পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের দিন সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার একমাত্র প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর পারিবারিক বান্ধব সরোবর পার্ক এন্ড রিসোর্ট । ভ্রমণ পিয়াসী ও বিনোদন প্রেমিদের ঢল নেমেছে এ পার্কে। ফলশ্রুতিতে ভরা যৌবনে ভরপুর পার্কটি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে শনিবার (২২ এপ্রিল) সরোবর পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টজুড়ে বইছে ঈদের আমেজ। ঈদের দিন সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়ে মুখর হয়ে উঠেছে পার্কটি। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পার্কটি সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। সংযোজন করা হয়েছে নতুন নতুন রাইডস।
অন্যদিকে, এখানে আসা শিশুদের যেন আনন্দের শেষ নেই। বাবা-মাকে রেখে তারা এদিক-ওদিক ছুটছে। একটা রাইড শেষতো আরেকটার জন্য বায়না করছে। রাইডে বুঁদ হওয়া শিশুরা ঈদ আনন্দে মাতোয়ারা।
উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের সোনারায় বাজারের অদূরে প্রায় ১৫ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা দৃষ্টিনন্দন পার্কটিতে রয়েছে বিশাল পুকুর ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটানোর পাশাপাশি এখানে রয়েছে হানি সুইং, ওয়াটার রাইড, প্যাডেল বোট, জলযান, ট্রেন ও স্লিপারসহ বিনোদনের নানান সুবিধা। ফলে যেকোনো বয়সী মানুষের ঈদ বিনোদনের অন্যতম মাধ্যমে পরিণত হয় এ পার্ক।
সূত্র মারফত জানা গেছে, সরোবর পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টে প্রবেশ মূল্য ৩০ টাকা। এছাড়া রাইডপ্রতি ২০-৩০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। এসব রাইডে শিশুদের পাশাপাশি বড়রাও চড়ছেন।
সুন্দরগঞ্জের সীমান্তবর্তী উপজেলা পীরগাছার বাসিন্দা লিয়াকত আলী বলেন, অফিসের কাজের চাপের কারণে অনেক সময় সন্তানকে নিয়ে বের হওয়ার সময় পাওয়া যায় না। এর আগেও এখানে সে মায়ের সঙ্গে এসেছে। ঈদের আগের দিন থেকে বলতেছে, বাবা আবারও সেই পার্কে ঘুরতে নিয়ে যেতে হবে। এখন পর্যন্ত দুটি রাইড করালাম, দেখি আর কীসে কীসে চড়তে পারে।
রামিশা নামের এক শিশুর মা বলেন, রামিশা বায়না ধরলে কয়েকদিন পরপর এখানে নিয়ে আসতে হয়। ঈদ উপলক্ষ্যে আজও নিয়ে আসলাম।
কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলা থেকে মাইক্রোবাসে করে ঘুরতে আসা শহিদুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, অন্যান্য কর্মব্যস্ততায় থাকায় ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ হয় না। তাই ঈদের ছুটিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এই পার্কে এসেছি। অন্য দিকে রংপুরের মিঠাপুকুর থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে আসা নুর মোহাম্মদ বলেন,‘ঈদ মানে আনন্দ। তাই বন্ধুরা মিলে সরোবর পার্কে ঘুরতে এসেছি। নিরিবিলি পরিবেশে পার্কটিতে ঘুরতে অন্যরকম মজা।’
পাঁচ বছরের ছেলে আহনাফ আদিব মাহিনকে নিয়ে পার্কে এসেছেন আঞ্জুমানারা । তিনি বলেন, ‘ঈদতো শিশুদের। তাই ছেলেকে নিয়ে এলাম। অনেক ভিড়। একেকটা রাইডে উঠতে প্রচুর সময় চলে যাচ্ছে। তারপরও ছেলেটা আনন্দ পাচ্ছে। তাতেই আমি খুশি।’
উপজেলার তারাপুর ইউনিয়ন থেকে পার্কে আসা দর্শনার্থী শাকিল আহমেদ বলেন, ‘ঈদের নামাজের পর বাড়তি আনন্দ পেতে পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে এসেছি। নিত্যনতুন রাইডের পাশাপাশি পার্কটির পরিবেশ সত্যিই সুন্দর।’
পিন্টু কুমার সরকার নামের স্থানীয় এক সংবাদকর্মী বলেন, উপজেলা শহরের খুব কাছে হওয়ায় পার্কটি এ অঞ্চলের বিনোদনপ্রেমীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আগের তুলনায় পার্কটির অনেক নতুনত্ব এসেছে।’
সরোবর পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী জেসমিন আক্তার বলেন, প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পার্ক খোলা থাকছে। প্রবেশে লাগে মাত্র ৩০ টাকা। অন্যান্য রাইডগুলোও নামমাত্র মূল্য।
তিনি আরও বলেন, সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় তেমন কোনো দর্শনীয় স্থান না থাকায় এ পার্কটি গড়ে তোলা হয়েছে। সব বয়সী মানুষের সুস্থ বিনোদনের কথা চিন্তা করেই পার্কে নতুন নতুন রাউডসহ বিভিন্ন উপকরণ যুক্ত করা হচ্ছে।
এই নিউজ পোর্টাল এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ।