লাশবাহী গাড়ী ধরে মোজাম্মেল ও সাগরের স্বজনদের আহাজারি

সৌদি আরবে ওমরা পালন শেষে ফেরার পথে সড়ক দূ’র্ঘ’ট’নায় নি’হ’ত হণ সৌদি প্রবাসী মো. মোজাম্মেল হোসেন মৃধা ও তার শ্যালক মো. সাগর জোমাদ্দারের ইসলাম উদ্দিন (৪৫)। সৌদি আরবে হোটেল ব্যবসা করতেন তাঁরা।
শুক্রবার গভীর রাতে দেশে পৌঁছেছে দূ’র্ঘ’ট’নায় নি’হ’ত শ্যালক দুলা ভাইয়ের লাশ। লাশবাহী গাড়ীতে করে তাদের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে। এ সময় স্বজন হারানোর আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। শনিবার (২৯ এপ্রিল) সকাল সারে ১০ টায় বেতাগীর হোসনাবাদ গ্রামে সাগরের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে সকাল ৯ টায় মির্জাগঞ্জ উপজেলার ছৈলাবুনিয়ায় নিজ বাড়িতে মোজাম্মেলের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ওমরাহ হজ করে ফেরার পথে সৌদি আরব প্রবাসী তারা দুইজন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়। বাংলাদেশ সময় শনিবার (২৫ মার্চ) রাত ৮টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। তারা সৌদি আরবের আলগাছিমের উনাইয়া নামক স্থানে ব্যবসা করতেন। ওমরাহ হজ পালনের জন্য মক্কায় যান। ওমরা হজ পালন শেষে শনিবার কর্মস্থলে ফেরার পথে তাদের বহন করা গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি পাথরের পাহাড়ারের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই তারা মারা যান। দীর্ঘ ১ মাস ৪ দিন অপেক্ষার পর তাঁদের মর’দে’হ শুক্রবার বিকেলে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর এবং সৌদি আরব থেকে লা’শ’বা’হী বিমানটি বিকেল সাড়ে ৩ টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে তাদের পরিবার লাশ ও আর্থিক অনুদান গ্রহণ করে। নিহত সাগর জোমাদ্দারের বাড়ি বরগুনার বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের বটতলা গ্রামে। তিনি ওই এলাকায় মোতাহার জোমাদ্দারের ছেলে। ছয় ভাইবোনের মধ্যে সাগর সবার ছোট। আর দুলাভাই মোজাম্মেল হোসাইনের(৪৫) বাড়ি পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার ছৈলাবুনিয়া গ্রামে। সে ঐ এলাকার মৃত আজিজ মৃধার ছেলে। ২৩ বছর আগে তিনি সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। সবশেষে ৮ বছর আগে বাংলাদেশে এসেছিলেন তিনি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় দূর্ঘটনার অনেক দিন পেরিয়ে যাওয়ার পর তাদের প্রিয় জনের লাশ কাছে পেলেও চলছে আহাজারি। শোকস্তব্ধ পুরো বাড়ি। ছেলে ও মে জামাইকে হারিয়ে হারিয়ে বিলাপ করছেন মোতাহার জোমাদ্দার। মোতাহার জোমাদ্দার বলেন, সৌদিতে কোটি টাকার ব্যবসা ও পরিবারের উপর্জনক্ষম ব্যক্তি হারিয়ে তারা আজ নি:স্ব ও চরম অসহায় হয়ে পড়েছেন। এ জন্য তিনি সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। বাবার (মোজাম্মেল) লাশবাহী গাড়ী ধরে আহাজারি করছিলেন ছোট মেয়ে অন্তু আর বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন স্ত্রী রুবিনা ইয়াসমিন। খানিকটা দূরে নির্বাক বসে দেখছেন লাশবাহী গাড়ী সাগরের স্ত্রী শান্তা আক্তার।
সাগর জোমাদ্দারের স্ত্রী শান্তা আক্তার বলেন, সাত বছর প্রেমের পর সাগরের সাথে আমার বিয়ে হয়। কিন্তু দুইমাসের বেশি আমরা সংসার করতে পারিনি। কিন্ত এত অল্প সময়ে আল্লাহ তাকে না ফেরার দেশে নিয়ে গেল। আমি এখন কার জন্য বাচঁবো! তবুও একবারের জন্য হলেও তার মুখটা এক নজড় দেখতে পেরে শোকরিয়া আদায় করছি।
মোজাম্মেল জোমাদ্দারে স্ত্রী রুবিন ইয়াসমিন বলেন, ২৩ বছর আগে ব্যবস্যা করতে আমার স্বামী সৌদি আরবে গিয়েছিল। ৮ বছর আগে সবশেষে দেশে এসেছিল সে। ছেলে মেয়ে মানুষের মতো মানুষ করবে। কিন্তু তার আগেই কিছু না বলে চলে গেল। এখন লাশ দেশে নিয়ে আসার সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
হোসনাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: খলিলুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সৌদি আরবে বসবাসকারী আত্মীয়স্বজনের সহযোগিতায় তাদের লাশ দেশে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।