শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৩০ পূর্বাহ্ন

শিক্ষার্থীদের পদচারনায় মুখরিত বিদ্যালয় গুলো!

আশরাফুল হক, লালমনিরহাট:
  • সময় কাল : রবিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৪৯ বার পড়া হয়েছে

রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) শিক্ষার্থীদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে ওঠে লালমনিরহাটের সকল বিদ্যালয়। জানা গেছে, করোনা ভাইরাস সংক্রমন রোধে গত ২০২০ সালের ১৭ই মার্চ দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষনা করে সরকার। কয়েক দফায় ছুটি বাড়ানো হয় এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের।

শিক্ষার্থীদের সারাসরি পাঠদান বন্ধ থাকলেও ভার্চুয়ালী পাঠদান স্বাভাবিক ছিল। দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর তালা খুলেনি জেলার শত শত বিদ্যালয়। ফলে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ ও শ্রেণি কক্ষে পাঠদানের পরিবেশ নষ্ট হয়। শিক্ষার্থীহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভুতরে পরিবেশ তৈরী হয়।

দীর্ঘ দেড় বছর পর সরকারী নির্দেশনায় রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) এক যোগে সারাদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরাসরি পাঠদান চালু করা হয়। তবে এক্ষেত্রে কিছু নির্দেশনাও মেনে চলতে হবে শিক্ষক শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ঠ সকলকে। দীর্ঘ দিন পড়ে থাকায় ময়লা আবর্জনায় পুর্ন থাকা বিদ্যালয়গুলো ধুয়ে মুছে পরিস্কার করতেও সরকারী ভাবে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তাই জেলার সকল বিদ্যালয় ইতোমধ্যে ধুয়ে মুছে পাঠাদানের উপযোগী করে প্রস্তুত করা হয়েছিল।

রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে বিদ্যালয়ে চালু করা হয় পাঠদান কার্যক্রম। প্রাক-প্রাথমিক বন্ধ থাকলেও প্রাথমিক স্তরের বাকী সকল শ্রেণির পাঠাদান চালু থাকবে। এর মধ্যে ৫ম শ্রেণি প্রতিদিন এবং অন্যান্য শ্রেণির পাঠদান সপ্তাহে একদিন হিসেবে চালু করতে শ্রেণি রুটিন পৌছে দেয়া হয়েছে জেলার সকল বিদ্যালয়ে। বিগত বন্যা আর নদী ভাঙনের শিকার হয়ে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার পুর্ব হলদিবাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পশ্চিম হলদিবাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় নষ্ট হয়েছে।

এ ২টি বিদ্যালয়ে পাঠদান সচল রাখতে স্থানীয় ভাবে একটি অস্থায়ী বিদ্যালয় করা হয়েছে। অপরটির পাঠদান চলবে স্থানীয় পাটিকাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে। জেলার বিদ্যালয়গুলো সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকারা স্থানীয়দের সহায়তায় বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষগুলো ধোয়া মুছার কাজ করেন একদিন আগেই। দীর্ঘ দিন ব্যবহার না করায় অনেক ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস নষ্ট হয়েছে বলেও দাবি করেছেন শিক্ষকরা। সব মিলে বিদ্যালয়ে সরাসরি পাঠদানের জন্য প্রস্তুত করা হয় জেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

আদিতমারী উপজেলার দঃবঃ হাজারী জোবায়ের টিপু সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা লায়লা বেগম বিজলী জানান,দীর্ঘ দিন পরে বিদ্যালয়ে পাঠদান শুরু হয়েছে দেখে আনন্দ লাগছে। তাই কষ্ট হলেও মনের আনন্দে সকল শিক্ষক মিলে বিদ্যালয় ধোয়া মুছা করেছি। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বরন করতে সব বিদ্যালয় প্রস্তুত করা হয়েছিল। চিরচেনা সেই জেলার বিদ্যালয় গুলো আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছেন এবং প্রিয় কর্মস্থল।

লালমনিরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার গোলাম নবী জানান, শিক্ষক -শিক্ষার্থীরা শতভাগ মাস্ক পরিধান করে পাঠদানে অংশ নিবেন। প্রত্যাহিক সমাবেশহীন বিদ্যালয়ে ৩ ঘন্টা চালু থাকবে পাঠদান। আপাত স্কুল ড্রেস (নির্ধারীত পোষাক) বাধ্যতামুলক নয়। নদী ভাঙনের কারনে ২টি বিদ্যালয়ের স্থান পরিবর্তন করা হলেও সেখানে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সব মিলে শিশুকল্যাণের ৫টিসহ জেলার ৭৬৭টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পাঠদানের জন্য ধুয়ে মুছে প্রস্তুত করা হয়েছিল। অপরদিকে লালমনিরহাট জেলা উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আবুল কালাম আজাদ জানান, জেলায় স্কুল, কলেজ ও মাদরাসাসহ মোট ৩৭১ টি প্রতিষ্ঠান রোববার একযোগে পাঠ শুরু করা হয়েছে।

 

Spread the love
  •  
  •  
  •  

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও খবর
এই নিউজ পোর্টাল এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ ।  About Us | Contact Us | Terms & Conditions | Privacy Policy
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102