হাসপাতাল করিডোরে তখনো এক মায়ের বুক ফাটা কান্নার শব্দ ভাসছিল। গত বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট রাত তখন ১০ টা গর্ভপাত হয়ে জন্ম নিয়েছে এক নিথর শিশু। সন্তানের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো পরিবার যখন শোকস্তব্ধ ঠিক তখনই সরকারি এক কর্মকর্তার অমানবিক কর্মকান্ড সামনে এলো। পরিবারের দাবি মৃত শিশুটি দাপনের ব্যবস্থা না করে
তিনি বলেন,২ হাজার টাকাদেন ফেলে দেওয়ার ব্যবস্থা করছি।
ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কোনাবাড়ী আমবাগ বোডঘর এলাকায় অবস্থিত কোনাবাড়ী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে। গত বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট রাত ১০ টার সময় ।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান,প্রসববেদনা ওঠার পর গর্ভবতী ওই গৃহবধুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্ত চিকিৎসকদের প্রাণপণ চেষ্টার পরও শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। বাচ্চাটি মারা যাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা শোক সামলানো নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লে কোনাবাড়ী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শকা
রোকসানা গণি বাচ্চাটি ফেলে দেওয়ার কথা বলে ২ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে তার দাবি অনুযায়ী ২ হাজার টাকা দেয়া হয় হয় বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবার। এরপর পলিথিনে করে বাচ্চার মরদেহ ব্রীজের নিচে ফেলে দেওয়া হয়।
এদিকে ঘটনার দুই দিনপর ওই ব্রীজের নিচে নবজাতক শিশুটির মরদেহ ভেসে উঠে। এটি দেখার পর স্থানীয়রা কোনাবাড়ী থানা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ নবজাতকের মৃতদেহ উদ্ধার করে তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। এরপর পুলিশ খোঁজখবর নিয়ে নবজাতক পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টা নিয়ে কথা বলে।
ভুক্তভোগী গৃহবধূ ফাতেমা (১৪) ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট থানার মণিপুর গ্রামের হৃদয় (৩০) এর স্ত্রী। তিনি স্বামীর সাথের আমবাগ বোর্ডঘর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
নিহত শিশুর দাদি রোজিনা বেগম বলেন,গত বৃহস্পতিবার রাত ১০ টার সময় আমার ছেলের বউকে নিয়ে কোনাবাড়ী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ভর্তি করি। ডাক্তার আপা অনেক চেষ্টা করছে তারপরও শিশুটি মৃত জন্ম নেয়। পরে
আপা কইছে ২ হাজার টাকা দেন বাচ্চা ফালাইয়া দিবো । কিন্তু তিনি টাকা নিয়া আমারে কয় একটা ব্যাগে নিয়া আমবাগ ব্রীজের নিচে ফালাইয়া দিয়া আসেন। পরে আমি বাচ্চা ফালাইয়া দিছি।
এ বিষয়ে জানতে কোনাবাড়ী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিদর্শিকা রোকসানা গণি সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,এসব মিথ্যা কথা। আমাকে ফাঁসানোর জন্য মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে। ভাই আপনারা একটু খেয়াল রাইখেন।
কোনাবাড়ী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা ডাঃ ফাহিমা আক্তার বলেন,শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে জানতে পারি একটু ছেলে শিশু মৃত জন্ম গ্রহণ করে। টাকা নিয়ে বাচ্চা ফেলে দেওয়ার বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে
ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন কোনাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) হেলাল উদ্দিন জানান,আজ দুপুরে আমবাগ ব্রীজের পাশে এক নবজাতকের লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে ওই নবজাতকের লাশ উদ্ধার করে জিডি মূলে ময়না তদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এই নিউজ পোর্টাল এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ।