সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৩:৩১ পূর্বাহ্ন

প্রধানমন্ত্রীর জনসভা ঘিরে উৎসবমুখর কক্সবাজার

কলমের বার্তা ডেস্ক :
  • সময় কাল : বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২২
  • ২৮ বার পড়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (বুধবার) কক্সবাজার আসছেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। দলীয় নেত্রীর আগমনে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে নেতা-কর্মীদের মাঝে। ব্যানার ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পুরো শহর। বুধবার সকালে বঙ্গোপসাগরে অনুষ্ঠিত ৩০ বন্ধুপ্রতিম দেশের অংশগ্রহণে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক নৌ মহড়া উদ্বোধনের পাশাপাশি বিকালে কক্সবাজার শহরের বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম মাঠে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভার সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। পুরো কক্সবাজার শহর ছেয়ে-গেছে ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণে। আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মাঝে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। দলীয় নেতা-কর্মীরা আশা করছেন, এবারের জনসভাটি স্মরণকালের সর্ববৃহৎ জনসমাগমে পরিণত হবে। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে ভ্যানে নৌকা নিয়ে সারা শহর প্রদক্ষিণ করেছে প্রাক্তন ছাত্রলীগ পরিষদ।

এদিকে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি মোতায়েন রয়েছে অতিরিক্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। জনসভাস্থলসহ আশপাশের এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে।

সাড়ে ৫ বছর পর বুধবার (৭ ডিসেম্বর) কক্সবাজার সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। আর প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে পুরো জেলা শহরে এখন সাজ সাজ রব। সড়ক-উপসড়কগুলো ছেয়ে গেছে রঙ-বেরঙের ব্যানার-ফেস্টুন ও তোরণে। এতে শোভা পাচ্ছে কক্সবাজারে চলমান মেগা প্রকল্প ও বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর ব্যানারও।

সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য মতে, প্রধানমন্ত্রী দলীয় জনসভায় বেশ কয়েকটি বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং নতুন কয়েকটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

এদিকে দলীয় সভানেত্রীর জনসভাকে ঘিরে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা উচ্ছ্বসিত। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত ও জনসভা সফল করতে তৃণমূল পর্যায়ে চালানো হয়েছে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা। মঙ্গলবার দুপুর থেকে পৃথক স্বাগত মিছিল করেছে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলো। শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করেন তারা।

ঈদগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবু তালেব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় যোগ দিতে স্ব-প্রণোদিত হয়ে অপেক্ষা করছে উপজেলা ও উপকূলের হাজারো নেতা-কর্মী এবং শ্রমজীবী। গৃহহীন যারা ঘর পেয়েছেন, বয়স্কভাতা যারা পেয়েছেন, লবণের ন্যায্যমূল্য পাওয়া চাষী পরিবারের লোকজন কৃতজ্ঞতা ও প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি একনজর দেখতে সভাস্থলে যেতে প্রস্তুতি নিয়েছে।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী অ্যাডভোকেট রণজিত দাশ বলেন, চলমান প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে নতুন করে একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল সংযুক্তিকরণ, কক্সবাজারের সঙ্গে মহেশখালী উপজেলার সংযোগ সেতু ও বাঁকখালী নদীর তলদেশ দিয়ে ট্যানেল নির্মাণ, কুতুবদিয়া মগনামায় ফেরি সার্ভিস চালুকরণ, কক্সবাজার পর্যটন গবেষণা ইনস্টিটিউট, চার লেনের মেরিন ড্রাইভ সড়ক, ছয় লেনের কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহসড়ক, কক্সবাজার সিটি কর্পোরেশন, কক্সবাজার সিটি কলেজকে সরকারিকরণের দাবি জানানো হবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে।

মহেশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও কালারমারছরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তারেক বিন ওসমান শরীফ বলেন, মহেশখালী দ্বীপ থেকে হাজারো মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে এবং কক্সবাজারবাসীকে নতুন কি উপহার দিচ্ছেন তা সরাসরি শুনতে কক্সবাজার আসবেন।

চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য জাফর আলম বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যার কথা সরাসরি শুনতে আমার এলাকার জনগণ উদগ্রীব হয়ে আছে। চকরিয়া-পেকুয়া থেকে অর্ধলাখ দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ জেলা আওয়ামী লীগের জনসভায় যোগ দেবে।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, না চাইতেই প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারবাসীকে অনেক কিছু দিয়েছেন। কৃতজ্ঞতা জানানোর মাধ্যম হিসেবে এবারের জনসভায় সর্ববৃহৎ জনসমাগম ঘটাতে আওয়ামী লীগ সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা বলেন, জনসভার মাঠ ছাড়িয়ে পুরো কক্সবাজার শহর জনসভাস্থলে রূপান্তরিত হবে ইনশাআল্লাহ।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে কেন্দ্র করে সার্বিক নিরাপত্তার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী। নেওয়া হয়েছে ৪ স্তরের নিরাপত্তা বলয়। যেখানে দায়িত্বপালন করবে ৪ হাজারের বেশি পুলিশ। কক্সবাজারসহ আশপাশের চারটি জেলা থেকে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের জন্য কক্সবাজারে আনা হয়েছে।

কক্সবাজারে জনসভায় ২৮ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক হাজার ৩৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। একই সঙ্গে ৫৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪ টি নতুন উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

Print Friendly, PDF & Email
Spread the love

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও খবর
এই নিউজ পোর্টাল এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ ।  About Us | Contact Us | Terms & Conditions | Privacy Policy
Design & Developed by RJ Ranzit
themesba-lates1749691102