শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ১০:১৭ পূর্বাহ্ন

শাহজাদপুরে কৃষকের ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রি হচ্ছে ইট ভাটায়

শাহজাদপুর ( সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি :
  • সময় কাল : রবিবার, ১০ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৫৬ বার পড়া হয়েছে

কবি জীবনানন্দ দাশ লিখেছেন, ” কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালবাসে….! ” সত্যি কেউ নিজের হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে চায় না। তবে
সিরাজগঞ্জের শাহজাপুর উপজেলার কৃষকের হৃদয় খুঁড়ে ক্ষত সৃষ্টির মাধ্যমে ক্রমাগত রক্তক্ষরণ করতে পছন্দ করেন প্রভাবশালী মাটি দস্যুরা। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সাধারণ কৃষকদের জিম্মি করে উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের বিভিন্ন আবাদি জমি এবং করতোয়া সেতুর উত্তর পাশে করতোয়া নদীর তীর সংলঘ্ন কৃষি জমি খুঁড়ে পুকুর বানিয়ে মাটি বিক্রির হিড়িক চলছে। কোন রকম আইনের তোয়াক্কা না করে ইট তৈরির কাচামাল হিসেবে ভাটার জন্য ইচ্ছা মতো নদী ও আবাদি জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। জানা গেছে, প্রশাসনের কোনো রকম অনুমতি ছাড়াই একটি প্রভাশালী চক্র গাড়াদহ করতোয়া নদী ও আবাদি জমির মাটি গভীর করে ভেকু মেসিন দিয়ে কেটে নেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন এলাকার কৃষকরা। এক্সেভেটর যন্ত্র (ভেকু মেশিন) দিয়ে মাটি উত্তোলন করায় পার্শ্ববর্তী আবাদি জমি বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন বেশ কিছু চাষি পরিবার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পার্শ্ববর্তী জমির চাষিরা জানান, ‘যেভাবে মেসিন দিয়ে মাটি কেটে পুকুর বানানো হচ্ছে, তাতে করে আমাদের একমাত্র অবলম্বন আবাদি জমি ধসে নদী হয়ে যাবে। চাষ উপযোগী জমি আর আমাদের থাকবেনা। এতে করে আমরা সব হারিয়ে পথে বসে যাব।’ মাটি উত্তোলনকারীরা ব্যাপক প্রভাবশালী এবং ক্ষমতাধর হওয়ায় পার্শ্ববর্তী আবাদি জমির মালিকরা বারবার নিষেধ করলেও কোনো লাভ হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন চাষিরা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছেন এলাকাবাসী। জানা যায়, শাহজাদপুরের গাগাদহ ইউনিয়নের ভাটা মালিকরা স্থানীয় প্রভাবশালি মাটিদস্যুদের মাধ্যমে অবৈধ উপায়ে কৃষি জমি থেকে মাটি উত্তোলন করে আসছে। অতিরিক্ত মুনাফার লোভে ভয় দেখিয়ে কৃষকদের জমি থেকে ভেকু মেশিন দিয়ে পুরোদমে মাটি কেটে হাতিয়ে নিচ্ছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। এতে পার্শ্ববর্তী শত শত বিঘা আবাদি জমির ফসল নষ্টসহ বিভিন্ন ফলদ বাগান বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন চাষিরা। অপরদিকে প্রতিদিন ১০০-১২০টি মাটিভর্তি ট্রাক মাঠে আসা-যাওয়ার ফলে গ্রামীণ রাস্তাগুলোর বেহাল দশা।
এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার ( ভূমি) মোঃ মাসুদ হোসেন জানান, ‘ আবাদি জমি থেকে যেন টপ সয়েল লুট না হয়ে যায় সেজন্য সাধারণ কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছি আমরা। অপরদিকে ভাটার মালিকরা দিনের বেলায় সাধারণত বন্ধ রাখলেও গভীর রাতে একটি চক্র মাটি কেটে নিচ্ছে বলেও খবর পেয়েছি। তবে অচিরেই এদের দৌরাত্ম থামাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ‘

Spread the love
  •  
  •  
  •  

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও খবর
themesba-lates1749691102