শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ১০:২৩ পূর্বাহ্ন

লালমনিহাটের আদিতমারী উপজেলা পরিষদের সদ্য বরখাস্ত চেয়ারম্যানকে শোকজ

Reportar Name
  • সময় কাল : বুধবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৩২ বার পড়া হয়েছে

মিজানুর রহমান মিজান, লালমনিরহাট

আনিত অভিযোগ সত্য প্রমানিত হওয়ায় সদ্য বরখাস্ত লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েসকে কারণ দর্শানোর নোটিশ(শোকজ) করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়।

মঙ্গলবার(১ ডিসেম্বর) বিকেলে নোটিশের অনুলিপি পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেন আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন।

এর আগে সোমবার(৩০ নভেম্বর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ ৪৬.০০.০০০০.০৪৬.২৭.০৩৬.২০২০-৯৫৮ স্মারকে কারণ দর্শানো নোটিশ প্রেরন করেন।
একই দিন একই বিভাগের পৃথক স্মারকে উপসচিব নুমেরী জামান প্রজ্ঞাপন জারি করে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েসকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করেন।
স্থানীয় সরকার বিভাগের কারণ দর্শানো নোটিশে বলা হয়, আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিনের সাথে অসাদাচরন, অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকী প্রদানসহ আর্থিক বিষয়ে অনৈতিক দাবি আদায়ের চেষ্টা করেন উপজেলা পরিষদের সদ্য বরখাস্ত চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েস। একই সাথে তার বিরুদ্ধে আনিত উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা নুরেলা আখতারের সাথে অশোভন আচরন প্রদর্শনের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে মন্ত্রনালয়। তাই উক্ত পদ থেকে কেন তাকে অপসারন করা হবে না মর্মে পত্রপ্রাপ্তির ৭ কার্যদিবসের মধ্যে নোটিশ প্রেরনকারী নিকট কারণ দর্শানোর জন্য বলা হয়েছে। একই সাথে ব্যাক্তিগত শুনানীতে অংশ নিতে চেয়ারম্যান ইচ্ছুক কি না তা জানাতেও বলা হয়েছে কারণ দর্শানো নোটিশে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিনসহ ১৮জন অফিসারের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৬টি বিষয়ে অভিযুক্ত করে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েসকে সাময়িক ভাবে বরখাস্থ করা হয়েছে। এ জন্য ৪৬.০০.০০০০.০৪৬.২৭.০৩৬.২০২০-৯৪৮ স্মারকে প্রজ্ঞাপন জারি করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব নুমেরী জামান।
বরখাস্থ হওয়া চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার বিভাগের অভিযোগগুলো হলো, আদিতমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েসের বিরুদ্ধে অসাদাচরণ, দুর্ব্যবহার, অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকী প্রদান করেছেন বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন অভিযোগ দায়ের করেন। ফারুক ইমরুল কায়েস উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দফতরে আর্থিক বিষয়ে অনৈতিক দাবি আদায়ের চেষ্টা করেন। উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা নুরেলা আখতারের সাথে অশোভন আচরন প্রদর্শন করেন। চেয়ারম্যানের এহেন কর্মকান্ডে উপজেলার কর্মকর্তা কর্মচারীদের মাঝে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে জনস্বার্থ মারাত্বভাবে বিঘ্নিত হতে পারে। চেয়ারম্যানের এহেন কার্যকলাপ রাস্ট্র বা উপজেলা পরিষদের স্বার্থের পরিপন্থি। বিধায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে উপজেলা পরিষদ আইন ১৯৯৮ সালের এবং সংশোধিত আইন ২০১১ এর ১৩(খ)(১) ধারা অনুসারে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদ হতে ফারুক ইমরুল কায়েসকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। উক্ত পদে সকল কার্যক্রমসহ আর্থিক ক্ষমতা প্রদান করা হয় উপজেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যানকে।
প্রজ্ঞাপন মুলে মঙ্গলবার(১ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব গ্রহন করেন প্যানেল চেয়ারম্যান উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান চিত্তরঞ্জন সরকার। তিনি উপজেলা পরিষদের বিশেষ মাসিক সমন্বয় সভায় সভাপতি হিসেবে অংশ গ্রহন করেন।

Spread the love
  •  
  •  
  •  

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও খবর
themesba-lates1749691102