মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন

যৌতুক না পেয়ে স্বামী স্ত্রী’র কপালে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুঁচিয়ে চিহ্ন এঁকে দিয়েছে!

আশরাফুল হক, লালমনিরহাট,
  • সময় কাল : রবিবার, ১৩ মার্চ, ২০২২
  • ৯২ বার পড়া হয়েছে।

যৌতুক না পেয়ে পাষন্ড স্বামী স্ত্রীর কপালে ধারালো অস্ত্র দিয়ে দিয়ে খুঁচিয়ে চিহ্ন এঁকে দিয়েছে। সারা শরীরে রক্তাক্ত দগদগে ঘা। ডাং মাইরের কালচে বর্বর নির্যাতনের ক্ষত। এমন পৈশাচিক কায়দায় নির্যাতনের শিকার হয়ে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক গৃহবধু। এ ঘটনায় রবিবার সদর থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৩ বছর আগে জেলা সদরের হারাটি ইউনিয়নের হিরামানিক গ্রামের বাদশা মিয়ার ছেলে মোঃ সিরাজুল ইসলাম(২৯)’র সাথে প্রতিবেশী সেলিনার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় ছেলে বেকার ছিল। তাই সরকারি চাকরি নিয়ে দিতে ৫ লাখ টাকা নগদ, আসবাবপত্র, স্বর্ণালংকার সহ নতুন সংসারের জন্য গৃহস্থালি সবকিছু কিনে দেয় যৌতুক হিসেবে মেয়ের কৃষক বাবা। সংসার ভালভাবে চলে আসছিল। সম্প্রতি ছেলে ঢাকায় সরকারি চাকুরি পায়। ঢাকায় স্বামী- স্ত্রী বসবাস করতে গেলে ৫ লাখ টাকা প্রয়োজন। এই বলে শশুরের পরিবারকে টাকা আদায়ে নানা ভাবে চাপ দেয়। অর্থ না পেয়ে এবার পাষন্ড স্বামী বর্বর অত্যাচার চালায় স্ত্রী উপর।শুক্রবার রাতে শশুর বাড়িতে স্বামী সিরাজুল ইসলাম, শাশুড়ি মোছাঃ শিরিনা বেগম(৪৫) ও শশুর মোঃ বাদশা মিয়া(৪৭) ঐ গৃহবধূর উপর পৈশাচিক নির্যাতন চালায়। যৌতুক না পেয়ে স্বামী, শশুর, শাশুড়ি মিলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কপালে ক্ষত চিহ্ন এঁকে দেয়। সারা শরীরে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে রক্তাক্ত যখম করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশী সেলিনাকে হাসপাতালে দেখতে এসে বলেন, গৃহবধুর সমস্ত শরীরে দগদগে কালচে আঘাতের চিহ্ন দেখে বোঝা যায় কি নির্মম অত্যাচার চলেছে তার সাথে। এ সময় ঘরে নির্যাতিতা গ্রহবধুকে আটকে রাখে অভিযুক্তরা। গৃহবধুর আত্ম চিৎকারে প্রতিবেশীরা স্থানীয় ইউপি সদস্যকে খবর দিয়ে ডেকে এনে গ্রহবধুকে উদ্ধার করে বাবার বাড়িতে পাঠায়। গৃহবধুর স্বজনরা তাঁকে বাঁচাতে রক্তাক্ত যখম ও আঘাতের চিহ্নি নিয়ে লারমনিরহাট সদর হাসপতালে ভর্তি করায়। সেখানে সজ্ঞাহীন গৃহবধুর চিকিৎসা চলছে।

হাসপাতালের তত্বাবোধায়ক ও চিকিৎসক ডাঃ মোঃ রমজান আলী জানান, গৃহবধু হয়ত শারীরিক সুস্থ হবে কিন্তু পৈশাচিক নির্যাতনের ফলে মানসিকভাবে সুস্থ হতে দীর্ঘ সময় ধরে কাউন্সিলিং প্রয়োজন হবে।
এ ঘটনায় গৃহবধু মোছাঃ সেলিনা বেগম(২১) বাদি হয়ে শনিবার রাতে সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। আজ রবিবার সকালে মামলাটি তদন্ত করতে পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনা স্থলে গিয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত সিরাজুল এর সাথে কথা বলতে তার বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। অন্যান্য অভিযুক্তরা এ বিষয়ে সাংবাদিকদের কোনো বক্তব্য দেয়নি।
লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহ আলম জানান, গৃহবধুর অভিযোগ রাতে পেয়েছি। স্বামী স্ত্রীর বিষয় একজন কর্মকর্তাকে তদন্ত করতে ঘটনা স্থলে পাঠিয়েছি। তদন্ত প্রতিবেদন পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

Spread the love

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের আরও খবর
এই নিউজ পোর্টাল এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ ।  About Us | Contact Us | Terms & Conditions | Privacy Policy
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102