গাজীপুরের শ্রীপুরে মা’র কাছে টাকা চেয়ে না পেয়ে ইটের সুরকি দিয়ে মা’কে আঘাত করায় ছেলে খলিলুর রহমানকে (২৬) আটক করে গর্তে (কোমর পর্যন্ত) পুঁতে রাখে স্থানীয়রা। বর পেয়ে এলাকাবাসী ও স্থানীয় পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা ওই বাড়ীতে ভীর জমায়। এ ঘটনায় বাবা নুরুদ্দিন ছেলের বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানায় মামলা দায়ের করেছে। যুবককে গর্তে পুঁতে রাখার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ছেলেকে আটক করে।
খলিলুর রহমান তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি (মধ্যপাড়া) গ্রামের নূরউদ্দিনের ছেলে। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সকাল ১০ টার দিকে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি (মধ্যপাড়া) গ্রামের গ্রীণ স্মার্ট পোশাক করাখানা সংলগ্ন স্থানে ঘটনাটি ঘটে।
খলিলের মা খোদেজা বেগম বলেন, কয়েকদিন আগে ঘর ভাড়ার আড়াই হাজার টাকা তুলে আমার কাছে জমা দেয়। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সকালে ওই টাকা আমার কাছে চাইলে আমি দেয়নি। আমি তাকে বলি বিদ্যুৎ বিল, খাওয়ার বাজার, আমার ঔষধ আনতে হবে। পরে আবার টাকা চায়। আমি টাকা দিতে না চাইলে তর্কের এক পর্যায়ে ইটের সুরকি ঢিল মেরে আমার পায়ের টাকনুর কাছে লেগে আঘাত পায়। তার মাথায় একটু সমস্যা আছে। টাকা দিয়ে বিড়ি অথবা গাঁজা খাইতো হয়তোবা। মাঝে মাঝে টাকা চায়, না দিলে মারে, আরো দুইদিন আমাকে মারছে। আমার ছেলেও আমার মতো অসুস্থ, সেও কাঁপে, কাজকর্ম করতে পারে না। সে (ছেলে খলিল) যখর ক্লাশ ফাইভে পড়ে তখন অনেক অসুস্থ ছিল। তখন বাংলাদেশ মেডিকেল, পিজি হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে এক মাস যাবত থেকে চিকিৎসা করিয়েছি। চিকিৎসক বলেছিল আবার যাওয়ার জন্য। গাফিলতি করে যাইনি, এখন দেখি মাথায় আরো সমস্যা। আগে যে সে আমাকে দুইদিন মারছিল, আমি যে লাঠি দিয়ে ভর করে হাঁটি ওই লাঠি দিয়ে আমিও তাকে দুই দিন মারছি। আমাকে মারার খবর শুনে এলাকাবাসী আসলে আমি তাদেরকে বলেছি তাকে বেঁধে বিচার কর তরা। মাইরা হাত-পা ভেঙ্গে দে। যেহেতু সে কাজ কর্ম করতে পারে না হাত-পা ভেঙ্গে ঘরে বওয়ায়ে রাখে।
খলিলের ভাবি রেহেনা আক্তার বলেন, সকালে একজন ফোন করে আমাকে জানায় খলিল তার মাকে মারছে। খবর পেয়ে এসে দেখি সত্যিই তার মাকে খলিল মারছে। পরে পাড়া-প্রতিবেশি এবং মুরুব্বিরা তাকে গর্তের মধ্যে বুক পর্যন্ত মাটি চাপা দিয়ে রাখে। পরে সে একাই গর্ত থেকে উঠে গেলে আবার তাকে ধরে বেঁধে রাখে। তার মাকে টাকার জন্য সে আরো দুইদিন মারধর করছে। সে মাঝে মাঝে একটু নেশা করে। তবে, আজকে নেশা করে নাই সুস্থই ছিল। খলিলের নানির বাড়ীর লোকজন এসে একটু মারছে তাকে।
খলিলের বাবা নুরুদ্দিন বলেন, খলিল তার মার কাছে টাক চাইছিল। না দেয়ায় সে তার মাকে মারধর করেছে। খবর পেয়ে তার মামাতো ভাইয়েরা এসে কিছু বিচার (মারধর) করছে। পরে তাকে খুঁটিতে বেঁধে রাখছিল। পরে আনছার টেপিরবাড়ী-ছাতির বাজার সড়কের পশ্চিম পাশে (গ্রীণ স্মার্ট পোশাক করাখানা সংলগ্ন স্থানে) গর্তে পুঁতে রাখে। তবে গর্তে পুঁতে রাখার বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারব না। খলিল নেশা করে কিনা জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, আমি আলাদা থাকি। তার মা মামলা করার পর আমি এক সপ্তাহ জেল খাটি। পরে একটু জমি দিয়ে তার মামার সাথে আমার মীমাংসা হয়। এরপর থেকে আমি তাদের কাছ থেকে একেবারেই বিচ্ছিন্ন (আলাদা) বসবাস করি। সামনে একটা দোকান ছিল। তখন দেখছিলাম ভালোভাবে চলাফেরা করছে।
শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুহাম্মদ আবুল বাশার বলেন, মাকে মারধরের ঘটনায় তার বাবা নুরুউদ্দিন বাদী হয়ে ছেলে খলিলকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছে।
এই নিউজ পোর্টাল এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ।