গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সাফাইশ্রী এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, রাস্তার পাশ ও বিভিন্ন নির্দিষ্ট পয়েন্টে ইয়াবা, গাঁজা এবং টাপেন্টাডলসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের কেনাবেচা ও সেবন চলছে। এতে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সামাজিক পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাফাইশ্রী এলাকায় মানিক চন্দ্রের একটি জমি দখল করে সেখানে মাদকসেবীদের আড্ডা গড়ে তোলা হয়েছে। দিনের বেলাতেও সেখানে মাদকসেবীদের আনাগোনা দেখা যায় বলে দাবি তাদের। সন্ধ্যার পর বিভিন্ন স্থানে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের মাত্রা আরও বেড়ে যায় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
মানিক চন্দ্র বলেন,তারা জোর করে আমার জায়গা দখল করে মাদক সেবন ও বিক্রি করে।তাদের ভয়ে কিছু বলতে পারিনা।
মাঠপর্যায়ের তথ্য ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকার কয়েকজন যুবক এই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের পেছনে প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি বা কথিত গডফাদারের পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, মাদকের সহজলভ্যতার কারণে স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী ও তরুণদের একটি অংশ ধীরে ধীরে মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে। এর ফলে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। পাশাপাশি মাদককে কেন্দ্র করে চুরি, ছিনতাই, মারামারি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির আশঙ্কাও করছেন তারা।
স্থানীয়দের দাবি, সাফাইশ্রী এলাকায় একটি মাদ্রাসা থাকা সত্ত্বেও এর আশপাশে প্রকাশ্যে মাদক সেবনের ঘটনা ঘটছে। এতে শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচলেও সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না বলেও জানিয়েছেন কয়েকজন বাসিন্দা।
গ্রেপ্তারের পর জামিন, ফের ব্যবসার অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছুদিন আগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও কাপাসিয়া থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে দুইজন কথিত মাদক ব্যবসায়ী আটক হন। পরে তারা জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
এছাড়া, মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ভয়ভীতি দেখান এবং চড়াও হওয়ার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে সাফাইশ্রী এলাকার মানিক চন্দ্রের জমিতে দুই ব্যক্তিকে মাদক সেবন করতে দেখা গেছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। তাদের মধ্যে তুলিব ও হাফেজ নামে দুইজনকে স্থানীয়রা শনাক্ত করেছেন।
এ বিষয়ে কাপাসিয়া থানা পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।
এই নিউজ পোর্টাল এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ।