• সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১১:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
ভাঙ্গুড়ায় জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা অনুষ্টিত আগামী চার মাসে প্রাথমিকে নিয়োগ হবে ১০ হাজার শিক্ষক স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকার সঠিক পথেই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন অনেক দেশের অনুপ্রেরণা ২৪ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এলো ১৮ হাজার কোটি টাকা বস্ত্রখাতে বিশেষ অবদান, সম্মাননা পাচ্ছে ১১ সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু করতে আগ্রহী বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সংরক্ষিত ৫০ নারী আসনে সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী সম্মানী ভাতা বাড়ল কাউন্সিলরদের ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশে প্রাণিজ প্রোটিনের অভাব হবে না’ বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে জাতীয় ও আগরতলা প্রেসক্লাবের নেতাদের শ্রদ্ধা সিরবজগঞ্জে চালক-হেলপার হত্যা,মৃত্যুদন্ড পলাতক আসামি গ্রেফতার সিরাজগঞ্জে জেলা পর্যায়ে প্র‌শিক্ষণ প্রাপ্ত ইমাম সম্মেলন অনুষ্ঠিত সিরাজগঞ্জে কৈশোর মেলা অনুষ্ঠিত গাজীপুরে পূর্ব বিরোধের জেরে যুবক খুন সলঙ্গায় যুবককে কুপিয়ে ইজিবাইক ছিনতাই, ৩৬ ঘন্টা পর উদ্ধার আটক ১ নারী এমপিরা সংসদে যোগ দিচ্ছেন চলতি অধিবেশনেই টোলের আওতায় আসছে দেশের সাত মহাসড়ক আলোচনায় মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ পর্যটক টানতে কুয়াকাটায় হচ্ছে বিমানবন্দর

পণ্য আমদানি ও রপ্তানিতে অর্থ ব্যয়, ভোগান্তি কমবে

Kolomer Batra / ২৪ বার পড়া হয়েছে।
সময় কাল : শনিবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৪

দেশে সহজে পণ্য আমদানি-রপ্তানির জন্য লজিস্টিকস খাতের কোনো নীতিমালা নেই। ফলে পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় সময় লাগছে অনেক বেশি। এতে অর্থ ব্যয় ও ভোগান্তি বাড়ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য।এই লোকসান থেকে উত্তরণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় তৈরি করছে জাতীয় লজিস্টিকস উন্নয়ন নীতি।

এই নীতিমালা বাস্তবায়ন হলে জাতীয় প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষ পণ্য পরিবহন ও সেবা নিশ্চিত করা যাবে।রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালে এলডিসি উত্তরণের পরে বাংলাদেশের শুল্ক ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা হারানোর কথা রয়েছে। তাই শুল্ক ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা হারানোর আগেই ব্যবসা-বাণিজ্যে সক্ষতা অর্জনের জন্য সরকার এই নীতি দ্রুত কার্যকর করবে।

নতুন নীতি সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, গ্রাহকের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে তার কাঙ্ক্ষিত পণ্য বা পরিষেবা প্রবাহের প্রারম্ভিক স্থল থেকে সর্বোত্তম পদ্ধতিতে, স্বল্পতম ব্যয়ে এবং সুনির্দিষ্ট সময়ে চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য সম্পৃক্ত সব মাধ্যম ও কার্যক্রমের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা। এর মাধ্যমে বিশ্বমানের প্রযুক্তিভিত্তিক, সময়-ব্যয়সাশ্রয়ী, সুদক্ষ ও পরিবেশবান্ধব লজিস্টিকস ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। দেশীয়-আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সক্ষমতা বৃদ্ধি করে টেকসই ও অভীষ্ট অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে।

জানতে চাইলে দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) পরিচালক সৈয়দ মো. বকতিয়ার কালের কণ্ঠকে বলেন, বর্তমানে ইউরোপ-আমেরিকার একজন ক্রেতা বাংলাদেশের গার্মেন্টস পণ্যের জন্য এলসি খোলার পর সেটি পৌঁছাতে ৯০ থেকে ১২০ দিন সময় লাগছে।

অনেক ক্ষেত্রে আরো বেশি সময় লাগে। অথচ চীন, ভিয়েতনাম, ভারত, মিয়ানমার, পাকিস্তানসহ প্রতিযোগী দেশগুলো এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে তাদের পণ্য পৌঁছে দিচ্ছে। নৌ-স্থলবন্দর ও কাস্টমসের নানা জটিলতার কারণে পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে সময় বেশি লাগছে। এতে অর্থ ব্যয় বেশি হচ্ছে। তিনি বলেন, লজিস্টিকস নীতি বাস্তবায়ন হলে ব্যবসায়ীদের সময়, অর্থ ও হয়রানি কমবে।এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে তদারকি করতে হবে। অনলাইনে দিতে হবে স্থল-নৌবন্দর এবং কাস্টমসের সব সেবা। বন্দর ও জেটিগুলোর দ্রুত আধুনিকায়ন করতে হবে।

সৈয়দ মো. বকতিয়ার বলেন, এই নীতিমালা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারলে স্বল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ব্যাঙ্ককের চেয়ে উন্নতি লাভ করবে।

বন্দর ও কাস্টমসে কমবে ভোগান্তি

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, খসড়া নীতিতে পণ্যের লজিস্টিকস সব সেবা অনলাইনে দেওয়ার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে নতুন এই নীতি কার্যকর হলে দেশি ও আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্যে অনেক ধরনের সুবিধা বাড়বে। কম সময়ে বন্দরের কনটেইনার ও কার্গো লোডিং-আনলোডিং করা যাবে। কাস্টমসে এইচএস কোডে হেডিং ও পণ্যের বর্ণনা সংক্রান্ত ভোগান্তি কমবে। বর্তমানে নানা অজুহাতে বন্দর ও কাস্টমসে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

এ ছাড়া এলডিসি-উত্তর সময়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সক্ষমতা ধরে রাখতে লজিস্টিকস খাতের ভূমিকা অনেক বেশি। ফলে এ নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য হলো, লজিস্টিকস সেবায় দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে বিলম্ব ও ব্যয়ের ক্রমহ্রাস নিশ্চিত করা; বহুমাধ্যমভিত্তিক লজিস্টিকস অবকাঠামো গড়ে তোলা; ট্যাকিং ও ট্রেনিং, অটোমেটেড বা ডিজিটাইজড লজিস্টিকস ব্যবস্থাপনা চালু করা; কাস্টমসসহ অন্যান্য পদ্ধতি সহজীকরণ; দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা; দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ; লজিস্টিকস পারফরম্যান্স সংক্রান্ত বিভিন্ন সূচকের ক্রমোন্নতি; সুরক্ষা, নিরাপত্তা, কমপ্লায়েন্স, অন্তর্ভুক্তিমূলক, জেন্ডার সংবেদনশীল ও পরিবেশবান্ধব নীতি কার্যকর; ফলপ্রসূ ও কার্যকর উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা গ্রহণ করা।

জাতীয় লজিস্টিকস উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সদস্যসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (নির্বাহী সেল) শাহিদা সুলতানা কালের কণ্ঠকে বলেন, পণ্য আমদানি এবং রপ্তানির পুরো প্রক্রিয়ার মধ্যে যে খরচ সেটা কমানোর জন্যই এই নীতি বড় ভূমিকা রাখবে। পণ্যের উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটা হলো লজিস্টিকস সাপোর্ট। ফলে এই প্রক্রিয়ার মধ্যে ব্যয় কমানোর জন্য যে কাজ সেটাই এই নীতির মাধ্যমে করা হচ্ছে। এর আগে আমাদের দেশে এমন কোনো পলিসি ছিল না। এখন সরকারি-বেসরকারি সব ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান ও অংশীজনদের মতামত নিয়ে এটা তৈরি করা হচ্ছে।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে যেকোনো রাষ্ট্রের সক্ষমতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বন্দরের লজিস্টিকস ব্যবস্থাপনার দক্ষতার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হয়ে থাকে। বন্দরের লজিস্টিকস খাতে দক্ষ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে দ্রুত একটি লজিস্টিকস নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, লজিস্টিকস খাতের উন্নয়নে ২০১৯-২০ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বিশ্বব্যাংকের মুভিং ফরওয়ার্ড প্রতিবেদন উদ্বোধন এবং লজিস্টিকস ইনফ্রাস্টাকচার ডেভেলপমেন্ট ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করে। ২০২২ সালে জাতীয় শিল্পনীতি এ লজিস্টিকস খাতের স্বীকৃতি নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ছাড়া জাতীয় লজিস্টিকস উন্নয়ন নীতি প্রণয়নে বৈশ্বিক উত্তম চর্চা বিবেচনায় দুই দিনব্যাপী কর্মশালা আয়োজন করা হয়।

২০২৩ সালে জাতীয় লজিস্টিকস উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটি এবং পাঁচটি উপকমিটি গঠন করা হয়। লজিস্টিকস উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির প্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া। পাঁচটি উপকমিটির নেতৃত্বে আছে শিল্প, বাণিজ্য, নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এসব কমিটিতে দেশের ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতা ও অংশীজনরা সদস্য হিসেবে রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে জাতীয় লজিস্টিকস উন্নয়ন নীতির খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। জনগণের মতামতের জন্য শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। জনগণের মতামতের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিলে এই নীতি চূড়ান্ত হবে। এর সঙ্গে সহযোগী সংস্থা হিসেবে কাজ করছে বিশ্বব্যাংক ও বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট (বিল্ড)।

আধুনিকায়ন হবে বন্দর ও জেটি

জাতীয় লজিস্টিকস উন্নয়ন নীতি পুরোপুরি কার্যকর করতে আধুনিকায়ন করা হবে নৌ ও স্থলবন্দর এবং জেটি। এ জন্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর কাছে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া সঙ্গে সম্প্রতি সাক্ষাৎ করেন ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) কান্ট্রি ম্যানেজার মার্টিন হল্টমান। এ সময় তোফাজ্জল হোসেন মার্টিন হল্টমানকে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে অনুরোধ করেন। একই সঙ্গে ‘জাতীয় লজিস্টিকস উন্নয়ন নীতি’ বাস্তবায়নে এবং বন্দর ও জেটি নির্মাণে আইএফসির সহযোগিতা চেয়েছেন।

গত ১১ জানুয়ারি বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া ‘জাতীয় লজিস্টিকস উন্নয়ন নীতি’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার সক্ষমতার প্রশংসা করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ নীতি প্রণয়নে বিশ্বব্যাংক সম্পৃক্ত হওয়ায় তাঁকে ধন্যবাদ জানান। একইভাবে গত ২২ জানুয়ারি এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিন্টিং ‘জাতীয় লজিস্টিকস উন্নয়ন নীতি ২০২৪’ প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নতুন এই নীতি বাস্তবায়নে এডিবির সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।

29

Spread the love


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর