দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ চলতি অর্থবছরেই শুরু

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ গত ২ এপ্রিল বাংলাদেশে এসেছিলেন। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎকালে দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। এবার সেই দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকাজ শুরুর দিনক্ষণ নির্ধারণের কাজ চলছে। চলতি অর্থবছরের মধ্যেই এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ডিসেম্বর মাসেও দ্বিতীয় বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ শুরু হতে পারে।
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক পরমাণু বিজ্ঞানী ড. শৌকত আকবর জানিয়েছেন, প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ একেবারেই শেষ পর্যায়ে রয়েছে। দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ চলছে। কিন্তু আমরা বসে নেই। আমরা দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। রসাটম এর পক্ষ থেকেও প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। তিনি জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরেই দ্বিতীয় বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ শুরু হবে বলে আশা করছি। এই বিষয়ে রসাটমের সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় প্রকল্পটিও রূপপুরের একই স্থানে পাশাপাশি নির্মাণ করা হবে। ফলে প্রাথমিক অনেক কার্যক্রম ইতোমধ্যেই এগিয়ে আছে। প্রথম প্রকল্পের কাজ শুরুর আগে যেসব কাজ করার জরুরি হয়েছিল, এখন সেগুলোর আর প্রয়োজন নেই। ভূমি উন্নয়ন কার্যক্রম নতুন করে করার কিছুই নেই; ভূমি প্রস্তুত, শুধু কাজ শুরুর অপেক্ষা। শৌকত আকবর আরো জানান, বিভিন্নভাবে জরিপ ও সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, দক্ষিণাঞ্চলের মাটি দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উপযোগী নয়। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ সম্ভব না হলেও দক্ষিণাঞ্চলে ক্ষুদ্র পারমাণবিক (এসএমআর) বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের প্রথম দিকে রূপপুরে নির্মাণাধীন প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করতে যাচ্ছে। এ সময় প্রথম ইউনিট চালু হবে। এজন্য শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। রসাটমের প্রকৌশলীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। বর্তমানে দুই ইউনিট বিশিষ্ট এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এই প্রকল্পের পাশেই দ্বিতীয় প্রকল্পটি নির্মাণ করা হবে। ইতোপূর্বে দ্বিতীয় প্রকল্পের জন্য দেশের দক্ষিণাঞ্চলে কয়েকটি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছিল। কিন্তু সেখানকার মাটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উপযোগী না হওয়ায় স্থান পরিবর্তন করে রূপপুরেই নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। প্রথম প্রকল্পের পাশেই দ্বিতীয় প্রকল্প নির্মাণ করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দ্বিতীয় প্রকল্পেও রাশিয়া আর্থিক ও প্রযুক্তিসহ সার্বিক সহযোগিতা করবে। সে দেশের রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন-রসাটম এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। একই প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটিও রসাটমের সহযোগিতায় নির্মিত হবে। গত ২ এপ্রিল রসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ বাংলাদেশ সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তখনই দ্বিতীয় প্রকল্পের বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হয়। তখন রসাটমের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এছাড়াও উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন মাল্টিপারপাস গবেষণা রিয়্যাক্টর নির্মাণের বিষয়টিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।