শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
গাজীপুরে চকলেটের প্রলোভনে ৪ বছরের শিশুকে অপহরণ, আনসার সদস্যদের তৎপরতায় উদ্ধার। কোনাবাড়ীতে সেফটি ট্যাংকিতে পড়ে যাওয়া গরু উদ্ধার করলো ফায়ার সার্ভিস। কোনাবাড়ীতে আজ যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবেনা। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে চরহাজারী ইউনিয়ন ছাত্রদলের আনন্দ মিছিল কে এই শারমিন আক্তার শীলা? অভিযোগ ঘিরে উঠছে নানা প্রশ্ন গাজীপুরে ১৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ নারী মাদককারবারী গ্রেফতার। সাংবাদিকের বাড়িতে তাণ্ডব ও লুটপাট: হাটিকুমরুলে মানববন্ধন, কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি সলঙ্গায় বলাই সিমলা দাখিল মাদ্রাসায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত কোনাবাড়ীতে গার্মেন্টসকর্মীর ঝুলন্ত লা/শ উদ্ধার।  কাজিপুরে রিভলবার ও তাজা গুলিসহ যুবক আটক

যশোর কেশবপুরে ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে লন্ডভন্ড ধানক্ষেত, দিশেহারা কৃষক

রিপোর্টারের নাম : / ১২৪ বার পড়া হয়েছে।
সময় কাল : বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬

মনির হোসেন, বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুর উপজেলায় আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে বিস্তীর্ণ এলাকার ধানক্ষেত লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে হঠাৎ আকাশে ঘন মেঘ জমে দমকা হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড় বয়ে যায়। অল্প সময়ের এই ঝড়েই উপজেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকদের মাঠভর্তি আধাপাকা ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এতে কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে উপজেলার মূলগ্রাম, ভবানীপুর, হাবাসপোল, বেগমপুর, দোরমুটিয়া, বেলকাটি ও পাঁজিয়া এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ জমির ২৮ জাতের ধান পড়ে গেছে। কোথাও পুরো ক্ষেত মাটিতে লেগে গেছে, আবার কোথাও আংশিকভাবে হেলে পড়েছে। ফলে ধানের শীষ মাটির সংস্পর্শে এসে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

দোরমুটিয়া গ্রামের কৃষক হুমায়ূন কবির, আব্দুস সামাদ ও আব্দুল ওয়াদুদ জানান, আকস্মিক এই ঘূর্ণিঝড়ে তাদের ক্ষেতের ধান পড়ে গেছে। তারা আশঙ্কা করছেন, পড়ে থাকা ধান দ্রুত কাটা না গেলে চিটা হয়ে যেতে পারে এবং ফলন মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে।

একই চিত্র বেলকাটি গ্রামেও। কৃষক শহিদুজ্জামান বলেন, চোখের সামনে সব ধান মাটিতে লুটিয়ে আছে। ঝড়ে পড়ে যাওয়া ধান চিটে হয়ে যায়। এই ধানই ছিল আমাদের সারা বছরের ভরসা। অনেক কষ্ট করে জমি চাষ করেছি, ঋণ নিয়ে সার-বীজ কিনেছি। এখন বড় দুশ্চিন্তায় আছি।

অধিকাংশ কৃষক জানান, ঝড়ের সময় বাতাসের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে অনেক ক্ষেতেই শক্ত গাছও টিকে থাকতে পারেনি। পাশাপাশি সাম্প্রতিক আবহাওয়ার পরিবর্তন ও অতিরিক্ত সারের ব্যবহারের কারণে ধানের গাছ কিছুটা নরম হয়ে পড়েছিল, যা ঝড়ে সহজেই লুটিয়ে যায়।

তবে এ পরিস্থিতিতে কিছুটা আশার কথা জানিয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে ধান পড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে এবং মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে অধিকাংশ ধান পাকার কাছাকাছি থাকায় চিটা হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম।

তিনি আরও জানান, জমির উর্বরতা বেশি হওয়া এবং অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সার ব্যবহারের ফলে ধানের গাছ নরম হয়ে যায়, যা ঝড়ে সহজে পড়ে যায়। তবে দ্রুত ধান কেটে ফেলতে পারলে ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর