চিলে কান নিয়েছে"—এই বিখ্যাত প্রবাদ বা লোকমুখের কথার ওপর ভিত্তি করে বাংলা সাহিত্যে চমৎকার ছড়া ও কবিতা রয়েছে। এর মধ্যে কবি শামসুর রাহমানের "পণ্ডশ্রম" কবিতাটি সবচেয়ে জনপ্রিয়
এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।
কোনো সত্যতা যাচাই না করে অন্যের কথায় কান দিয়ে অন্ধের মতো ছুটতে গিয়ে মানুষ যে পণ্ডশ্রম বা বৃথা পরিশ্রম করে, সেটাই এই ছড়ায় রূঢ় ও হাস্যরসাত্মকভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
এমনই এক ঘটনা ঘঠেছে গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী জরুন এলাকায় অবস্থিত ইসলাম গার্মেন্টস লিঃ (ইউনিট-২)।
জানাযায় গেল ২৭ জুন শনিবার রুবিনা বেগম (৫০) নামে এক নারী শ্রমিক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাকে কারখানার ভেতরে অবস্থিত মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কোনাবাড়ী ক্লিনিকে পাঠানো হয়। কোনাবাড়ী ক্লিনিকে তার অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা হৃদরোগ ইন্সটিটিউট মেডিক্যালে রেফার্ড করা হয়। পরে ওই দিন রাত আনুমানিক ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
রোববার (২৮ জুন) সকালে ওই নারী শ্রমিকের মৃত্যুর খবর কারখানার অন্যান্য শ্রমিকরা জানার পর কাজ বন্ধ করে দেয়। শ্রমিকদের দাবী কারখানা কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে রুবিনার মৃত্যু হয়েছে। এই গুজবকে কেন্দ্র করে শ্রমিকরা ২৮ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত কাজ বন্ধ করে অবৈধভাবে ধর্মঘট পালন করে।
এমত অবস্থায় কারখানা কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে আগামী পহেলা জুলাই বুধবার হতে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ১৩(১) ধারা মোতাবেক অনির্দিষ্টকালের জন্য ইসলাম গার্মেন্টস লিঃ (ইউনিট:( ২) ঘোষনা করে।
মৃত রুবিনা বেগম সিরাজগঞ্জ জেলার কাজীপুর থানার মেঘাই গ্রামের মৃত সুমার আলী সরকারের মেয়ে। তিনি জরুন এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে ইসলাম গার্মেন্টসে সুয়িং অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এ বিষয়ে জানতে রুবিনা বেগমের মেয়ের জামাতা জসিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, গত শনিবার বিকেল সাড়ে ৩ টার সময় আমার স্ত্রী ফোন করে বলেন,তুমি কোথায় আম্মার অবস্থা ভালোনা তারাতাড়ি কোনাবাড়ী ক্লিনিকে আসো। তখন আমি অফিস থেকে ছুটি নিয়ে কোনাবাড়ী ক্লিনিকে যাই। জরুরী বিভাগের ডাক্তার বলেন,উনি হার্ডএটাক করেছে হৃদরোগ ইন্সটিটিউট মেডিক্যালে নিয়ে যান।
পরে আমরা এম্বুলেন্সের খোঁজ করে না পেয়ে সিএনজি যোগাযোগে ঢাকায় রওনা হই। গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকায় গেলে একটি অ্যাম্বুলেন্স পাই। ওই অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা হৃদরোগ ইন্সটিটিউট মেডিক্যালে যাই। মেডিক্যাল নেওয়ার পর জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। কর্তব্যরত ডাক্তার বলেন,উনি বড় ধরনের হার্ট এটাক করেছে জরুরী ভাবে রিং পড়াতে হবে। ডাক্তার বললো ২৫ হাজার টাকা লাগবে। আমরা রাজি হলে শাশুড়ীকে সি সি ইউ তে নেওয়া হয়।
কিছু পরীক্ষা নিরিক্ষা দেয় ডাক্তার। পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে ডাক্তার বলেন উনার ফুসফুস ড্রেমেজ হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে উনি ফুসফুসে রোগে ভুগছেন। রিং পরানোর আগে ফুসফুসের চিকিৎসা করতে হবে। তাকে ইনজেকশন দিতে হবে আর কিছু ঔষধ দিয়েছি এগুলো নিয়ে আসেন। আমি ডাক্তারের কথামতো ঔষধ আনতে গেলে কিছুক্ষণ পরে এসে দেখি দুইজন ডাক্তার দাঁড়িয়ে আছে। তারা আমাকে বলছেন আপনার শাশুড়ি রাত আনুমানিক ৮ টার সময় মারা গেছে। পরে মেডিক্যাল থেকে
মৃত্যু সার্টিফিকেট নিয়ে রাতেই গ্রামের বাড়ী সিরাজগঞ্জ আসি। তার দুই মেয়ে কোন ছেলে নেই।
কারখানা কর্তৃপক্ষের কোন অবহেলা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের প্রতি আমাদের কোন অভিযোগ নেই। তার হায়াত নাই সে মারা গেছে। তবে আপনারা তদন্ত করে দেখেন যদি কারখানা কর্তৃপক্ষের কোন গাফলিতি থাকে তাহলে জানো ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
গাজীপুর শিল্প পুলিশ- এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন (পিপিএম) বলেন,শ্রমিকরা অভিযোগ করছেন কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে ওই নারী শ্রমিকের মৃত্যু হয়। তাদের দাবী যথাসময়ে চিকিৎসা দিলে এই দূর্ঘটনা ঘটতোনা। তিনি আরও বলেন,বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি। কতৃপক্ষের কোন অবহেলা আছে কিনা। কারখানা বন্ধের বিষয়ে বলেন,কর্তৃপক্ষ শ্রম আইন অনুযায়ী বন্ধ ঘোষণা করেছে। আমরা বিষয়টি তদারকি করছি।
এই নিউজ পোর্টাল এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ।