বিদেশ যাওয়া হলো না শাওন-মারফির ‘সড়কে মিশে গেলো দুই পরিবারের স্বপ্ন।
মনির হোসেন,বেনাপোল প্রতিনিধি: শাওন (২০) ও মারফি (২০) দুই বন্ধু। মারফি সিঙ্গাপুর প্রবাসী। দুই মাসের ছুটি নিয়ে বাড়ি বেড়াতে আসে। আগামী সপ্তাহে ইতালি যাওয়ার কথা তার বন্ধু শাওনের। পিতা-মাতার স্বপ্ন ছিল শাওন ইতালি গিয়ে পরিবারে হাসি ফুটাবে। কিন্তু দুই পরিবারের স্বপ্ন সড়কে শেষ হয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাতে যশোর-চৌগাছা সড়কের সদর উপজেলার চুড়ামনকাটির জগহাটিতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় শাওন। তার বন্ধু মারফির বাম পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়। নিহত শাওন চুড়ামনকাটির আহসাননগর গ্রামের আবু বিশ্বাসের একমাত্র ছেলে। একই গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে মারফি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর দুই বন্ধু (শাওন ও মারফি) মোটরসাইকেলে ঘুরতে বের হয়। রাতে হঠাৎ ঝড় শুরু হলে তারা সলুয়া বাজারের দিক থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে ফিরছিল। পথিমধ্যে জগহাটি এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি নসিমনে ধাক্কা খায়। দুর্ঘটনায় তারা সড়কের ওপর ছিটকে পড়লে একটি বাহন তাদের চাপা দেয়। এ সময় ঘটনাস্থলে শাওনের মৃত্যু হয়। তার বন্ধু মারফির একটি পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয়া তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ডাক্তার তাকে খুলনা মেডিকেলে রেফার্ড করেন।
চুড়ামনকাটির সাজিয়ালী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এস আই আব্দুর রউফ জানান, ঝড়ের মধ্যে মোটরসাইকেলে বেপরোয়া গতির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে। মৃত্যু নিয়ে পরিবারের অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বুধবার বেলা ১১ টার দিকে জানাযা শেষে শাওনের লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এদিকে, একমাত্র ছেলে শাওনের হারিয়ে পিতা-মাতা শোকে পাগলপ্রায়। তাদের আহজারিতে অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি।
শাওনের পিতা আবু বিশ্বাস জানান, তেমন কোন সম্পদ নেই তার। কৃষি কাজ করে সংসার চলে। ধার দেনা করে একমাত্র ছেলে শাওনকে বিদেশ পাঠাতে চেয়েছিলাম। চলতি সপ্তাহে তার বিদেশ যাওয়ার কথা ছিল। আশা ছিল ছেলে বিদেশ গিয়ে পরিবারে হাসি ফোটাবে। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস! বিদেশের ভিসা রেখেই শাওন চলে গেল না ফেরার দেশে।
মারফির স্বজনরা জানান, দুই ভাইয়ের মধ্যে মারফি ছোট। তার পিতা আব্দুল লতিফ মারা গেছে আড়াই বছর আগে। পরিবারের লোকজন দায়-দেনা করে তাকে সিঙ্গাপুর পাঠিয়েছিলো। দেনা পরিশোধ করে দুই মাসের ছুটিতে বাড়িতে আসে মারফি। কয়েকদিন পর তার সিঙ্গাপুর চলে যাওয়ার কথা। এবার বিদেশ গিয়ে পাঠানো টাকায় ঘর বাড়ি করার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন সড়কে শেষ হয়ে গেল। প্রাণে বেঁচে গেলেও পা হারিয়ে পঙ্গুত্ববরণ করেছে। রোববার তার পা সড়কের পাশের ধান ক্ষেত থেকে উদ্ধার হয়েছে।







