স্টাফ রিপোর্টার : সিরাজগঞ্জের ফুলঝোড় নদীর ড্রেজিংয়ে উত্তোলিত বালি অপসারনের নিলাম কার্যাদেশ বাতিলের আদেশ বিষয়ে হাইকোর্টের রুল এবং বাজেয়াপ্ত বালু নিলামে বিক্রিতে স্থগিতাদেশ বিষয়ে অবহিত করে জেলা প্রশাসক ও নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে এ্যাডভোকেট সার্টিফিকেট প্রেরন করা হয়েছে।
একই বিষয়ে একই সার্টিফিকেট প্রেরন করা হয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক বরাবরেও। এদিকে নলকা ব্রিজ এলাকার স্তুপকৃত বালির নিলাম সম্পন্ন হলেও (শনিবার অবধি) দেওয়া হয়নি কার্যাদেশ।
বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) ফাইজি এন্ড লিগ্যাল এ্যামিকোরাম এর আইনজীবি আব্দুস সালাম রিটকারির পক্ষে এই সার্টিফিকেট প্রদান করেন। এর আগে ২৯শে অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) মান ইন্জিনিয়ারিংয়ের পক্ষে হাইকোর্টে রিটটি (কেস নং-১৫৩৩০/২০২৬) দায়ের করা হলে ১লা নভেম্বর (রবিবার) শুনানি শেষে ২রা নভেম্বর (সোমবার) হাইকোর্টের বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজি ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের দ্বৈত বেঞ্চ পানি উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও অন্যান্যদের প্রতি এই রুল ও ইনজাংশন জারি করেন।
উল্লেখ্য, বাঙ্গালি-ফুলঝোড়-হুরাসাগড়-করতোয়া নদী সিস্টেম ড্রেজিং ও তীর সংরক্ষন প্রকল্পে উত্তোলিত বালির সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার আলোকদিয়া পয়েন্টের স্তুপ থেকে বালি অপসারনের নিলাম লাভ করে মান ইঞ্জিনিয়ারিং। চলতি বছরের ২রা ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বিভাগের স্মারক নং-ডব্লিউ-১৪/৪৮২ নং পত্রে কার্যাদেশ পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির প্রধান মো: আবুল কালাম আযাদ বালি অপসারন শুরু করে। অপসারন করা বালির একাংশ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার নলকা সেতু সংলগ্ন এলাকায় ইজারাকৃত জমিতে স্তুপ আকারে জমা করে। কিন্তু হঠাৎই মেয়াদ উত্তিন হওয়ার কারন দেখিয়ে ৭ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ এ জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জেলা ড্রেজিং ও ড্রেজড ম্যাটেরিয়ালস ব্যাবস্থাপনা ও মনিটরিং কমিটির সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক চিঠিতে বালির নিলাম কার্যাদেশ বাতিল করা হয়। কমিটির ঐ সভার ৫নং সিদ্ধান্তবলে নলকায় স্তুপকৃত বালি নিলামে বিক্রি করা হয়।
অথচ নিলাম কার্যাদেশের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন দায়ের করা ছিলো। এতে আর্থিক ও ব্যাবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে মান ইন্জিনিয়ারিংয়ের পক্ষে মো: আবুল কালাম আযাদ হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।
এদিকে হাইকোর্টের ইনজাংশন থাকা জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার নলকা সেতু সংলগ্ন এলাকায় ইজারাকৃত জমিতে স্তুপকৃত বালির নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও দেওয়া হয়নি কার্যাদেশ। ঐ বালি উত্তোলন ও স্তুপকারি প্রতিষ্ঠান মান ইন্জিনিয়ারিং রিট দায়েরের পূর্বেই গত ২৬শে অক্টোবর নিলাম সম্পন্ন করে জেলা ড্রেজিং ও ড্রেজড ম্যোটেরিয়ালস ব্যাবস্থাপনা ও মনিটরিং কমিটি।
রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল খালেক পাটোয়ারির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত উন্মুক্ত নিলামে সর্বচ্চ দরদাতা নির্বাচিত হয় মো: মনির হোসেন। নিলামের দুদিন পর ২৮শে অক্টোবর ও পরদিন ২৯শে অক্টোবর দুদফায় মোট ১৯ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা জমা করেও ৭ই নভেম্বর (শনিবার) অবধি কার্যাদেশ পাননি মো: মনির হোসেন।
এই নিউজ পোর্টাল এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ।