আশরাফুল হক, লালমনিরহাট : লালমনিরহাটে চাঁদা না দেওয়ায় বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদকের ওপর হামলা ও গলা চেপে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় লালমনিরহাট সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী।
অভিযোগকারী মো. রাসেল হক (৩০) বাংলাদেশ প্রেসক্লাব, লালমনিরহাট জেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক ও প্রেসক্লাবের সদস্য। তার বাড়ি মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের গবাই এলাকায়।
অভিযোগে জানা যায়, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ১নং বিবাদী মো. রশিদুল ইসলাম (৪৫) নিজেকে বিএনপির নেতা পরিচয় দিয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও জুয়াসহ বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছিল। তার ধারাবাহিকতায় প্রায় ১ বছর ধরে বিবাদীরা মোবাইল ফোনে তাকে বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে ৫০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা না দিলে হাত-পা ভেঙে দেওয়া ও মিথ্যা মামলার হুমকিও দেওয়া হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, চাঁদা না দেওয়ায় বিবাদীরা তার বিরুদ্ধে ২টি মিথ্যা মামলা দিয়েছে যা বর্তমান আদালতে চলমান।
গত ১ আগষ্ট বেলা অনুমান ৩টার দিকে সাংবাদিক রাসেল হক তার সহকর্মী দুর্জয় চন্দ্র রায় ও সাধন চন্দ্র রায়সহ লালমনিরহাট রেলওয়ের মুক্ত মঞ্চে গাছের ছায়ায় বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। এসময় ১ ও ২ নং বিবাদীসহ অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জন ৪/৫টি মোটরসাইকেলযোগে এসে তাকে ঘিরে ধরে। ১নং বিবাদী তার হাত ও ২নং বিবাদী মো. শামীম মিয়া (২৬) শার্টের কলার ধরে ৭৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকার করলে তারা তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকে। একপর্যায়ে ১নং বিবাদী তার বুকের ওপর চেপে বসে দুই হাত চেপে ধরে এবং ২নং বিবাদী দুই হাত দিয়ে তার গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করে।
আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক রাসেল হক অভিযোগে চাঁদাবাজি, হামলা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ বলেন, অভিযোগটি পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই নিউজ পোর্টাল এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ।