বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১, ১১:০৮ পূর্বাহ্ন

ভাঙ্গুড়া খানমরিচ ইউপি চেয়ারম্যানের দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

Reportar Name
  • সময় কাল : মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২০
  • ২১৭ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ আছাদুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি টাকা আত্মসাত ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আলোকে সংবাদ সম্মেলন।
গতকাল রবিবার বিকেলে খানমরিচ ইউনিয়নের ময়দানদিঘী বাজার মাঠে ২নং ওয়ার্ড মেম্বর আলহাজ্ব মোঃ জামাল উদ্দিন এর সভাপতিত্বে পরিষদের সকল মেম্বর ও গ্রাম বাসীর আহবানে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত।

সংবাদ সম্মেলনে, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা চেয়ারম্যান আছাদুর রহমানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাঠ করেন।
লিখিতঅভিযোগ ও ভুক্তভোগী বক্তরা বলেন, চলতি অর্থ বছরে খানমরিচ ইউনিয়নে ৪০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পে ২০৭ জন শ্রমিকের ব্যাংক স্বাক্ষর জাল জালিয়াতি করে ১৪ লাখ ৪৯ হাজার টাকা আত্মসাৎ, ইউনিয়নের ৫২১ জন ভিজিডি কার্ডধারী মহিলাকে ৩০ কেজি করে চাল দেয়ার সময় তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে প্রতিমাসে ৫০ টাকা করে আদায় করেন, টাকা দিতে না পারলে তাদেরকে চাল দেয়া হয় না। ইউনিয়নের ঘোষবেলাই গ্রামের চায়না দাস, দাসবেলাই গ্রামের হাজেরা খাতুন সহ বেশ কিছু ভ’য়া নাম দেখিয়ে ভিজিডি কার্ডের চাল চেয়ারম্যান নিজেই ভোগ করেন। ‘জমি আছে ঘর নাই’ প্রকল্পেও নানা অনিয়ম করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান। তিনি আর্থিক স্বচ্ছলতা থাকা সত্ত্বেও নিজস্ব লোকদেরকে সরকারি ঘর পাইয়ে দিয়েছেন।

সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে রাস্তা নির্মাণেও তার বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অনিয়মের অভিযোগ। ইউনিয়নের শ্রীপুর থেকে পরমানন্দপুর, বড়পুকুরিয়া থেকে দুধবাড়িয়া, বৈদ্ধমরিচ থেকে কাজীপাড়া, মাদারবাড়িয়া থেকে রঘুনাথপুর ও কালিয়ানজিরা থেকে মুন্ডুমালা গ্রাম পর্যন্ত সরকারি টাকায় রাস্তা পুনঃর্নিমাণের সময় গ্রামের জনগণ, মসজিদ, মাদ্রাসা ও সামাজিক তহবিল থেকে জোরপূর্বক লাখ লাখ টাকা আদায় করেছেন চেয়ারম্যান। এছাড়া ইউনিয়নের সাতবাড়িয়া হতে সমাজ গ্রাম পর্যন্ত কর্মসৃজন প্রকল্পের মাধ্যমে রাস্তা পুনঃর্নিমাণ করে একই রাস্তায় আরেকটি প্রকল্প দেখিয়ে ২.২৫০ মেট্রিকটন চাল আত্মসাৎ করেন চেয়ারম্যান।
ইউনিয়নের পলাশপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম, রমনাথপুর গ্রামের রবিউল ইসলাম, দোহারি গ্রামের মোমিন সংবাদ সম্মেলনের সময় তাদের বক্তব্যে বলেন, তাদের কে পরিষদে আটকে রেখে অমানবিক শারীরিক নির্যাতন করে এবং ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। চলনবিল অধ্যুষিত নিমগাছি প্রকল্পের পুকুর চাষীদের কাছ থেকেও তিনি জোরপূর্বক লাখ লাখ টাকা আদায় করেন বলেও অভিযোগ উঠে আসে চেয়ারম্যান আছাদুর রহমানের বিরুদ্ধে।
অভিযোগে আরও জানা যায়, উত্তরাধিকার সনদ দিতে তার নির্দেশে ১০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আদায়, জন্ম নিবন্ধন করতে সরকারি ফি ২৫/৫০ টাকার পরিবর্তে ২৫০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায়, গ্রাম আদালতে বিচার পেতে ১০ থেকে ২০ টাকা সরকার নির্ধারিত ফি’র পরিবর্তে তিনি ১৫০০-২০০০ টাকা করে আদায় করেন।
ইউপি সদস্যরা বলেন, এলজিএসপি প্রকল্প ও ইউনিয়ন পরিষদের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিকাশ নিয়ে কারো সঙ্গে আলোচনা করেন না উক্ত চেয়ারম্যান। সম্প্রতি এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ইউপি সদস্যরা প্রতিবাদ করলে তাদেরকে ইউনিয়ন পরিষদে প্রবেশ নিষেধ করে দেয় চেয়ারম্যান। এঅবস্থায় নিরুপায় হয়ে ইউপি সদস্যরা গত বৃহস্পতিবার পাবনা দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলন সময় হাজারো জনতা জেলা প্রশাসক সহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার কারী চেয়ারম্যান আছাদুর রহমানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি সহ অপসরনের দাবী জানান।

Spread the love
  •  
  •  
  •  

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও খবর
themesba-lates1749691102