ধর্ষনের নিউজ করায় সিরাজগঞ্জের দৈনিক কালের কন্ঠের মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি রাব্বি হাসান হৃদয়ের বিরুদ্ধে দিনাজপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়েছে। মামলায় সাংবাদিক হৃদয়ের বিরুদ্ধে ২০১২ সালের পর্নোগ্রাফি আইনের ৮ এর ২-৫ ও ৭ ধারায় আসামী করা হয়েছে। একই মামলায় ধর্ষনকারী নাজমুল হুদাকে ১নং আসামী করা হয়েছে। ওই মামলায় র্যাব-১২ সদস্যরা তাকে গত ২৪ তারিখে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর থেকে আটক করে দিনাজপুর কোয়াতলী থানায় হস্তান্তর করা করেন। দিনাজপুর কোয়াতলী থানা পুলিশ শুক্রবার দুপুরে তাকে আদালতে সোপর্দ করেছে। এ ঘটনায় সিরাজগঞ্জে সংবাদকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
মামলা ও বিভিন্ন সুত্রে জানা যায়, দিনাজপুর জেলার সাজ্জাদ হোসেনের স্ত্রী মোছা. রুমী খাতুন খাতুনের সাথে সিরাজগঞ্জ শহরের সয়াধানগড়া গ্রামের টিএম আজিজুলের হকের ছেলে নাজমুল হুদার সাথে ফেসবুকে পরিচয় হয়। এরপর বন্ধুত্ব থেকে দুজন পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে ২০২৫ সালে ১লা জুলাই দুপুরে নাজমুল হুদা রুমী খাতুনের বাড়ীতে যায় এবং সেখানে রুমী খাতুনের সাথে মিলন (ধর্ষন) করে এবং ধর্ষনের ভিডিও মোবাইলে ধারন করেন। পরবর্তীতে নাজমুল হুদা ওই ভিডিও ভাইরালের ভয় দেখিয়ে রুমির কাছ থেকে দুই লক্ষ টাকা দাবী করে। পরবর্তীতে রুমি ৪ জুলাই টাকা নিয়ে ঢাকায় যায় এবং ঢাকার কমলাপুর নিকুঞ্জ হোটেল টাকা প্রদান করেন এবং সেখানেও নাজমুল হুদা তাকে ধর্ষন করে এবং আপত্তিকর ভিডিও এবং ছবি ধারন করেন। এরপর ১৭ জুন পুনরায় সিরাজগঞ্জ কুটুমবাড়ী হোটেলে রুমিকে নিয়ে আসে এবং নাজমুল হুদা তাকে ফের ধর্ষন করে।
এরপর থেকে নাজমুল হুদা একাধিকবার একাধিক স্থানে নিয়ে গিয়ে তাকে ধর্ষন করে এবং ভিডিও ছবি ধারন করেন। বিভিন্ন সময় নাজমুলকে রুমি খাতুন ১০ লক্ষ টাকা প্রদান করেন। এরপরেও নাজমুল হুদা টাকা দাবী করতে থাকেন। এ অবস্থায় রুমী খাতুন সিরাজগঞ্জে আসেন এবং সাংবাদিক রাব্বি হাসান হৃদয়ের সাথে পরিচয় হয় এবং সিরাজগঞ্জ থানায় মামলা করাসহ নাজমুল হুদার আপত্তির ছবিগুলো দিয়ে পত্রিকায় নিউজ প্রকাশ করতে অনুরোধ করেন। তখন সাংবাদিক হৃদয় তার অনলাইন পেজে একটি নিউজ প্রকাশ করেন। একই দিন অন্য একজন সাংবাদিকের মাধ্যমে রুমী খাতুন আজকের সিরাজগঞ্জ পত্রিকায় একটি নিউজ করান। এ অবস্থায় নাজমুল হুদা ও রুমীর মধ্যে আরো দুরত্ব সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে সাংবাদিক রাব্বি হাসান হৃদয় রুমীকে সহায়তার নানা পরামর্শ দিলেও রুমী খাতুন তা না মেনে দিনাজপুর চলে যান। সেখানে ক্ষুদ্ধ হয়ে গত ৪ সেপ্টেম্বর তিনি দিনাজপুর আদালতে নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে ধর্ষন মামলা করেন। একই সময় নিউজ করার কারনে ওই মামলায় রাব্বি হাসান হৃদয়ের নাম জড়িয়ে দেন। মুলত সাংবাদিককে ফাঁসানের জন্য বাদী রুমী তার নাম দিয়েছেন।
তিনি মামলায় উল্লেখ করেছেন, রাব্বি হাসান হৃদয় ছবিগুলো দিয়ে তাকে ব্লাকমেইল করেছেন এবং তার কাছ থেকে নগদ ১লক্ষ গ্রহন করেছেন এবং নগদ নম্বরের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা প্রদান করেছেন। যেটি সম্পুর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট। মামলায় সাংবাদিক হৃদয়ের বিরুদ্ধে কোন ধর্ষনেরও অভিযোগ বা সহযোগিতা করেছে এমন কোন অভিযোগ তোলা হয়নি। মুলত মামলায় ১নং আসামী নাজমুল হৃদার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ও ধর্ষন মামলা হয়েছে। ওই মামলায় বাদী ক্ষুদ্ধ হয়ে রাব্বি হাসান হৃদয়কে পর্নোগ্রাফি আইনে ফাঁসিয়েছেন। এদিকে মিথ্যা মামলায় একজন সাংবাদিককে আসামী এবং গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরন করায় সিরাজগঞ্জে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সংবাদকর্মীরা অবিলম্বে মামলাটি তদন্তপুর্বক সাংবাদিক হৃদয়ের নাম প্রত্যাহারসহ দ্রুত মুক্তির দাবী জানিয়েছেন একই সাথে মিথ্যা মামলাকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সাংবাদিক আব্দুস সামাদ সায়েম ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, কয়েকমাস আগে সন্ধ্যায় ওই নারী তার মাকে নিয়ে হৃদয়ের সাথে আমার অফিসেও নিউজ করাসহ সহায়তার জন্য এসেছিলেন। আমি ঘটনা শুনে পরামর্শসহ পুনরায় আসতে বলেছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে তারা না এসে দিনাজপুর চলে গেছে। পরে জানতে পেরেছি মামলা হয়েছে এবং সাংবাদিককে আসামী করা হয়েছে এবং এই মামলায় কোন তদন্ত বা ওয়ারেন্ট ছাড়াই র্যাব-১২ গত ২৪ তারিখ রাতে কাজিপুর থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে। এটি খুব দু:খজনক। আমরা দ্রুত সাংবাদিককে মুক্তি ও মামলা থেকে সাংবাদিকের নাম প্রত্যাহারের দাবী করছি।
এই নিউজ পোর্টাল এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ।