সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০৮:৫২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পপুলার লাইফের প্রধান কার্যালয়ে ক্লোজিং উপলক্ষে ব্যবসা উন্নয়ন সভা ও বীমা দাবীর চেক হস্তান্তর সিরাজগঞ্জে স্বাধীনতার সূর্বণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে- মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান সীতাকুণ্ডে মসজিদকে দুই ভাগে বিভক্ত করার প্রতিবাদে মুসল্লিদের বিক্ষোভ গাইবান্ধায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে সিভিল সার্জনের ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা ভালুকায় আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী দিবস পালন কামারখন্দে মেম্বার পদপ্রার্থীর গণসংযোগ কামারখন্দে মেম্বার পদপ্রার্থীর গণসংযোগ গাজীপুরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ  ৬ ডিসেম্বর লালমনিরহাট হানাদার মুক্ত দিবস! কোটচাঁদপুরে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ-২০২১ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

মহেশখালীতে অপরাধীদের আত্মসমর্পণ, গুলাবারুদ জমা তারপরও খুন

মিসবাহ ইরান,
  • সময় কাল : বুধবার, ১০ নভেম্বর, ২০২১
  • ৫৫ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজার মহেশখালীতে খুন ও জলদস্যুর মতো ঘটনা যেনো আর না ঘটে তার জন্য আয়োজন করা হয়েছিল আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানটি। সাগরদ্বীপ মহেশখালী আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে হাজির হয়েছিল প্রায় ১০ হাজার মানুষ। মহেশখালী ও কুতুবদিয়া এলাকার ৪৩ দস্যু আত্মসমর্পণ করবে, তা দেখতেই এই ভিড় ছিল।

৯৪টি অস্ত্র ও গোলাবারুদ তুলে দিয়ে একে একে ৪৩ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করেন।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান দস্যুদের হাত থেকে অস্ত্রগুলো গ্রহণ করেন। এ সময় সঙ্গে ছিলেন র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ।

এখন প্রশ্ন হলো যখন যারা আত্মসমর্পণ করেছিল তারা কী সবাই আদৌও জলদস্যু ছিল নাকি পারিবারিক দ্বন্দ্বে এ কর্মকাণ্ড জড়িত ছিল? পরিবারের প্রভাব বিস্তার বা প্রতিপক্ষের সম্পত্তি দখল আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে কেনো বলা হয়নি? শুধু বলা হয়েছে জলদস্যু! অথচ তারা ছিল এলাকার শীর্ষস্থানীয় সন্ত্রাসী। তারা পেশি শক্তি দেখিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করে খুনসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতো। প্রভাব দেখিয়ে প্রতিপক্ষের সম্পত্তি ভোগ দখল করতো। আত্মসমর্পণকারী আসামীদের মামলার এজহারে কয়জন জলদস্যুর নাম ছিল! কেনো তাদের পৃথক করে দেখানো হয়নি? এমন কতোগুলো আসামী ছিল যাদের কোনো জলদস্যুর মামলা ছিলোনা, কখনো জল সীমানার আশেপাশেও ছিলোনা। মহেশখালী মুষ্টিমেয় কয়েকজন ছাড়া জলদস্যুর নাম নাই।তবে তাদের সবাইকে আত্মসমর্পণে জলদস্যুর নাম দেখানো হয়। কিন্তু গুষ্টিগত হানাহানি,খুন ও হত্যা এগুলো উল্লেখ ছিলোনা।

আর আত্মসমর্পণ করতে যারা সহযোগিতা করেছিল সেসময়, এখন কী তারা খুঁজ খবর নেয় তাদের! তারা কী খায়, কী করে ও তাদের আয়ের উৎস কী! তাদের জন্য কী কোন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছিল! নাকী তারা ঠিক আগের জায়গায় অবিচল আছে। তাদের ইশারায় কী হচ্ছে? আত্মসমর্পন করা সে জলদস্যুদের কতটুকু সহযোগিতা করা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে? আত্মসমর্পণ করার পর যখন তারা এলাকায় আসলো তাদের কী তদারকি করা হয়েছিল?

সেসময় স্বাগত বক্তব্যে র‌্যাব-৭-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ বলেছিলেন, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া উপকূলের ৬টি বাহিনীর ৪৩ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করেন। তাঁরা জমা দিয়েছেন ৯৪টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৭ হাজার ৬৩৭টি গোলা । লে. কর্নেল মিফতাহ আরও বলেছিলেন, ২০০৪ সাল থেকে র‌্যাব মহেশখালী-কুতুবদিয়াসহ কক্সবাজার অঞ্চলে ১৮৭টি অভিযান চালিয়ে ২০৮ জলদস্যু ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় উদ্ধার করা হয় দেশি-বিদেশি ৬৮২টি অস্ত্র ও ৭ হাজার ৯৯০টি গুলি। এ সময় র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ১১ জন দস্যু ও সন্ত্রাসী নিহত হয়। এর ফলে জলদস্যু ও সন্ত্রাসীরা অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণে বাধ্য হয়েছে।

জলদস্যুর সব অস্ত্র যদি জমা বা উদ্ধার হয়, তাহলে কালারমার ছড়ায় পর পর দুজনকে কিভাবে হত্যা করা হয় (আলাউদ্দিন ও রুহুল কাদের রুবেল )। নাকী এটাও জলদস্যুর আওতায় পড়ে ? নাকী এলাকায় প্রভাব বিস্তার করার জন্য এ হত্যাকান্ড!

এ আত্মসমর্পণে উল্লেখ ছিলো সমুদ্রে মৎস্যজীবীদের মাছধরা নিরাপদ এবং এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্ত রাখতে র‌্যাব-৭ জলদস্যুদের এই কর্মসূচির আয়োজন করে। উপজেলার বিভিন্ন উপকূল থেকে নারী-পুরুষ দল বেঁধে সমাবেশস্থলে আসে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশাল মাঠ ভরপুর হয়েছিল। লোকজনের নজর ছিল জলদস্যুদের দিকে। তারা দস্যুমুক্ত মহেশখালী চায়।

এলাকাবাসীর মতে আসলে সিন্ডিকেট এর আওতায় একটা মহল, মোটা অংকের টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তখন বলেছিলেন, যাঁরা আত্মসমর্পণ করেছেন, তাঁদের হত্যা ও ধর্ষণ মামলা ছাড়া অন্যান্য মামলা থেকে পর্যায়ক্রমে মুক্তি দেওয়া হবে। আর যাঁরা আত্মসমর্পণ করেননি, তাদের স্থান এ দেশে আর হবে না। গডফাদারদের তালিকাও আমরা হাতে পেয়েছি। তাদেরও রেহাই দেওয়া হবে না।

আসলে তারা কী রেহায় পেয়ে এ হত্যাকান্ডে জড়িত হচ্ছে। কেনো আবার খুনের মহড়ায় মহেশখালী।ক্ষোভ জমেছে মহেশখালী সাধারণ জনগনের। এতো অস্ত্র জমা দিয়ে খুন করার জন্য আবার কোথায় পেল এ অস্ত্র? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফাঁকি দিয়ে আসল অস্ত্র জমা দেয়নি। এখনো প্রকাশ্যে চলে অস্ত্রের মহড়া। তাই আসামীদের তদারকি করে একটি কমিটির আওতায় এনে তাদের পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

তখন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়েছিল কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক, কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল মোস্তফা, কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান প্রমুখ।

Spread the love

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও খবর
এই নিউজ পোর্টাল এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ ।  About Us | Contact Us | Terms & Conditions | Privacy Policy
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102