শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:৪৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
হাসপাতালের দরপত্র জঠিলতায় থমকে আছে আইসিইউ-আইসোলেশন নির্মান কাজ উল্লাপাড়ার পূর্নিমাগাঁতী ইউনিয়নে নির্বাচনী উঠান বৈঠকে হাজার মানুষের ঢল ভালুকায় আকাঙ্খা ফাউন্ডেশন উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প লালমনিরহাটে “আলোকধেনু” স্মরনিকার মোড়ক উন্মোচন তাড়াশের মাধাইনগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার মাঝি হতে চান হাবিবুর  রহমান রায়গঞ্জে তাল বীজ রোপন কর্মসূচি উদ্বোধন মির্জাপুরে কোচ আদিবাসী সংগঠনের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত কোম্পানীগঞ্জের রহিমিয়া এতিমখানার নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত শাহজাদপুরে মেরিনা জাহান কবিতার মতবিনিময় শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে মমেক ছাত্রলীগের আনন্দ মিছিল

সড়ক ও মহাসড়ক ধান মাড়াইয়ের দখলে

মোঃ খাইরুল ইসলাম মুন্না, বরগুনা :
  • সময় কাল : শনিবার, ২৮ আগস্ট, ২০২১
  • ৬৩ বার পড়া হয়েছে

উপকূলীয় জনপদ বরগুনার বেতাগীতে কৃষকরা আউশ মৌসুমে ধান কাটা ও মাড়াইতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। জমি গূথেকে ধান কেটে আনার পর চলছে মাড়াইড়ের কাজ। মাড়াই শেষে শুরু হয় ধানের খড় শুকানো। এরপর স্তুপ করে রাখা হয় ওই সব শুকনো খড়। এর এসব কাজের সবই চলছে এখন ব্যস্ততম বরগুনা-বেতাগী-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপর।

এতে গ্রামীণ সড়ক, মহা সড়কের বড় একটি অংশ বেদখল হয়ে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। প্রায় প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট বড় হতাহতের ঘটনা। সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে মোটরসাইকেল, বাই-সাইকেল মাহেন্দ্র ও অটো রিকশার আরোহীরা। সড়কগুলো এখন যেন ধান মাড়াই ও খড় শুকানোর চাতালে পরিণত হয়েছে। সোমবার (২৩ আগস্ট) সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বরগুনা-বেতাগী-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে খেত থেকে ধান কেটে স্তুপ করে রাখা হয়েছে। পাশেই ওই সব ধান ইঞ্জিনচালিত যন্ত্র (ধানের মড়াই মেশিন) দিয়ে মাড়াই করা হচ্ছে। মাড়াই শেষে ধান বাড়িতে নিয়ে গেলেও খড় সড়কের ওপরেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।

সড়কের পাশে শুকানো হচ্ছে ওই সব খড়। আবার অনেকে খড় শুকানোর পর সড়কের পাশেই রেখেছেন। এর মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে চলছে নানা ধরনের যানবাহন। উপজেলার নিয়ামতি-দেশান্তরকাঠী, বেতাগী-জলিশা, জলিশা-মোকামিয়া, খাঁনের হাঁট-মোল্লার হাঁট, কাউনিয়া-বদনীখালী, চান্দখালী-কুমড়াখালী অংশসহ ছোট-বড় বিভিন্ন সড়কেও আউশ ধান মাড়াই ও খড় শুকানোর একই চিত্র চোখে দেখা মেলে। বরগুনা-বেতাগী-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কের ঝোপখালী এলাকায় ইতোমধ্যে একাধিক মোটরসাইকেল আরোহী সড়কের পাশে পড়ে আহত হন। সড়কে ধানমাড়াই ও খড় শুকানোর কারণে মোটরসাইকেল আরোহী পিছলে পড়ে এ দুর্ঘটনার শিকার হন বলে উপজেলার সদর ইউনিয়নের রানীপুর গ্রামের বাসিন্দা মো: আমজাদ হোসেন জানান। সড়কের ওপরে ভেজা খড়ের ওপর দিয়ে বাস চালানো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এমনই আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করে বরগুনা-বেতাগী রুটের বাসচালক মো. লিটন মিয়া জানান, বেতাগী থেকে বরগুনা পৌঁছাতে কর্তৃপক্ষ তাঁদের একটা নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেয়। ওই সময়ের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারলে পরদিন ট্রিপ বাতিল করা হয়। কিন্তু মহাসড়কে ধানমাড়াই ও শুকানোর কাজ করায় নির্দিষ্ট গতিতে গাড়ি চলানো যায় না। বরগুনা-বেতাগী-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কের বিবিচিনি ইউনিয়নের পুটিয়াখালী গ্রামের পাকা রাস্তার ওপর মেশিন বসিয়ে চলছিল ধান মাড়াই। এ সময় কথা হয় ধান মাড়াই কাজে ব্যস্ত মো: নুর আলমের সঙ্গে। তিনি বলেন, আগে তো গৃহস্থের ধান মাড়াইয়ের জন্য অনেক খোলা জায়গা ছিল। এখন তা নেই। তাই গ্রামের প্রায় সবাই রাস্তার ওপরে ধান মাড়াই ও শুকানোর কাজ করে।

সড়কে চলাচলরত একাধিক মোটরসাইকেল আরোহী ও ট্রাকচালকের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, উপজেলার বিভিন্ন সড়কে ধান কাটার এ আউশ মৌসুমে ধান মাড়াই ও খড় শুকানোর কারনে প্রচুর ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। মোটরসাইকেল চালক রবিচান হাওলাদার বলেন, সড়কগুলোতে ধান মাড়াই ও শুকানোর সময় চলা কঠিন হয়ে যায়। এসব শুকানোয় রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে থাকায় একটু অসতর্ক হলেই দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। মাহেন্দ্র চালক মো: সিরাজুল ইসলাম বলেন, যারা সড়কে ফসল মাড়াই ও শুকানোর কাজ করছে, তারা যানবাহন দেখেও না দেখার ভান করে।

বেতাগী সদর ইউনিয়ন এলাকায় মহাসড়কের ওপর ধানমাড়াই করছিলেন কৃষক মো: কামাল হোসেন। তিনি জানান, বাড়ির উঠান ছোট হওয়ায় জমির ধান মাড়াই করতে অসুবিধা হয়। তাই খোলামেলা এ সড়কটি ব্যবহার করছেন। দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এমটা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘কী করমু, বাড়িতে জায়গা না থাকায় রাস্তায় ধান মাড়াই করতেছি।

হোসনাবাদ ইউনিয়নের ফুলতলা গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, এখন কেউ আগের মতো বাড়ির সামনে ফাঁকা জায়গা রাখে না। নিরুপায় হয়ে পিচঢালাই সড়ক ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন।

এ বিষয় উপজেল কৃষি অফিসার মো: ইকবাল হোসেন জানান, জায়গার অভাবে কুষকরা আউশ মৌসুমে ধান মাড়াই ও খড় শুকানোর কাজ করে উপকৃত হচ্ছে। তবে এ কারণে ছোট-বড়ো দুর্ঘটনা ঘটায় যাতে তারা এ কাজটি না করেন এজন্য কুষকদের সচেতনতা করা ব্যতিরেকে আর কোন বিকল্প নেই।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. সুহৃদ সালেহীন বলেন, এখানকার সড়কের ওপরে ধান মাড়াই ও শুকানোর কাজ করা হয় বলে আমিও দেখেছি। তবে সড়কের উপর প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে কেউ যাতে যানচলাচলে বাঁধা ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে না পারে সে জন্য সতর্কতা ও তাদের মাঝে সচেতনবোধ তৈরির পাশাপাশি না মানলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও খবর
এই নিউজ পোর্টাল এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ ।  About Us | Contact Us | Terms & Conditions | Privacy Policy
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102