গাজীপুরে মুসলিম মেয়েকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে এআই দিয়ে ছবি বানিয়ে সেটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করে হিন্দু ছেলে বিশ্বজিৎ দাস। বিচার পাওয়ার আশায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগ নেতা আড়াই লাখ টাকা ও ৫০টি জুতা পেটা দিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন। এর কিছুদিন আগে এই ইউপি চেয়ারম্যান আতুরী গ্রামের এক শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনা এক লাখ টাকায় ধামাচাপা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর গাজীপুরের অধিকাংশ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদেরকে অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগ দিলেও গাজীপুর জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সদস্য ও সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান এখনো রয়েছেন বহাল তবিয়তে। জুলাই গণহত্যা মামলায় ২০২৪ সালের অক্টোবরে মাসে গ্রেফতার হলেও অল্প সময়ের মধ্যে জামিনে বের হয়ে আসেন তিনি। গত বছর একই পরিষদের এক সংরক্ষিত নারী মেম্বার নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, গাজীপুর সদর উপজেলার বাড়ীয়া ইউনিয়নের চিলনী গ্রামের মুসলিম মেয়ে আদুরী (ছদ্মনাম) স্কুলের যাওয়ার সময় উত্যক্ত করতো পাশের হিন্দু বাড়ীর মৃত পরিমল রায় এর ছেলে বিশ্বজিৎ দাস। এক পর্যায়ে এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) দিয়ে ছবি বানিয়ে ফেসবুকে ছেড়ে দিলে মুহুর্তেই ভাইরাল হয় ভিডিওটি। বিষয়টি জানাজানি হলে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় লিখত অভিযোগ দায়ের করেন।
সরেজমিনে গিয়ে রানির টেক এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় যুবকের সাথে কথা বলে জানা যায়, মুসলিম মেয়ের সাথে হিন্দু ছেলের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। প্রেমের সম্পর্কের এক পর্যায়ের এআই দিয়ে অশ্লীল ছবি বানিয়ে মেয়েকে ভয় দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করে সেগুলোর ভিডিও ধারণ করে রেখে দেন অভিযুক্ত বিশ্বজিৎ। গত কিছুদিন আগে তাদের প্রেমের সম্পর্কের অবনতি হলে মেয়ের নামে ফেসবুকে ফেক আইডি বানিয়ে শারিরীক সম্পর্কের ছবি ও ভিডিও সোসাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয় বিশ্বজিৎ। এমন একটি ন্যাকারজনক ঘটনায় সুষ্টু বিচার না হয়ে টাকার মাধ্যমে মিমাংশা হওয়ায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট রেজাউল করিম রেজা বলেন, এই জাতীয় লিখিত অভিযোগ থানায় জমা হলে পুলিশ মামলা নিতে বাধ্য। এটা স্থানীয়ভাবে বসে মিমাংসা করার কোন সুযোগ নেই।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে ভুক্তভোগীর মা বলেন, বিষয়টি সমাধান হয়েছে। কিভাবে সমাধান হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, চেয়ারম্যান বিচার করেছেন এবং অর্থদণ্ড দিয়েছেন। তিনি বলেন, সেখানে ছেলেকে মারধর করা হয়েছে এবং আড়াই লাখ টাকা জরিমানা করেছেন হাবিব চেয়ারম্যান।
বাড়ীতে গিয়ে পাওয়া যায়নি অভিযুক্ত বিশ্বজিৎ রায়কে। বিশ্বজিৎ এর চাচা স্বপন দাস রনক বলেন, চেয়ারম্যান এর নির্দেশে নয় আমরা নিজ থেকেই ভাতিজাকে মেরে শাসন করেছি। প্রাথমিকভাবে আড়াইলাখ টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল এখন আর টাকা দিবোনা। বিশ্বজিৎ এর আরেক চাচা বলেন, মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আড়াই লাখ টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ছেলের যেহেতো ইনকাম কম সেহেতো টাকাটা আমরাই দিবো।
জানতে চাইলে বাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, আওয়ামিলীগ নেতা হাবিবুর রহমান বলেন, ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তারা আমার কাছে এসেছিল তবে ছেলেকে মারধর এবং টাকার বিষয়টি আমার জানা নেই।
জয়দেবপুর থানার আমতলী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। ভুক্তভোগী আসলে আমরা মামলা নিবো।
এই নিউজ পোর্টাল এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ।