শিরোনামঃ
আশা জাগাচ্ছে বায়ুবিদ্যুৎ ডিসেম্বরে ঘুরবে ট্রেনের চাকা মূল্যস্ফীতি হ্রাসে ব্যাংক থেকে ঋণ কমাতে চায় সরকার বদলে যাবে হাওরের কৃষি বাংলাদেশে নতুন জলবায়ু স্মার্ট প্রাণিসম্পদ প্রকল্প চালু যুক্তরাষ্ট্রের ‘তথ্য দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে ৩ জন মুখপাত্র নিয়োগ দেওয়া হয়েছে’ অস্বস্তি কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কে নতুন মোড় এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি সুবিধা উঠে যাচ্ছে ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা দূর ৫০০ একর খাসজমি বরাদ্দ স্বাধীনতাবিরোধীদের পদচিহ্নও থাকবে না: রাষ্ট্রপতি আজ জাতীয় এসএমই পণ্য মেলা উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী দশতলা বিল্ডিং এর ছাদ থেকে লাফ দিয়ে নারী পোশাক শ্রমিকের মৃত্যু বাগবাটি রাজিবপুর অটিস্টিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুলে হুইল চেয়ার বিতরণ সিরাজগঞ্জ পৌরকর্মচারী ইউনিয়নের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত  কাজিপুর খাদ্য গুদামে অভ্যন্তরীণ বোরো -ধান চাউল সংগ্রহ এর উদ্বোধন আদিতমারীতে ধান-চাল ক্রয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঠাকুরগাঁওয়ে শিশু নিবির হত্যা মামলায় গ্রেফতার আরেক শিশু বেনাপোল সীমান্তের চোরা পথে ভারতে যাবার সময় মিয়ানমার নাগরিকসহ আটক-৪ বিয়েতে রাজি না হওয়ায় আত্নহত্যা, প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে হত্যা মামলা সিরাজগঞ্জে সাংবিধানিক ও আইনগত অধিকার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

ডায়রিয়া রোধে টিকা পাবে ২৩ লাখ মানুষ

কলমের বার্তা / ১৪৩ বার পড়া হয়েছে।
সময় কাল : বৃহস্পতিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২২

ডায়রিয়া মোকাবিলায় হাসপাতালগুলো প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি রাজধানীর ২৩ লাখ মানুষকে মুখে খাওয়ার টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গর্ভবতী নারী ছাড়া ১ বছর বয়স থেকে বড় সব বয়সের মানুষকে এ টিকা দেওয়া হবে। প্রথম ধাপে রাজধানীর পাঁচটি এলাকা যাত্রাবাড়ী, দক্ষিণখান, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, সবুজবাগে এই টিকা কার্যক্রম চলবে। দুই ডোজের এই টিকা কর্মসূচির প্রথম ডোজ শুরু হবে মে মাসে। সব মিলিয়ে ২৩ লাখ ডোজ টিকা দেওয়া হবে। জুনে দেওয়া হবে দ্বিতীয় ডোজ।

বুধবার সকালে দেশের চলমান ডায়রিয়া সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষ প্রেস ব্রিফিংয়ে অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম জানান, এই টিকা গ্রহণ করতে হলে আলাদা কোনো নিবন্ধনের প্রয়োজন নেই। নির্দিষ্ট তারিখ ও কেন্দ্র বাছাই হলে সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে। নিকটস্থ কেন্দ্রে গেলেই টিকা নেওয়া যাবে।

তিনি বলেন, ডায়রিয়া রোগীদের সুস্থ ব্যবস্থাপনার জন্য হাসপাতালগুলোয় অতিরিক্ত বিছানার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং ডায়রিয়া ওয়ার্ড চালু করা হচ্ছে। ডায়রিয়া রোগীদের চিকিৎসায় চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ৬০ জনের বেশি চিকিৎসককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ডায়রিয়া রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ, আইভি স্যালাইন, মুখে খাওয়ার স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ইত্যাদি চাহিদা অনুয়ায়ী পাঠানো হচ্ছে। সব বিভাগীর ভান্ডারে পর্যাপ্ত আইভি স্যালাইন মজুত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সব উপদ্রম্নত এলাকায় মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।

ডা. নাজমুল ইসলাম জানান, সারাদেশে মোট ৪ হাজার ৫২৮টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। হাসপাতালগুলোয় ৫০০ মিলি ব্যাগ আইভি স্যালাইন মজুত আছে ৩ লাখ ৩০ হাজারটি, ১০০০ মিলি ব্যাগ আছে ৪ লাখ। এ ছাড়া ১০০০ মিলি ব্যাগের আরও ১ লাখ ৬০ হাজার আইভি স্যালাইন শিগগিরই ক্রয় করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম বলেন, ডায়রিয়া প্রকোপ রোধে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। কেউ ডায়রিয়া আক্রান্ত হলে সঙ্গে সঙ্গে খাবার স্যালাইন গ্রহণের পাশাপাশি নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি হাসপাতালই ডায়রিয়া চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত। ডায়রিয়া হলেই আইসিডিডিআর,বি হাসপাতালটির নাম মাথায় চলে আসে। কারণ এই হাসপাতালটির আগে নাম ছিল কলেরা হাসপাতাল। এ কারণেই মানুষ হাসপাতালটিতে এসে ভিড় জমাচ্ছে।’

অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম জানান, মার্চ মাসে দেশে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রায় পৌনে দুই লাখ মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘মার্চে সারাদেশে এক লাখ ৭০ হাজার ২৩৭ জন ডায়রিয়ার আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু রাজধানী ঢাকায় ৩৬ হাজার ৯১২ জন।’

ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘পুরো দেশের রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৬৬ হাজার ৪৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৮ হাজার ৪১৬ জন, খুলনা বিভাগে ৩৬ হাজার ২০৯ জন, বরিশালে পাঁচ হাজার ৪১৫ জন, সিলেটে ১১ হাজার ১৯৩ জন, রাজশাহীতে ১২ হাজার ৪৮৪ জন, রংপুরে ১০ হাজার ৫৬৫ জন এবং ময়মনসিংহে আক্রান্ত হয়েছেন ৯ হাজার ৯০৯ জন।

তিনি জানান, গত ৮ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত হাসপাতালে সবচেয়ে রোগী এসেছে যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে, ১১৫০ জনের মতো। এরপর মিরপুর থেকে ৫৫০, পর্যায়ক্রমে দক্ষিণখান থেকে ৫০০, বাড্ডা থেকে ৩০০, মোহাম্মদপুর থেকে ২৫০, কদমতলী থেকে ২৫০, মতিঝিল থেকে ১৫০, ডেমরা থেকে ১৫০, পলস্নবী থেকে ১৫০, শ্যামপুর থেকে ১৫০, আদাবর থেকে ১৫০ এবং আশুলিয়া থেকে ১০০ জন রোগী এসেছেন। এছাড়া রমনা, লালবাগ, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, গুলশান, সবুজবাগ, খিলগাঁও, কাফরুল এলাকা থেকে অন্তত ৫০ জন করে রোগী হাসপাতালে এসেছেন।

অধিদপ্তরের মুখপাত্র আরও বলেন, গত ৮ থেকে ১৫ মার্চ ঢাকার বাইরের এলাকা থেকেও রোগী এসেছেন। বিভিন্ন জায়গা থেকে এসেছেন অন্তত ৪০০ জন। সবচেয়ে বেশি এসেছেন টঙ্গী থেকে, অন্তত ২৫০ জন। জয়দেবপুর ও নরসিংদী থেকে ১০০ জন করে এসেছেন। এছাড়া কেরানীগঞ্জ, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, শিবপুর, শ্রীপুর, কাপাসিয়া, কালিয়াকৈর, মনোহরদি, মানিকগঞ্জ, লৌহাজং, গজারিয়া থেকে এসেছেন অন্তত ৫০ জন করে।

এদিকে দেশে ডায়রিয়ায় চারজনের মৃতু্যর খবর নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বুধবার অধিদপ্তরের ভার্চুয়াল প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এ বছর আমরা চারটি মৃতু্যর রিপোর্ট করেছি।’

আইসিডিডিআর,বি বলছে, ডায়রিয়ায় এ বছর ২৯ জনের মৃতু্য হয়েছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে ৪ জন। এর কারণ জানতে চাইলে নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত চারজনের মৃতু্যর তথ্য পেয়েছি। আইসিডিডিআর,বি একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান। তারা আমাদের কাছে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য হস্তান্তর করেনি। করলে আমরা সেগুলো বিশ্লেষণ করে দেখব।’

96


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর