রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
ভয়েস অব কাজিপুরের নয়া সভাপতি শাহিন সম্পাদক মজিদ কাজিপুরের চরাঞ্চলে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বৃদ্ধের মৃত্যু সিরাজগঞ্জের রামকৃষ্ণপুরে চেয়ারম্যান প্রার্থী মতিয়ার রহমান সাবানের মতবিনিময় সভা সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৪ সদস্য গ্রেফতার রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হলেন মিয়া সাত্তার ইলিশ রক্ষায় যমুনা নদীতে অভিযান; ৪০ হাজার মিটার অবৈধ জাল জব্দ যমুনায় অভিযানে ৮০ হাজার মিটার অবৈধ জাল পুরিয়ে ধ্বংস বেড়ায় সুষ্ঠু ভাবে বিজয়া দশমী সম্পন্ন কাজিপুরে বিষপানে বাবা-মেয়ের আত্মহত্যা। বেড়ায় ড্রেজার দিয়ে বালু তোলায় ৩ জনের কারাদণ্ড সহ ৭ লাখ টাকা জরিমানা।

জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে লেখাপড়া না করেও সঠিক সনদে ৩০ বছর চাকরি।

রিপোর্টারের নাম : / ১৩১ বার পড়া হয়েছে।
সময় কাল : রবিবার, ১০ মে, ২০২৬

সুলতান মাহমুদ, জেলা প্রতিনিধি, জয়পুরহাটঃ জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার খোশবদন জি.ইউ দ্বি-মুখী আলিম মাদ্রাসায় দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে নৈশ প্রহরীর দায়িত্ব পালনকারী মোঃ আব্দুল মজিদের বিরুদ্ধে ভুয়া ও অবৈধ শিক্ষাসনদ ব্যবহার করে চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ না করেও প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় তিনি ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠানটিতে নৈশ প্রহরী পদে নিয়োগ পান। অভিযোগ রয়েছে, চাকরিতে যোগদানের সময় তিনি অষ্টম শ্রেণি পাসের যে সনদ জমা দেন, সেটির সত্যতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন ছিল। সম্প্রতি বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এলে সরেজমিন অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে একাধিক অসঙ্গতির তথ্য।

গত ২৮ এপ্রিল অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে নৈশ প্রহরী আব্দুল মজিদের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি স্বীকার করেন, নিয়োগের সময় প্রতিষ্ঠানের তৎকালীন প্রধান তাকে “যেকোনো প্রতিষ্ঠান” থেকে অষ্টম শ্রেণি পাসের একটি সনদ সংগ্রহ করে জমা দিতে বলেছিলেন। পরে তিনি ইটাখোলা মাদ্রাসা থেকে সিল-স্বাক্ষরযুক্ত একটি সনদ এনে প্রতিষ্ঠানে জমা দেন বলে জানান।

তবে বক্তব্য দিতে গিয়ে একাধিকবার পরস্পরবিরোধী তথ্য দেন আব্দুল মজিদ। প্রথমে তিনি দাবি করেন, তিনি ক্ষেতলাল মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি হলেও পরীক্ষা দেননি। কিছুক্ষণ পর আবার বলেন, তিনি অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষা দিয়েছিলেন কিন্তু পাস করতে পারেননি।
তার এমন পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে অভিযোগের সত্যতা নিয়ে আরও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মচারীরা জানান, তিনি বর্তমানে হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।

পরে প্রতিষ্ঠানের ভাইস প্রিন্সিপাল সানোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, সে সময় এগুলো রহস্যজনকভাবে হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তীতে জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেন।

তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ গত ৬ মে পুনরায় ভাইস প্রিন্সিপালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের এড়িয়ে গিয়ে বলেন, আজ-কাল ব্যস্ত থাকবো, আমার সঙ্গে দেখা হবে না।

এ বিষয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল মোমেন মনির বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম ও জাল সনদের মাধ্যমে চাকরির মতো ঘটনা ভবিষ্যতে আর না ঘটে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর