জাপান ও বাংলাদেশ পরস্পরের কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করতে চায়। এর অংশ হিসেবে দুই দেশ ২৬ এপ্রিল প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতাবিষয়ক একাধিক চুক্তি সই করবে। টোকিওতে দুই দেশের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে শীর্ষ বৈঠকের পর চুক্তিগুলো সই হবে বলে জানিয়েছে কূটনৈতিক সূত্রগুলো।
শীর্ষ বৈঠকসহ চার দিনের এই সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৫ এপ্রিল সকালে ঢাকা ছাড়বেন। সেদিন বিকেলে সূর্যাস্তের আগেই তিনি জাপানে পৌঁছাবেন। পরদিন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে তাঁর।
২৮ এপ্রিল পর্যন্ত এই সফরের কোনো এক সময়ে জাপানের সম্রাট নারুহিতোর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে।
এদিকে ঢাকায় জাপানের রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনোরি গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেছেন বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম আজকের পত্রিকাকে জানান। প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতির খুঁটিনাটি বিষয় অবহিত করতেই রাষ্ট্রদূতের এই সাক্ষাৎ বলে দেশটির এক কূটনীতিক জানিয়েছেন।
দুই দেশের কয়েকটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে প্রতিরক্ষাবিষয়ক একটি সহযোগিতা স্মারকসহ (মেমোরেন্ডাম অব কো-অপারেশন) কয়েকটি চুক্তি সই হবে।
প্রতিরক্ষাবিষয়ক সহযোগিতা স্মারকে দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মাধ্যমে তথ্য বিনিময়, প্রশিক্ষণ, যৌথ মহড়া অনুষ্ঠান ও শান্তি রক্ষার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকছে।
জাপানের একটি কূটনৈতিক সূত্র বলেছে, দেশটি বাংলাদেশে রাডারসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রি করতে চায়। তবে বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা ক্রয়সংক্রান্ত বিষয়গুলো পরবর্তী পর্যায়ে বিবেচনায় নিতে চায় বলে জানিয়েছে।
আর যেসব বিষয়ে এই সফরে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে, সেগুলো হলো সাইবার নিরাপত্তা, মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, জাহাজভাঙা শিল্পের আধুনিকায়ন, শুল্ক খাতের সমন্বয়, ঢাকায় মেট্রোরেলের নতুন আরেকটি রুট নির্মাণ, দুই দেশের জাদুঘরের মধ্যে সহযোগিতা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন জাপান সফরকে গুরুত্বপূর্ণ অভিহিত করে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্ক বহু পুরোনো। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন জায়গায় নিতে দুই দেশেরই আগ্রহ আছে। তবে বাংলাদেশকে জাপান তার ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় (ইন্দো-প্যাসিফিক) পরিকল্পনার অংশের কেন্দ্রে রাখতে চায়, এ নিয়ে দেশটির কোনো লুকোছাপা নেই। জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা গত মার্চে ভারত সফরের সময় বাংলাদেশের নাম উল্লেখ করে বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। তবে চীনের সঙ্গে ব্যাপকভিত্তিক সম্পর্কের বিবেচনায় বাংলাদেশ জাপানের পরিকল্পনায় কতটা ও কখন খাপ খাওয়াবে, সেটা ভেবে দেখার বিষয়।
বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘চীন একটি অনুচ্চারিত বিষয়’ উল্লেখ করে বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট হুমায়ুন কবির আজকের পত্রিকাকে বলেন, জাপান সম্প্রতি নিজের প্রতিরক্ষা কৌশলপত্র ঢেলে সাজিয়েছে। বিদেশে উন্নয়ন সহযোগিতা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষাকে একটি উপকরণ হিসেবে যুক্ত করেছে। চীনের সঙ্গে প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে পাল্লা দিতে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় কৌশলের অংশ হিসেবে জাপান বাংলাদেশকেও পাশে পেতে চায়।
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যাপকভিত্তিক সম্পর্কের উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক এই রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশের বোধ হয় সতর্ক থাকা দরকার। একটু সময় নিয়ে এগোনো দরকার।’
সরকারি আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি শেখ হাসিনা জাপানের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সম্মেলনে অংশ নেবেন। দেশটির চারজন নাগরিকের হাতে তুলে দেবেন ‘ফ্রেন্ডস অব লিবারেশন ওয়ার অনার’ সম্মাননা।
ওয়াশিংটন ডিসি সফর
টোকিও থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র যাবেন। ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংকের একটি বৈঠকে যোগ দেবেন তিনি। এই সফরে কয়েক দিন যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর থাকার কথা রয়েছে।
ব্রিটিশ রাজা চার্লসের অভিষেক
যুক্তরাজ্যের নতুন রাজা চার্লসের অভিষেকে অংশ নিতে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে দেশটির সরকার। অভিষেকে যোগ দিতে শেখ হাসিনার আগামী ৪ মে লন্ডন পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ৬ মে এই অভিষেক অনুষ্ঠিত হবে। ৭ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন।
এই নিউজ পোর্টাল এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ।