শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৫, ১১:১৫ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
শহীদ জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত কোনাবাড়ীতে আবাসিক হোটেল থেকে ২ নারীসহ ১৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ ভুরুঙ্গামারীতে চর বিষয়ক মন্ত্রাণালয়ের দাবীতে মানববন্ধন ‎উপজেলা প্রকৌশলীদের উপর হামলা ও হুমকির প্রতিবাদে ঠাকুরগাঁওয়ে মানববন্ধন কাজিপুরের লাইসিয়াম স্কুল এন্ড কলেজ বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৫ অনুষ্ঠিত  লালমনিরহাট জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শ্যামল ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আটক! জয়পুরহাটে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নতুন কমিটি নিয়ে দুপক্ষের  পাল্টাপাল্টি কর্মসূচী কুড়িগ্রামে ‘’ফ্রেন্ডশিপ ডিসএবিলিটি প্রোগ্রাম’’ এর এডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত কোনাবাড়িতে ইয়াবাসহ গ্রেফতার-১ লফস’র আয়োজনে খেলার মাঠ,পার্ক ও উম্মুক্ত স্থানের বাজেট বরাদ্দ বিষয়ক আলোচনা সভা

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন : সংকটেও শিল্পঋণ বেড়েছে ১ লাখ কোটি টাকা

রিপোর্টারের নাম : / ৯১ বার পড়া হয়েছে।
সময় কাল : বুধবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৩

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও ব্যাংকিং খাতের তারল্য সংকটের মধ্যেও ২০২২ সালে শিল্প খাতের ঋণের পরিমাণ ১ লাখ কোটি টাকা বেড়েছে। কাঁচামাল ও মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি ও ব্যাংক ঋণের সুদহার কম থাকায় এমনটা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকাররা। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, ২০২২ অর্থবছরে ব্যাংকগুলো শিল্প খাতে ঋণ বিতরণ করেছে ৫ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। ২০২১ অর্থবছরে এই ঋণের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকা। সে হিসেবে ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ১ লাখ ১ হাজার ৩২১ কোটি টাকা।

ব্যাংকাররা বলছেন, যুদ্ধের কারণে গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে তেল, গ্যাসসহ সব ধরনের পণ্যের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এছাড়া টাকার বিপরীতে ডলারের দাম গত বছরের তুলনায় অন্তত ২৫ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিকভাবে শিল্প ঋণের পরিমাণ বেড়েছে। গত ২০২২ অর্থবছরের আগস্ট থেকে আমদানির পরিমাণ কমতে থাকায় বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি কমছে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ১৪ শতাংশ, যা গত ১১ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি কমলেও উল্টো চিত্র দেখা গেছে শিল্প খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধিতে। এ ব্যাপারে যমুনা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মির্জা ইলিয়াস উদ্দিন আহমেদ বলেন, কোভিডের পর থেকে আমাদের ইজি মনিটরি পলিসি ছিল, এছাড়া ঋণের সুদ কম থাকায় শিল্প খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি বেড়েছে।

তিনি আর আরো বলেন, ২০২২-২৩ অর্থবছরজুড়ে আমদানির পরিমাণ কমছে। তবে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত আমদানি বিল পরিশোধ করতে হয়েছে। এর ফলে ঋণও বেড়েছে। গ্রাহকরা আমদানি বিল পরিশোধের জন্য বেশি দামে বৈদেশিক মুদ্রা কিনছেন, এতে ব্যাংক থেকে ঋণের পরিমাণ বেড়েছে বলেও জানান তিনি। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালের জানুয়ারির তুলনায় ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে অতি প্রয়োজনীয় ৮ ধরনের পণ্যের গড় মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল- কয়লা ২৮৫ শতাংশ, পেট্রোলিয়াম ৩০০ শতাংশ, লোহা ও ইস্পাত ২০ শতাংশ, সয়াবিন ৭৬ শতাংশ, গম ৬৩ শতাংশ, চিনি ১০০ শতাংশ, সার ৭৫ শতাংশ, তুলা ৬৮ শতাংশ। অর্থাৎ গড়ে ৭৭ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থবছরে মোট আমদানির পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৫৪ দশমিক ৪০ ও ৭৮ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এ সময়ে আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে ২৪ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার।

অতি প্রয়োজনীয় ৪৬ শতাংশ পণ্য আমদানি জন্য ২০২১ অর্থবছরে ব্যয় হয়েছে ২৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার, একই পরিমাণ পণ্য ২০২২ অর্থবছরে আমদানি জন্য ব্যয় দাঁড়ায় ৪৪ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ মূল্যবৃদ্ধিজনিত কারণে অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে ১৯ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার।

এ ব্যাপারে মির্জা ইলিয়াস উদ্দিন আহমেদ বলেন, ক্যাপিটেল মেশিনারিজ আমদানি অনেক কমে গেছে। গার্মেন্টসগুলোর উৎপাদন কমে যাওয়ায় আমদানির পরিমাণ অনেক কমেছে। চলতি ২০২৩ অর্থবছরে ঋণের পরিমাণও কমে যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ৭ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করতে হয়েছে। এছাড়া চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিক্রি করেছে ১১ বিলিয়নের বেশি। যার কারণে অতিরিক্ত আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ১৯ বিলিয়ন ডলার বেশি পরিশোধ করতে গিয়ে গ্রাহকদের টাকা খরচ হয়েছে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকার বেশি। এদিকে শিল্প ঋণের প্রতিবেদনে দেখা যায়, শিল্প খাতে মোট আউটস্ট্যান্ডিং ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১২ দশমিক ৮৩ শতাংশ। যদিও ২০২১ সালের ডিসেম্বরে এই খাতের ঋণের আউটস্ট্যান্ডিং ছিল ৬ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা বা ১৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ খেলাপি।

তবে শিল্প ঋণ গত ২০২২ বছরে বাড়লেও চলতি ২০২৩ সালে কমবে বলে জানিয়েছেন একাধিক ব্যাংকের শিল্প ঋণ বিভাগের কর্মকর্তারা। তারা বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক জুন থেকে ঋণের সুদহার বাড়াবে। এছাড়া গত কয়েক মাসে আমদানি কমেছে, যার কারণে শিল্প খাতের উদ্যোক্তাদের ঋণের পরিমাণও কমবে। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে আগের একই সময়ের তুলনায় আমদানি এলসি খোলা প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের মতো কমে গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত জুলাই-ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে ৪৫ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলারের এলসি খোলা হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে ৫৯ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলারের এলসি খোলা হয়েছিল। অর্থাৎ এলসি খোলা কমেছে ২৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শিল্পের কাঁচামাল আমদানির জন্য গত ৮ মাসে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার এলসি খোলা হয়েছে। এ খাতে এসব এলসির পরিমাণ বাড়লে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা নতুন ঋণ তৈরি হতো।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

এক ক্লিকে বিভাগের খবর