সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
১১ দলের লংমার্চ ঘিরে নাশকতার আশঙ্কা, সজাগ থাকার আহ্বান সারওয়াত সিরাজ শুক্লার। উল্লাপাড়ায় কোনাগাতী কে,সি, দাখিল মাদ্রাসায় সুধী ও অভিভাবক সমাবেশ উল্লাপাড়ায় বাংলাদেশ ট্রাক – কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির জেলা কার্যালয় উদ্বোধন বিএনপির নাম ভাঙিয়ে দুষ্টমি করলে বা অপ্রপ্রয়াস চালালে তা তুলে ধরুন-ওবায়দুর রহমান চন্দন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জয়পুরহাট গামী প্রতিমন্ত্রীর গাড়ি খাদে, আহত ১ নারী বেড়ায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ বেড়ায় দরিদ্র পরিবারের মাঝে ছাগল বিতরণ সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত বেড়ায় প্রাইভেট কার, মাদক ও নগদ টাকা সহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেফতার সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় পানিতে ডুবে মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু

ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক-এর ইন্তেকালে বাউবির উপাচার্যের গভীর শোক।

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৫২ বার পড়া হয়েছে।
সময় কাল : সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, প্রখ্যাত প্রাবন্ধিক, লেখক ও গবেষক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আজ ০৫ জুলাই ২০২৬ (রবিবার) রাজধানীর একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
এক শোকবার্তায় উপাচার্য বলেন, “অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ছিলেন দেশের একজন নিষ্ঠাবান শিক্ষক, প্রজ্ঞাবান বুদ্ধিজীবী, প্রখ্যাত প্রাবন্ধিক, সাহিত্যিক ও গবেষক। শিক্ষা, গবেষণা, সাহিত্য ও সমাজচিন্তায় তাঁর অসামান্য অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তাঁর প্রজ্ঞাদীপ্ত চিন্তা, মূল্যবোধনির্ভর লেখনী এবং আলোকিত সমাজ বিনির্মাণে নিরলস প্রচেষ্টা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।”
উপাচার্য মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও অসংখ্য গুণগ্রাহীর প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫৯ সালে ময়মনসিংহ জিলা স্কুল থেকে প্রবেশিকা এবং ১৯৬১ সালে আনন্দমোহন কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৫ সালে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৬৬ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রায় চার দশক সুনামের সঙ্গে অধ্যাপনা করেন। ১৯৮২ সাল থেকে তিনি লোকায়ত নামে একটি সাহিত্য-সাময়িকী সম্পাদনা করে আসছিলেন। সমাজ, রাষ্ট্র ও রাজনীতি বিষয়ক তাঁর বিশ্লেষণধর্মী প্রবন্ধ ও কলাম দীর্ঘদিন ধরে পাঠকমহলে সমাদৃত ছিল। তিনি ২০০০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত স্বদেশ চিন্তা সংঘের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর তিনি বাংলা একাডেমির সভাপতি হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।
সাহিত্য, গবেষণা ও বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মকাণ্ডে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ লেখক শিবির পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার এবং অলক্ত সাহিত্য পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হন।
তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে— মুক্তিসংগ্রাম (১৯৭২), কালের যাত্রার ধ্বনি (১৯৭৩), উনিশ শতকের মধ্যশ্রেণি ও বাংলা সাহিত্য (১৯৭৯), নৈতিকতা: শ্রেয়োনীতি ও দুর্নীতি (১৯৮১), রাজনীতি ও দর্শন (১৯৮৯), আশা-আকাঙ্ক্ষার সমর্থনে (১৯৯৩), সাহিত্যচিন্তা (১৯৯৫), বাংলাদেশের রাজনীতিতে বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা (১৯৯৭), অবক্ষয় ও উত্তরণ (১৯৯৮), রাজনীতি ও সংস্কৃতি: সম্ভাবনার নবদিগন্ত (২০০২), সাহিত্য ও সংস্কৃতি প্রসঙ্গে (২০০২), আধুনিকতাবাদ ও জীবনানন্দের জীবনোৎকণ্ঠা (২০০৪), মানুষের স্বরূপ (২০০৭), রাষ্ট্রচিন্তায় বাংলাদেশ (২০০৮) এবং প্রাচুর্যে রিক্ততা (২০১০)। এছাড়াও তাঁর অনুবাদ ও সম্পাদিত বহু গ্রন্থ বাংলা সাহিত্য ও জ্ঞানচর্চাকে সমৃদ্ধ করেছে।
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর প্রয়াণে দেশের শিক্ষা, সাহিত্য ও বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর