মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় পূর্ব শত্রুতার জেরে গৃহবধুকে মারধরের অভিযোগ ইউপি নির্বাচনে নৌকার মাঝি হয়ে শক্ত হাতে বৈঠা ধরবে যুবলীগ নেতা তুহিন উল্লাপাড়ার করতোয়ানদীতে এইচটি ইমাম স্মৃতি ফাইনাল নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত মির্জাপুরে “মানবতার হাতের” উদ্যোগে ফ্রি চক্ষু মেডিকেল ক্যাম্প গাজীপুরে পরকীয়ার জেরে স্ত্রী হত্যা, স্বামী গ্রেপ্তার রূপগঞ্জে জালিয়াতি করে কৃষকের সর্বনাশ কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নার্সদের অবহেলায় ২ শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ কুড়িগ্রামে মসজিদের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন কর‌লেন জেলা পরিষদের চেয়ারম‌্যান মহেশখালী ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা, নিহত ১ এবং আহত ৪ কোনাবাড়ীতে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ  

লালমনিরহাটে পরকীয়ার বলি হলো স্বামী জলিল !

আশরাফুল হক, লালমনিরহাট :
  • সময় কাল : বুধবার, ২৮ জুলাই, ২০২১
  • ৫২ বার পড়া হয়েছে

পরকীয়ার কারনেই স্বামী জলিলকে হত্যা করা হয়েছে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনদিন পর স্বীকার করলেন স্ত্রী মমিনা বেগম ও পরকীয়া প্রেমিক গোলাম রব্বানী। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যায় ব্যবহৃত আলামত সংগ্রহ করে লালমনিরহাট পুলিশের বিশেষ টিম।

বুধবার (২৮ জুলাই) দুপুরে পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) মারুফা জামাল হত্যার সাথে জড়িত স্ত্রী মমিনা বেগম ও পরকীয়া প্রেমিক পল্লী চিকিৎসক গোলাম রব্বানীকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণের কথা নিশ্চিত করেন। স্ত্রী মমিনা বেগম লালমনিরহাট পৌরসভার সাপটানা মাজাপাড়া এলাকার মোল্লা মিয়ার কন্যা এবং মৃত স্বামী আব্দুল জলিল সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের শাহার আলীর ছেলে। উল্লেখ্য যে, এর আগে মৃত জলিলের তিনদিনের কুলখানি অনুষ্ঠান শেষে জলিলের বড়ভাই আব্দুর রশিদ ছোট ভাইয়ের স্ত্রী মমিনা বেগমকে বলে তুমি আমাদের সাথে গ্রামের বাড়িতে চলো, এ কথা শোনার সাথে সাথে মমিনা বেগম রেগে গিয়ে বলেন, আমি আপনাদের বাড়ি আর কোনদিনই যাব না। আমি এখানেই আবার বিয়ে করবো এবং এখানেই থাকবো। মমিনা বেগমের নিকট এ কথা শোনার পর মৃত জলিলের বড়ভাই রশিদের সন্দেহ হয়। সন্দেহের কারনেই পরের দিন (২৫ জুলাই) তার ছোট ভাই জলিলকে হত্যা করা হয়েছে মর্মে পুলিশ সুপার বরাবরে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ পাওয়ার পরপরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। ওইদিনই পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) মারুফা জামালের নেতৃত্বে সদর থানা পুলিশ বিভিন্ন ভাবে তদন্ত শুরু করেন। প্রাথমিক ভাবে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে কোন ক্লু পাচ্ছিলো না পুলিশ। পরে তাদের ফোন কল যাচাই করে (২৭ জুলাই) মঙ্গলবার সকালে তাদের ৪ জনকে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে নিয়ে এসে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে জলিলকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে স্বীকার করেন মমিনা বেগম ও পরকীয়া প্রেমিক পল্লী চিকিৎসক গোলাম রব্বানী। হত্যার সাথে সম্পৃক্ততা না থাকায় পরে বাকী দুজনকে ছেড়ে দেয়া হয়। পরে বুধবার (২৮ জুলাই) সকালে স্ত্রী মমিনা বেগম ও পরকীয়া প্রেমিক গোলাম রব্বানীকে ১৬৪ দারায় জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য আদালতে প্রেরন করা হয়েছে বলে পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) মারুফা জামাল নিশ্চিত করেন।

উল্লেখ্য, কুরবানী ঈদের দ্বিতীয় দিনে একসাথেই ছিলেন পরকীয়া প্রেমিক গোলাম রব্বানী ও মৃত আব্দুল জলিল। ওইদিন গভীর রাতে পল্লী চিকিৎসক গোলাম রব্বানী কৌশলে জলিলকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। এদিকে অপেক্ষারত স্ত্রী মমিনা বেগম স্বামী ঘুমিয়ে পড়ার সাথে সাথে তাকে বালিশ চাপায় শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। স্বামীর মৃত্যু নিশ্চিত হলে ভোরের দিকে মমিনা বেগম চিৎকার শুরু করে। পরে আশপাশের লোকজন এসে জলিলের নাকে ও মুখে রক্ত বের হতে দেখেন এবং পরকীয়া প্রেমিক পল্লী চিকিৎসক গোলাম রব্বানী মৃত্যু নিশ্চিত করে তরিঘরি করে লাশ দাফন করেন।

এ ব্যাপারে লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহা আলম বলেন, ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে জলিলকে হত্যা করা হয়েছে বলেই প্রাথমিকভাবে পুলিশ নিশ্চিত হতে পেরেছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪জনকে আনা হলেও স্ত্রী মমিনা বেগম ও পরকীয়া প্রেমিক পল্লী চিকিৎসক গোলাম রব্বানীর সরাসরি হত্যার সাথে সম্পৃক্ত থাকায় বাকী দু’জনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। সকালে তাদের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত আদেশ দিলে ময়না তদন্তের জন্য প্রয়োজনে লাশ কবর থেকে তোলা হবে বলেও জানান তিনি।

Spread the love
  •  
  •  
  •  

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও খবর
এই নিউজ পোর্টাল এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ ।  About Us | Contact Us | Terms & Conditions | Privacy Policy
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102