শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৫, ১১:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
শহীদ জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত কোনাবাড়ীতে আবাসিক হোটেল থেকে ২ নারীসহ ১৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ ভুরুঙ্গামারীতে চর বিষয়ক মন্ত্রাণালয়ের দাবীতে মানববন্ধন ‎উপজেলা প্রকৌশলীদের উপর হামলা ও হুমকির প্রতিবাদে ঠাকুরগাঁওয়ে মানববন্ধন কাজিপুরের লাইসিয়াম স্কুল এন্ড কলেজ বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৫ অনুষ্ঠিত  লালমনিরহাট জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শ্যামল ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আটক! জয়পুরহাটে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নতুন কমিটি নিয়ে দুপক্ষের  পাল্টাপাল্টি কর্মসূচী কুড়িগ্রামে ‘’ফ্রেন্ডশিপ ডিসএবিলিটি প্রোগ্রাম’’ এর এডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত কোনাবাড়িতে ইয়াবাসহ গ্রেফতার-১ লফস’র আয়োজনে খেলার মাঠ,পার্ক ও উম্মুক্ত স্থানের বাজেট বরাদ্দ বিষয়ক আলোচনা সভা

তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির পদে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকেও নিয়োগ

রিপোর্টারের নাম : / ৯৩ বার পড়া হয়েছে।
সময় কাল : রবিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৩

দেশ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পার করলেও এখনো চাকরি নিয়ে অসন্তোষ রয়ে গেছে শিক্ষকদের। প্রাথমিক থেকে কলেজ, সব স্তরেই অসন্তোষের পাহাড়। সারা দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪ লাখ, ইবতেদায়ি মাদ্রাসায় ৪০ হাজার, এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চার লাখসহ প্রায় সাড়ে ৮ লাখ শিক্ষকের মনে সুখ নেই। প্রাথমিকে গ্রেড বৃদ্ধি ও পদোন্নতির দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষকরা। অন্যদিকে বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, উৎসব ভাতা প্রদান ছাপিয়ে এখন জাতীয়করণের এক দফা দাবিতে আন্দোলন করছেন। দাবি আদায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করলেও টনক নড়ছে না সরকারের।

প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের দাবিগুলো হলো- প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী প্রধান শিক্ষকের পদকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করা, সহকারী শিক্ষকদের দশম গ্রেড ও প্রধান শিক্ষকদের নবম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ; দ্রুততম সময়ের মধ্যে সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে থেকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি প্রদান এবং প্রধান শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার পদ থেকে পরিচালক পর্যন্ত পদোন্নতি দেওয়া; উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের (ইউআরসি) ডাটা এন্ট্রি অপারেটরদের সহকারী ইন্সট্রাক্টর পদ দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাব বাতিল করা এবং অবিলম্বে নবম পে-স্কেল ঘোষণা ও এর আগে ৫০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা দেওয়া।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা জানিয়েছেন, স্নাতক পাসে তারা ১৩তম গ্রেডে বেতন-ভাতা পেয়ে থাকেন। কিন্তু স্নাতক বা সমমান পাসে পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক, ইউনিয়ন পরিষদ সচিবসহ অনেকেই ১০ম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন। অন্য ক্ষেত্রে পদোন্নতি দেওয়া হলেও অন্ধকারেই রয়ে গেছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এ ছাড়া, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন অনেক কম। এর সাথে আছে গ্রেড বৈষম্য। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা এই পেশায় এলেও স্থায়ী হচ্ছেন না।

বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ কালবেলাকে বলেন, বিভিন্ন সময় সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ পদোন্নতি দেওয়ার কথা বলা হলেও সেটি কার্যকর হয়নি। প্রধান শিক্ষকরাও পদোন্নতি পান না। ফলে সহকারী শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষক হতে পারছেন না। তাই আমরা গ্রেড বৃদ্ধি ও পদোন্নতির দাবি করছি।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা জানান, ৯ বছর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদটি দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করলেও এখন পর্যন্ত প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদা নিশ্চিত হয়নি।

বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. রিয়াজ পারভেজ কালবেলাকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদা দিলেও এখনো সেই মর্যাদা পাইনি। নিয়োগ বিধিতে প্রধান শিক্ষক থেকে ওপরের পদগুলোতে পদোন্নতি রাখা হয়নি। একটা নিয়ম রাখা হয়েছে, প্রধান শিক্ষকরা এটিও (উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা) বা সহকারী ইন্সট্রাক্টর হতে পারবেন, কিন্তু সেটি প্রমোশনের মাধ্যমে নয়, পরীক্ষার মাধ্যমে। এর ফলে প্রধান শিক্ষক পদে থেকেই আমাদের অবসরে যেতে হচ্ছে।

মাদ্রাসার ইবতেদায়ি স্তরের শিক্ষকরা দুটি দাবিতে আন্দোলন করছেন। এগুলো হলো—বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রেশনকৃত সব মাদ্রাসা জাতীয়করণ করতে হবে এবং প্রাথমিকের মতো ইবতেদায়ি শিক্ষার্থীদেরও উপবৃত্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক ঐক্যজোটের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক আনসারী কালবেলাকে বলেন, আমাদের দাবি প্রধানত দুটি। দাবি আদায়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছি। আমরা চাই, সরকার দ্রুত আমাদের দাবি বাস্তবায়ন করুক।

প্রাথমিকের শিক্ষকদের গ্রেড বৃদ্ধি, পদোন্নতিসহ অন্যান্য দাবির বিষয়ে সরকার কী ভাবছে জানতে চাইলে মন্ত্রণালয়ের সচিব ফরিদ আহাম্মদ বলেন, এ মুহূর্তে সরকারের কোনো চিন্তা-ভাবনা নেই। আমাদের কাছে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো নির্দেশনা নেই।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে দুই ধরনের প্রতিষ্ঠান। একটি সরকারি অন্যটি বেসরকারি এমপিওভুক্ত। সরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বেতন-ভাতা নিয়ে অসন্তোষ কম। তবে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে অসন্তোষ রয়েছে। এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। শিক্ষকদের একাধিক সংগঠন এতে অংশ নিয়েছে। তবে সব সংগঠনই এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের এক দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এই দাবিতে তারা মানববন্ধন, লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি, বিক্ষোভ সমাবেশ, স্মারকলিপি প্রদান, সংবাদ সম্মেলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। কিন্তু ফলাফল এখনো শূন্য।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা জানান, দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ৯৭ শতাংশই বেসরকারি। যাদের বেশিরভাগই এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান। সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা একই নিয়মনীতি অনুসরণ করেন। একই পাঠ্যক্রমে পাঠদান করান। একই প্রশিক্ষণ নেন। অনেক সময়ই দেখা যায়, সরকারির চেয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ফল ভালো হয়। এর পরও তারা বৈষম্যের শিকার।

শিক্ষকরা জানান, ২০০৪ সাল থেকে শিক্ষকরা বেতনের ২৫ শতাংশ উৎসব-ভাতা পেয়ে থাকেন। কিন্তু এই ভাতায় জীবন চলে না—উল্লেখ করে দীর্ঘদিন ধরেই শতভাগ উৎসব-ভাতা, সরকারি শিক্ষকদের মতো চিকিৎসা-ভাতা ও বাড়িভাড়া দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। কিন্তু ১৮ বছর পার হলেও সরকার উৎসব-ভাতায় কোনো পরিবর্তন আনেনি।

বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষকরা বলছেন, বিএড ডিগ্রি না থাকলে ১১তম গ্রেডে ১২ হাজার ৭৫০ টাকা এবং বিএড ডিগ্রি থাকলে ১০ম গ্রেডে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা পান তারা। তবে এর থেকে প্রভিডেন্ট ফান্ড ও কল্যাণ ভাতা কেটে রাখা হয়। এর বাইরে তারা কোনো টাকা পান না। সরকারি স্কুলে একজন শিক্ষক বেতন পায় ২৫-২৬ হাজার টাকা। কিন্তু তাদের ক্ষেত্রে বিএড বাধ্যতামূলক নয়। এটা বৈষম্যমূলক পদ্ধতি।

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বাশিস)-এর সভাপতি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ লিয়াজোঁ ফোরামের মুখপাত্র মো. নজরুল ইসলাম রনি বলেন, একদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, অন্যদিকে সামান্য বেতনে আমরা পরিবার, সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। সে কারণে আমরা শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ চাচ্ছি; কিন্তু বেতন বৈষম্য দূর করতে সরকার কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

বেসরকারি কলেজের শিক্ষকরা জানান, সরকারি কলেজে প্রভাষকরা ২২ হাজার টাকা স্কেলে ৩৫-৩৮ হাজার টাকা বেতন পান। অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও পান। কিন্তু বেসরকারি কলেজের প্রভাষকরা ২২ হাজার স্কেলে ২২ হাজার টাকাই পায়। বাড়তি কোনো সুবিধা তাদের দেওয়া হয় না।

বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির (বাকশিস) সভাপতি অধ্যক্ষ আসাদুল হক বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের কোনো দাবি মেনে নেওয়া হয়নি। আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে শিক্ষামন্ত্রীকে বারবার অনুরোধ করা হয়েছে। তিনি আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত বসেননি।

বাংলাদেশ মাধ্যমিক কারিগরি শিক্ষক পরিষদের মহাসচিব ও জাতীয়করণ প্রত্যাশী মহাজোটের যুগ্ম সদস্য সচিব মো. আবুল বাশার বলেন, বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি আমরা সবাই একই ধরনের বৈষম্যের শিকার। সে কারণে আমরা সবাই চাই শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ করা হোক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, সব প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা চ্যালেঞ্জের বিষয়। এই মুহূর্তে সব প্রতিষ্ঠান সরকারীকরণের চিন্তা সরকারের নেই। অনেক প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করার পর সেসব প্রতিষ্ঠান থেকে সুফল পাওয়া যায়নি। সামনে জাতীয়করণ করা হলেও এখন যেভাবে করা হয়, সেভাবে হবে না, ভিন্নভাবে করা হবে। তবে, শিক্ষা খাতে সরকার আগের চেয়ে বেশি বিনিয়োগ করবে।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, সরকারের উচিত শিক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষকদের জাতীয়করণ করা। তবে সেটি অবশ্যই ঢালাওভাবে হবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান কালবেলাকে বলেন, শিক্ষকরা অবহেলিত সেটি সত্য। তবে ঢালাওভাবে জাতীয়করণ করলে এর ফল খারাপ হবে। তিনি বলেন, জাতীয়করণ করা উচিত, তবে সবাইকে নয়। একটি পরীক্ষার মাধ্যমে সেটি হতে পারে। প্রয়োজনে পরে শিক্ষক ঘাটতি থাকলে নতুন শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করা। কিন্তু অবশ্যই দক্ষতার জায়গায় কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

এক ক্লিকে বিভাগের খবর