকার করে এবং সাপ ও মাছ ধরে অর্থ উপার্জন করে। এভাবেই বেদেরা জীবিকা নির্বাহ করে থাকে।কুসংস্কার ও উদাসীনতার কারণে বেদেরা শিক্ষার আলো ও চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত থাকায় শতাব্দীর পর শতাব্দী প্রজন্মের পর প্রজন্ম অন্ধকারেই পড়ে থাকে। ফলে সচেতনতার অভাবে বেশিরভাগ সময়েই ওরা স্বাস্থ্যহীনতায় ভোগে। এমনকি অনেক সময় ওদের কেউ কেউ কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে অকালে মৃত্যুবরণও করে। শিক্ষার আলো না থাকায় বাইরের জগত থেকে ওরা আলাদা। বহির্বিশ্ব সম্পর্কে জানার আগ্রহও ওদের নেই। ওরা দু’বেলা দু’মুঠো খেয়ে পরে বেঁচে থাকার সংগ্রাম করছে। বেদেরা শীতের মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলের একেক এলাকায় ১ মাস করে ৫-৬ মাস থাকে। বর্ষামৌসুমে ওদের ব্যবসায় ভাটা পড়ে। সে কারণে জীবিকার উদ্দেশ্যে ওরা আবার চলে যায় উত্তরবঙ্গে। বছরের প্রায় পুরোটা সময়ই ওরা নদীতে নৌকায় ভেসে কাটায়।জলে ভেসে চলা নৌকাই ওদের ঘর-বাড়ি।

ওদের জন্ম-মৃত্যু-বিয়ে এ তিনই হয় নৌকায়। নদী ও নৌকা এ দুটিই ওদের জীবনের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে। জলে বাস করে প্রকৃতির সাথে সংগ্রাম করে ওরা টিকে থাকে প্রতিনিয়ত। এভাবেই চলে তাদের জীবনযাপন। নদী তীরের সৌন্দর্যকে যেন আরও বর্ধিত করেছে বেদে সম্প্রদায়ের সারিবদ্ধ এই ছোট ছোট ডেরা। সকালে নারীরা ডেরা থেকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি বা উপকরণ পুরনো কাপড়ে গাট্টি বেঁধে মাথায় নিয়ে দল বেঁধে ছুটে চলেছে গ্রামের দিকে। কিছু দূর গিয়ে ২-৩ জন করে বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে শহর থেকে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে ওরা পৌঁছায়। সেখানে ওরা বাড়ির সামনের পথে হেঁটে হেঁটে মন মাতানো সেই ছন্দময় কথাগুলো সুরে সুরে বার বার বলে। এতে আকৃষ্ট হয়ে বাড়ির নানা বয়সের নারী-পুরুষ ও ছেলে-মেয়েরা বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি ও বিনোদন পাবার আশায় বাইদানীদেরকে ডেকে বাড়ি নিয়ে যায়। বাড়িতে গিয়ে ওরা দাঁত ও বাত ব্যথাসহ বিভিন্ন রোগীদেরকে তাবিজ, কবচ, ওষুধ, কড়ি দেয় এবং কখনো কখনো যাদু ও সাপখেলা দেখায়। বিনিময়ে চাল অথবা টাকা নিয়ে ওরা আবার সন্ধ্যার আগেই ডেরায় ফিরে আসে। এদিকে, খুব ভোরে পুরুষরা পাখি শিকারের উদ্দেশ্যে ডেরা থেকে বেড়িয়ে পড়ে। ওদের প্রত্যেকের সঙ্গে আছে স্টিলের বাট কিংবা গাছের ডাল ও রাবারের সাহায্যে তৈরি একটি ছটকা এবং পর্যাপ্ত মারবেল গুলি।

মূলত এই ছটকা ও মারবেল গুলি দিয়েই ওরা পাখি শিকার করে থাকে। কিছু পাখি ওরা খায় এবং বাকিগুলো বিক্রি করে দেয় স্থানীয় কোন বাজারে। ওরা বর্তমানে লুকিয়ে লুকিয়ে ছেলে-মেয়েদেরকে ওদের পেশাগত বিদ্যায় পারদর্শী করে তোলে, একতাবদ্ধ হয়ে থাকা ওদের জীবনের একটা বৈশিষ্ট্য। বেদে সমাজে সরদারের আদেশ-নিষেধ পালন করাই যেন ওদের ধর্ম। সরদারের অনুমতিক্রমে ছেলে-মেয়েদের বিয়েশাদি ওদের নিজেদের মধ্যেই হয়ে থকে।

ওরা বাইরের মানুষদের সাথে কম মেশে। বর্তমানে দেখা যায় মহামারী করোনায় এরা চলছে নির্ভিগ্নে,স্বাস্থ্য সচেতনতার নাম মাত্র নেই এদের জীবনে, গ্রামে ওদের ব্যবসা কম থাকাতে এরা এখন দল বেধে তিন চারজন করে বারো থেকে আঠারো বছরের মেয়েরা কখন এর চেয়েও বেশি বয়সের মহিলাদের দেখা যায় তারা বাজারে এসে দোকানে দোকানে গিয়ে হাত পাতে,নানান কৌশলে অর্থ হাতিয়ে নেয় এরা এদেরই একদলকে বেতাগী প্রেসক্লাবে এসে ভিক্ষা চাইতে দেখলে বেতাগী প্রেসক্লাবের সম্পাদক লায়ন শামিম সিকদার তাদেরকে ঢেকে মাস্ক পড়তে উৎসাহ প্রধান করেন ও তাদেরকে মাস্ক কিনে দেয় এবং নগদ অর্থ দিয়ে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেয়।

Spread the love
  •  
  •  
  •  

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও খবর
এই নিউজ পোর্টাল এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ ।  About Us | Contact Us | Terms & Conditions | Privacy Policy
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102