শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসব আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের দীর্ঘ ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল প্রতিফলন। সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাইবোনেরা যেন নিরাপদে, নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে তাঁদের ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি) সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি)-এর অধিনায়কের সার্বিক নেতৃত্ব, দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে একটি সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ পরিকল্পনার আওতায় পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি, সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, জনপ্রতিনিধি ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক নিরাপত্তা কার্যক্রমের সার্বিক তদারকি, দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় জোরদারের মাধ্যমে পূজাকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। একই সঙ্গে গুজব, অপতথ্য ও সাম্প্রদায়িক উসকানি প্রতিরোধ এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক ও প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, বান্দরবান সদর ও থানচি উপজেলায় ০৪টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি) দায়িত্ব পালন করবে। পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার লক্ষ্যে ০৩টি বেইজ ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এসব বেইজ ক্যাম্পের মাধ্যমে দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার, নিয়মিত টহল পরিচালনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সহায়তা প্রদান করা হবে।
আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি)-এর সদস্যরা দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবেন। এ সময় বান্দরবান সদর ও থানচি উপজেলায় ব্যাটালিয়নের মোতায়েন ও দায়িত্বের পরিধি সরকারি নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। ব্যাটালিয়ন অধিনায়কের নির্দেশনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা সহায়তা প্রদান এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকবেন।
বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি)-এর অধিনায়ক বলেন, ধর্মীয় উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা বিজিবির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তাঁর নেতৃত্বে ব্যাটালিয়ন পেশাদারত্ব, নিষ্ঠা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি গুজব ও অপপ্রচার থেকে বিরত থাকা এবং যেকোনো সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে নিকটস্থ বিজিবি বেইজ ক্যাম্প বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি) দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব। সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জননিরাপত্তা, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে বিজিবি সর্বদা জনগণের পাশে রয়েছে। শারদীয় দুর্গাপূজার আনন্দ ও উৎসবের পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখতে ব্যাটালিয়নের প্রতিটি সদস্য দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে অঙ্গীকারবদ্ধ।
এই নিউজ পোর্টাল এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ।