সুগন্ধা নদীর তীরে বসবাসরত বেদে জনগোষ্ঠীর শিশুদের জন্য পরিচালিত শালিণ্য’র স্যাটেলাইট স্কুলের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয়েছে। নিরক্ষরতা দূরীকরণের লক্ষ্যে এটি ছিল শালিণ্য’র চতুর্থ উদ্যোগ, যা স্থানীয় পর্যায়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
এই কার্যক্রমের মাধ্যমে সংগঠনটি বেদে শিশুদের শিক্ষা ও সামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় পর্যবেক্ষণ করেছে। দেখা গেছে, এসব শিশুদের মধ্যে পড়াশোনার প্রবল আগ্রহ থাকলেও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার অভাব রয়েছে। পাশাপাশি তারা সাংস্কৃতিকভাবে অত্যন্ত প্রতিভাবান হলেও প্রতিভা বিকাশের যথাযথ সুযোগ পাচ্ছে না। সংগঠনের সম্পাদক কিশোর চন্দ্র বালা জানান, যথাযথ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে এই শিশুরাও দেশের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে এবং জাতীয় উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। তবে পারিবারিক সচেতনতার অভাব এবং পুরনো সামাজিক রীতিনীতি থেকে বেরিয়ে আসার সীমাবদ্ধতা তাদের অগ্রগতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে সহমর্মিতা ও আন্তরিকতার অভাবের কারণে এই জনগোষ্ঠী এখনও সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।
শালিণ্য বরিশাল সদর উপজেলার নিবার্হী পরিচালক সাফিন ইমতিয়াজ লিয়ন বলেন, সকল সমালোচনা উপেক্ষা করে শালিণ্য সবসময় নতুন কিছু করার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এই উদ্যোগে স্থানীয় যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করা সম্ভব হয়েছে এবং তাদের মধ্যে বেদে শিশুদের প্রতি মানবিকতা ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করা গেছে।
নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত এই কার্যক্রমের আওতায় ইতোমধ্যে শিশু জরিপ, শিশু ও অভিভাবকদের নিয়ে ইফতার আয়োজন, বেদে কলোনির ১৫টি পরিবারের মধ্যে ঈদ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, ১২ দিনের পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা এবং শিক্ষা উপকরণ (বই, খাতা, পেন্সিল, রাবার, কাটার) সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া পাঠদানে সহায়তাকারী স্বেচ্ছাসেবকদের যাতায়াতের ব্যবস্থাও করা হয়।
এছাড়াও ১৬ জন শিশুর মধ্যে সংগৃহীত পোশাক বিতরণ করা হয়েছে, যা তাদের মধ্যে আনন্দের সঞ্চার করে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদানকারী সকল ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে শালিণ্য।
এই নিউজ পোর্টাল এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ।