বুধবার, ১২ মে ২০২১, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে ৯ মাসের শিশুকে আছাড় দিয়ে মেরে ফেললেন বাবা! মানুষের ভিরে জায়গা নেই শিমুলিয়া ঘাটে সিরাজগঞ্জে রক্ত কণিকা ব্লাড ডোনেশন এর ঈদ সামগ্রী বিতরণ মানবিক সহায়তা পেল ১ হাজার দরিদ্র ও দুঃস্থ পরিবার আমবাড়ীতে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে উদ্বোধন এমপি উল্লাপাড়া-সলঙ্গা ও রামকৃষ্ণপুর বাসীকে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন হিরো চেয়ারম্যান ঈদের আগাম শুভেচ্ছা জানালেন সভাপতি-সম্পাদক ছাত্রলীগে এর প্রথম সভাপতি দবিরুল ইসলামের প্রতিকৃতি স্থাপনের জন্য স্মারকলিপি প্রদান শাহজাদপুরে সাবেক এমপি চয়ন ইসলাম ও এ্যাড. আব্দুল হামিদ লাবলু’র ঈদ সামগ্রী বিতরণ শাহজাদপুরে উই উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে দুঃস্থ তাঁতীদের মাঝে ঈদ সামগ্রী ও ইফতার বিতরণ

ভয়াল ২৯ এপ্রিল ১৯৯১ সালের এক ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আঘাতে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়েছিল বাংলার উপকূল

মিসবাহ ইরান (স্টাফ রিপোর্টার)
  • সময় কাল : বৃহস্পতিবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২১
  • ৫৭ বার পড়া হয়েছে

ভয়াল ২৯ এপ্রিলে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আঘাতে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়েছিল বাংলার উপকূলও জনপদ।১৯৯১ সালের ২৯শে এপ্রিল বাংলাদেশে দক্ষিণপূর্ব চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রায় ২৫০কিমি/ঘণ্টা বেগে আঘাত করে।এই ঘূর্ণিঝড়ের ফলে ৬মিটার (২০ ফুট) উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত করে এবং এর ফলে প্রায় ১,৩৮,০০০ মানুষ নিহত হয় এবং প্রায় ১ কোটি মানুষ তাদের সর্বস্ব হারায়।

১৯৯১ সালের ২২ এপ্রিল মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে একটি গভীর নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। ২৪ এপ্রিল নিম্নচাপটি ০২বি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয় এবং উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে থাকে। অগ্রসর হওয়ার সময় এটি আরও শক্তিশালী হয়। ২৮ ও ২৯ এপ্রিল এটির তীব্রতা বৃদ্ধি পায় এবং এর গতিবেগ পৌঁছায় ঘণ্টায় ১৬০ মাইলে। ২৯ এপ্রিল রাতে এটি চট্টগ্রামের উপকূলবর্তী অঞ্চলে ঘণ্টায় ১৫৫ মাইল বেগে আঘাত করে। স্থলভাগে আক্রমণের পর এর গতিবেগ ধীরে ধীরে কমতে থাকে এবং ৩০ এপ্রিল এটি বিলুপ্ত হয়। এই ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাংলাদেশের ১৯টি জেলার ১০২টি উপজেলা। তবে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সন্দ্বীপ, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুতুবদিয়া, খেপুপাড়া, ভোলা, টেকনাফ। ১৯৯১ সালের এই ঝড়ে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৮২ জন মানুষ মৃত্যুবরণ করে এবং প্রায় সমপরিমাণ মানুষ আহত হয়।নিহতের সংখ্যা বিচারে স্মরণকালের ভয়াবহতম ঘূর্ণিঝড়গুলোর মধ্যে ৯১-এর এই ঘূর্ণিঝড় একটি। ৯১-এর এই ভয়াল ঘটনা এখনও দুঃস্বপ্নের মতো তাড়িয়ে বেড়ায় উপকূলবাসীকে।

মহেশখালীর ধলঘাটার বাসিন্দা আজিজুল হক সেদিনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের পরদিন লাশের স্তূপ জমে গিয়েছিল। শুধু মানুষ নয়, গরু-ছাগল-মহিষ আর মানুষের মৃতদেহে একাকার হয়ে গিয়েছিল সেদিন। কোনও রকম ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া মানুষ ও পশু মাটি চাপা দেওয়া হয়েছিল সেদিন।

ধারণা করা হয়, এই ঘূর্ণিঝড়ের কারণে প্রায় ১ দশমিক পাঁচ বিলিয়ন ডলালের ক্ষতি হয়। সাগর ও নদীর উপকূল প্লাবিত হয়। কর্ণফুলি নদীর তীরে কংক্রিটের বাঁধ থাকলেও এটি জলোচ্ছ্বাসে ধ্বংস হয়। চট্টগ্রাম বন্দরের ১০০ টন ওজনের একটি ক্রেন ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে স্থানচ্যুত হয় এবং আঘাতের কারণে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। বন্দরে নোঙর করা বিভিন্ন ছোট বড় জাহাজ, লঞ্চ ও অন্যান্য জলযান নিখোঁজ ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার মধ্যে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর অনেক যানও ছিল। এছাড়াও প্রায় ১০ লাখ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ২৯ এপ্রিল রাতে এটি চট্টগ্রামের উপকূলবর্তী অঞ্চলে ২৫০ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানে, যা ক্যাটাগরি-৪ ঘূর্ণিঝড়ের সমতুল্য। স্থলভাগে আক্রমণের পর এর গতিবেগ ধীরে ধীরে হ্রাস পায় এবং ৩০ এপ্রিল এটি বিলুপ্ত হয়।

প্রতি বছরের মতো বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন স্মরণ করে এই দিনটিকে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও খবর
themesba-lates1749691102