• বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ০২:২৩ পূর্বাহ্ন

প্রথম ভাসমান প্যানেলের সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে

কলমের বার্তা / ১৪৬ বার পড়া হয়েছে।
সময় কাল : শনিবার, ৩ জুন, ২০২৩

বছরের শুরুতেই বিদ্যুতে নানামুখী সুখবর দিয়েছিল সরকার। ভারতের আদানি গ্রুপের বিদ্যুৎ, রামপালের দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন শুরু, নেপাল থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানিসহ আরও কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ করার ঘোষণা দেয় সরকার। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব, বিশ্ববাজারে জ্বালানির ঊর্ধ্বমূল্য, ডলার সংকটে কয়লা আমদানি বন্ধসহ নানামুখী কারণে সম্প্রতি কঠিন সময় পার করছে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত। এমনকি কয়লা সংকটে বন্ধ হতে যাচ্ছে দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র পায়রার দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদনও।

এ সংকটের সময় সুখবর পাওয়া গেল নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে। প্রথমবারের মতো দেশের জাতীয় গ্রিডে যোগ হলো ভাসমান সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ। পরিমাণে খুবই কম হলেও তা সফলভাবে পরীক্ষামূলক সময় পার করলে দেশের বিদ্যুৎ খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বুলনপুরে প্রথম ভাসমান সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র ॥ উত্তরের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের বুলনপুরে দেশের প্রথম ভাসমান সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন শুরু হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২ দশমিক ৩ মেগাওয়াট। প্রকল্পটির ফলে একই জলাশয় থেকে মিলবে মাছ ও বিদ্যুৎ। এ সব তথ্য জানিয়েছেন খোদ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি জনকণ্ঠকে বলেন, আগামী কয়েক মাস আমরা এই জলাশয়ে মাছের বৃদ্ধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করব। পরিবেশগত ভারসাম্য অটুট থাকলে পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন জলাধারে আমরা আরও বড় পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেব। দেশের লোডশেডিং ও জ্বালানি সংকটের এই সময়ে এমন পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরাও। তবে জীববৈচিত্র্যে নেতিবাচক কোনো প্রভাব যাতে না পড়ে, এ বিষয়টিকেও নজরে নেওয়ার দাবি তাদের।

দেশের একমাত্র ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বুলনপুরের দুটি পুকুরে। এই কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডেও। বিদ্যুৎসংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়া বিদ্যুৎ চাঁপাইনবাবগঞ্জে লোডশেডিং কমাতে ভূমিকা রাখবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের আতাহার এলাকার বুলনপুরে অবস্থিত নবাব অটো রাইস মিল। এই মিলের ভেতরে রয়েছে ছোট-বড় সব মিলিয়ে ৫২টি পুকুর। এর মধ্যে দুটি পুকুরে পরীক্ষামূলকভাবে সম্প্রতি সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। নেট মিটারিং পদ্ধতিতে এই প্রকল্পের অংশীদার নবাব অটো রাইস মিল, জুলস পাওয়ার লিমিটেড ও জাতীয় পাওয়ার গ্রিড।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘণ্টায় গড়ে ২ দশমিক ৩ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কেন্দ্রটির দশমিক ৮ মেগাওয়াট (৮০০ কিলোওয়াট) সৌর প্যানেল ভাসমান অবস্থায় স্থাপন করা হয়েছে অটো রাইস মিল মালিকের পুকুরের পানির ওপর। বাকি সৌর প্যানেল বসানো হয়েছে ওই রাইস মিলের ছাদে। সব মিলিয়ে মোট ১৫০০টিরও বেশি সোলার প্যানেলের ব্যবহার করা হয়েছে। সোমবার এই কেন্দ্র থেকেই উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়া শুরু হয়েছে।

জুলস পাওয়ার লিমিটেডের হেড অব বিজনেস ডেভেলপমেন্ট মোহাম্মদ নাহিদুজ্জামান বলেন, ওপেক্স মডেলের আওতায় অনগ্রিড এই সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মিত হয়েছে। আমাদের প্রতিষ্ঠান নিজস্ব অর্থায়নে কেন্দ্রটি নির্মাণ করেছে। ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনও শুরু হয়েছে। বর্তমানে এখান থেকে উৎপাদিত প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ৮ টাকা ১০ পয়সা দরে কিনছেন অটো রাইস মিল কর্তৃপক্ষ। কয়েক দিন আগেও এই মিল মালিক বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি নেসকোর কাছ থেকে ১০ টাকা ৬০ পয়সা দরে বিদ্যুৎ কিনছিলেন। অর্থাৎ প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য তার আড়াই টাকা সাশ্রয় হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, প্রতি মাসে উৎপাদিত বিদ্যুতের ইউনিট হিসেবে বিল পরিশোধ করবেন মিল মালিক। এভাবে ১২ বছর ধরে বিল পরিশোধের পর পুরো কেন্দ্রটি বিনামূল্যে ওই ক্রেতার কাছে হস্তান্তর করা হবে। এরপর তিনি এই কেন্দ্র থেকে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সামান্য কিছু রক্ষণাবেক্ষণের খরচ লাগতে পারে।

পানিতে সৌর প্যানেল ভাসানোর জন্য ফুড গ্রেডের প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়েছে। এতে করে পানি কিংবা মাছের কোনো ক্ষতি হবে না। আগামী ২০ বছর এর গুণগত মান অক্ষুণœ থাকবে। পানিতে সৌর প্যানেলগুলো এমনভাবে বসানো হয়েছে যেন মাছের স্বাভাবিক জীবনচক্রে ব্যাঘাত না ঘটে, সেদিকেও খেয়াল রাখার কথা জানালেন নাহিদুজ্জামান।

আগামী দুই বছরের মধ্যে সোলার থেকে অন্তত ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে বছরের শুরুতেই স্বাক্ষরিত হয় সিরাজগঞ্জ ৬৮ মেগাওয়াট সোলার পার্কের। পাশাপাশি আরও অন্তত ৫টি প্রকল্পের কাজ শুরু করার কথা জানায় বিদ্যুৎ বিভাগ। এর মধ্যে রয়েছে বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্পও। এ সব প্রকল্প থেকে বছরে অন্তত ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে। ন্যূনতম মূল্যে এ সব বিদ্যুৎ পাবেন গ্রাহকরা। ফলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির যে বৈশ্বিক সংকট তা অনেকটাই কাটবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।

বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিদ্যুৎ ॥ বুধবার জাতীয় সংসদে এক বক্তব্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ১১৬৯ দশমিক ৭৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। যার মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ থেকে অফ গ্রিডে ৩৫৭ দশমিক শূন্য ৯ মেগাওয়াট এবং অন-গ্রিডে ৫৭৮ দশমিক ৬৬ মেগাওয়াটসহ মোট ৯৩৫ দশমিক ৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে আরও যত পরিকল্পনা ॥ বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সঙ্গে ৬৮ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সিরাজগঞ্জ সোলার পার্ক প্রকল্পের পাওয়ার পারচেজ এগ্রিমেন্ট (পিপিএ) এবং ইমপ্লিমেন্টেশন এগ্রিমেন্ট (আইএ) সই হয় চলতি বছরের জানুয়ারিতে। এ সময় জানানো হয়, এই প্রকল্প থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বাণিজ্যিকভাবে জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে চলতি বছরের ডিসেম্বরে। এর কিছুদিন পর সৌর বিদ্যুতের সম্প্রসারণে ইন্টারন্যাশনাল সোলার এলায়েন্সের (আইএসএ) সঙ্গে কান্ট্রি পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট সই করে বাংলাদেশ। এ চুক্তির আওতায় সৌর বিদ্যুতের সহযোগিতার ক্ষেত্র সৃষ্টি হবে। এর মাধ্যমে একটি সোলার রোডম্যাপ (২০২০-২০৪১) তৈরি হবে। বাংলাদেশ রাইস রিসার্চ ইনিস্টিউটকে (ইজজও) ২ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১২টি ট্রলি মাউন্টেড সোলার ইরিগেশন সিস্টেম, ২ কিলোওয়াট ক্ষমতার ১২টি পোর্টেবল সোলার ধান মাড়াই যন্ত্র এবং ১.৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার ড্রিংকিং ওয়াটার প্ল্যান্ট সরবরাহ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ ছাড়াও পরিকল্পনায় রয়েছে, ২২ কিলোওয়াট ক্ষমতার দুইটি রুফটপ সোলার স্থাপন এবং যে কোনো একটি রেলওয়ে প্ল্যাটফর্মে রুফটপ সোলার প্রকল্প স্থাপন।

চুক্তি স্বাক্ষরের সময় বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, ফ্লোটিং সোলার প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পাদন ও ফ্লোটিং সোলার প্রকল্প স্থাপনে সহায়তা। পানি বোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন দুটি ম্যানুয়াল স্লুইসগেটকে ফ্লোটিং সোলারের মাধ্যমে অটো স্লুইসগেটে রূপান্তর করা। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং দক্ষতা বৃদ্ধি, তথ্য বিনিময় এবং সর্বোত্তম অনুশীলনকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এ ছাড়া সোলার পাওয়ারড কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনও এ চুক্তির আওতায় সহায়তার ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়। এর বাইরেও পাবনায় ৬৪ মেগাওয়াট সোলার প্রকল্পের কাজ চলছে, যা থেকে আগামী বছরের জুন মাস নাগাদ জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে ৬৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

এর বাইরে বিদ্যুৎ বিভাগের পরিকল্পনা মোতাবেক জানা যায়, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়িতে একটি ৪০ মেগাওয়াট সোলার পার্ক প্রকল্পের পাশাপাশি পায়রা ৫০ মেগাওয়াট বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্র, পাবনার হেমায়েতপুরে ৩৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং ২৪৩ মেগাওয়াট সৌর অথবা বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য জমি খোঁজা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ৯১০.৮২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও সরকারের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চলমান রয়েছে আরও অন্তত ৩২টি প্রকল্পের কাজ, যা থেকে পাওয়া যাবে এক হাজার ৪৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। শুধু তাই নয়, প্রক্রিয়াধীন থাকা আরও ৭৬টি প্রকল্পের মাধ্যমে উৎপাদন হবে প্রায় ৪ হাজার ৬৩২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এর পাশাপাশি আমদানি প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে নেপালের জলবিদ্যুতেরও। ফলে দেশে চলমান বিদ্যুৎ সংকট কাটাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এগিয়ে চলছে বর্জ্য বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ ॥ বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, জ্বালানি সংকটে দেশে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। তাই নতুন করে জোর দেওয়া হচ্ছে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে। বাংলাদেশেও জ্বালানি সংকটের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর দেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় কিছুদিন আগে স্বাক্ষরিত হয়েছে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের আরেকটি চুক্তি। নারায়ণগঞ্জের জালকুড়িতে বাস্তবায়িত হতে যাওয়া ৬ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপন হলে এই কেন্দ্র থেকে ইউনিটপ্রতি প্রায় ২০ টাকায় বিদ্যুৎ কেনা হলেও মাত্র ৫ থেকে ৬ টাকায় বিক্রি করা যাবে জানিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানিয়েছেন, এই ঘাটতির সংস্থান করবে বিদ্যুৎ বিভাগ।

জনকণ্ঠকে তিনি বলেন, এর মূল কারণ হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী চেয়েছেন দেশের সব বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি নির্দিষ্ট কাজ হোক। তার আগ্রহের কারণেই এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। তিনি বলেন, শুধু তাই নয়, এই কেন্দ্রটি স্থাপন হলে নারায়ণগঞ্জের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অনেক ভালো অবস্থানে আসবে। এই কেন্দ্র থেকে নো-পেমেন্ট নো-ইলেকট্রিসিটি অনুযায়ী বিদ্যুৎ নেওয়া হবে। এখান থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ২০ দশমিক ৯১ সেন্টে কিনবে পিডিবি। এই চুক্তি সইয়ের পর ৪৫৫ দিনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।

স্থাপিত হচ্ছে বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্রও ॥ শুধু বর্জ্য বিদ্যুৎ নয়, জোর দেওয়া হচ্ছে বায়ু বিদ্যুতেও। এ লক্ষ্যে মোংলায় ৫৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করতে যাচ্ছে সরকার। এ জন্য বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-বিপিডিবি গত রবিবার সন্ধ্যায় চীনের একটি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে একটি চুক্তি সই করে। এই চুক্তির আওতায় কনসোর্টিয়াম অব ইনভিশন এনার্জি, জিয়াংসু কোম্পানি লিমিটেড, চায়না, এসকিউ ট্রেডিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, বাংলাদেশ ইনভিশন রিনিউয়েবল এনার্জি লিমিটেড, হংকংয়ের যৌথ উদ্যোগে এই মোংলা গ্রিন পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণ করবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে যদিও বায়ু থেকে মাত্র ২৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। কিন্তু ৩টি প্রকল্পের মাধ্যমে ১৪৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজ চলমান, ৫টি প্রকল্পের অধীনে আরও ২৩০ মেগাওয়াট বায়ু বিদ্যুৎ প্রক্রিয়াধীন, তবুও বায়ুভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আকার আরও বড় হবে। আমেরিকার ন্যাশনাল রিনিউয়েবল এনার্জি ল্যাবরেটরি প্রদত্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা বিশেষত খুলনার দাকোপ, চট্টগ্রামের আনোয়ারা এবং চাঁদপুরের নদী মোহনার এলাকায় ১০০ মিটার উচ্চতায় বাতাসের গড়বেগ প্রতি সেকেন্ডে ৬ মিটারের বেশি, যা বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদনে অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। পিডিবি জানায়, ২০ বছর মেয়াদি এই কেন্দ্র থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ কেনা হবে ১৩ টাকায়। প্রকল্পটির আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৬.৫৯৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। চুক্তি সইয়ের দুই বছরের মধ্য কেন্দ্রটি উৎপাদনে আসার কথা রয়েছে।

সৌর বিদ্যুতে সাফল্য ॥ এতসব নবায়ণযোগ্য জ্বালানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে। সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে ইতোমধ্যে সরকারি কোম্পানিগুলোকে লক্ষ্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। বেসরকারি উদ্যোক্তারাও সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে দৌড়ঝাঁপ করছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, ভারত তাদের দেশের ফসিল ফুয়েল বা জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করে দিয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে তার ১০ ভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হবে। এই নীতিতে দেশটিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অগ্রসর হয়েছে। যদিও বাংলাদেশে এ ধরনের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, কিন্তু তবুও পিছিয়ে নেই সরকার। পাওয়ার সিস্টেম মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী, দেশে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ৩ হাজার ৬৬৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

166
Spread the love


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর