রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ০৮:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

লালমনিরহাটে তিস্তার দুর্গম চরে হাত পা বাঁধা নারীর মৃতদেহের পরিচয় মিলেছে। প্রেমিককে বিয়ের চাপ দেয়ায় তাঁকে হত্যা করা হয়। ঘাতক স্বামী-স্ত্রীর স্বীকারোক্তি

Reportar Name
  • সময় কাল : মঙ্গলবার, ১০ নভেম্বর, ২০২০
  • ৯৬ বার পড়া হয়েছে

মিজানুর রহমান মিজান, লালমনিরহাট

লালমনিরহাটের তিস্তা নদীর দূর্গম চরে হাত পা ও গলায় রশি প্যাচানো নারীর সন্ধান মিলেছে। এই মহিলার নাম শাহিনা বেওয়া (৪০)। এ হত্যাকান্ডে ছড়িত স্বামী স্ত্রী কে পুলিশ আটক করেছে। ঘাতক স্বামী-স্ত্রী দবিয়ার (৪০) ও তাঁর স্ত্রী শাহিনা বেগম(৩৩) আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবান বন্দি দিয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আফাজ উদ্দিন এর আদালত তাদের জবানবন্দি গ্রহন করে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, লালমনিরহাট সদর উপজেলার খোচাবাড়ি মহল্লার মৃত মহির উদ্দিনের ছেলে দবিয়ার রহমান(৪০) ও তার স্ত্রী শাহিনা বেগম(৩৩)।এই দম্পত্তি মিলে গ্রাম্য কবিরাজ শাহীনা বেওয়াকে হত্যা করে। তারা হত্যা কান্ডকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে লাশ তিস্তার নদীর দূর্গম চর পাকার মাথায় ফেলে আসে। লালমনিরহাট সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) শাহ আলম জানান, মৃত শাহিনা বেওয়া (৪০) পেশায় একজন গ্রাম্য কবিরাজ ছিলেন। তার রোগী ছিলো সদর উপজেলার খোচাবাড়ি মহল্লার দবিয়ার রহমান। দবিয়ার কবিরাজ শাহীনা বেওয়ার কাছে চিকিৎসা নিতে গিয়ে তাঁর প্রেমে পরে যায়। এক পর্যায়ে দুই জনের মধ্যে শারীরিক সর্ম্পক গড়ে উঠে। স্ত্রী থাকার পরেও কবিরাজ শাহিনা বেওয়ার সাথে সম্পর্ক রেখে চলে। এই পরকিয়া প্রেমের কারণে কবিরাজ শাহীনা বেওয়া দবিয়ারকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। কয়েক দিন আগে কবিরাজ শাহীনা বেওয়া দবিয়ারকে বিয়ে করার জন্য তার বাড়িতে এসে উঠে। এই সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি দবিয়ারের স্ত্রী শাহীনা বেগম(৩৩)। নিহত কবিরাজ শাহীনা বেওয়া বিয়ের জন্য প্রায় সময় দবিয়ারের বাড়িতে অবস্থান নেয়। এতে অতিষ্ট হয়ে দবিয়ার রহমান ও তার স্ত্রী শাহিনা বেগম। তারা তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করে। গত শুক্রবার(৬ নভেম্বর) কৌশলে কবিরাজ শাহীনা বেওয়াকে ডেকে নিয়ে পরকীয়ার জেরে প্রেমিক দবিয়ার ও তাঁর স্ত্রী শাহীনা বেগম তাঁকে হত্যা করে লাশ তিস্তা নদীর চর পাকার শাথায় ফেলে দিয়ে আসে। গত শনিবার(৭ নভেম্বর) সকালে তিস্তার চরে হাত পা ও গলায় রশি প্যাচানো অবস্থায় কৃষি শ্রমিকরা এক নারীর লাশ দেখতে পেয়ে থানা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে নিহতের আতœীয়স্বজনরা মৃত শাহিনা বেওয়ার লাশ সনাক্ত করে। এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহত শাহিনা বেওয়ার ভাই একরামুল হক বাদি হয়ে অজ্ঞাত আসামী করে সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। পুলিশ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাত্র ৩৬ ঘন্টার মধ্যে কুলুলেচ এই হত্যা মামলার রহস্য বের কওে ফেলে। পরে এই হত্যাকান্ডের মুলহোতা পরকীয়া প্রেমিক দবিয়া ও তার স্ত্রী শাহিনা বেগমকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করে। পরে ঘাতক স্বামী স্ত্রী হত্যার সাথে জড়িত থাকার স্বীকারোক্তি মূলক জবান বন্দি আদালতের বিচারকে দেয়।

Spread the love
  •  
  •  
  •  

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও খবর
themesba-lates1749691102