মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২, ১২:৩৯ অপরাহ্ন

শেখ হাসিনার অসীম সাহসী সিদ্ধান্ত -চীনা রাষ্ট্রদূত

কলমের বার্তা ডেস্ক :
  • সময় কাল : মঙ্গলবার, ২১ জুন, ২০২২
  • ২১ বার পড়া হয়েছে।

বৈদেশিক তহবিল বন্ধের পরও দেশি অর্থায়নে পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে এগিয়ে যাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তকে অসীম সাহসী বলে মন্তব্য করে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বলেছেন, ‘আমার সন্দেহ হয়, একটি দেশের সাধারণ কোনো নেতার পক্ষে তিনি (শেখ হাসিনা) যা করেছেন, এ ধরনের কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হতো কিনা, আমি সন্দেহ করি। সত্যিই আমি সন্দেহ করি।’

রোববার ঢাকায় চীনা দূতাবাসে নির্বাচিত কিছু সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। রাষ্ট্রদূত বলেন, ?’বিদেশি কিছু উন্নয়ন অংশীদার বিশ্বাসই করতে পারেনি যে, বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব অর্থায়নে এ ধরনের একটি বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারবে।’ তবে, তিনি তাদের কারও নাম উলেস্নখ করেননি।

তিনি আরও বলেন, ‘তার পরও প্রধানমন্ত্রী সব সন্দেহ, চাপ ও অভিযোগের মুখে নিজেকে ইস্পাত কঠিন দৃঢ় রেখে শতভাগ বাংলাদেশের অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিলেন।’

লি জিমিং বলেন, ‘এ সিদ্ধান্তের জন্য যে কোনো সরকারপ্রধানের পক্ষ থেকে দরকার ছিল অসীম সাহস এবং দৃঢ় রাজনৈতিক দায়িত্ববোধ।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই সেতু সম্পর্কে ভাবতে গেলেই তিনটি শব্দ আমার মনে ভেসে ওঠে। তা হলো, সাহস, সংকল্প ও সমৃদ্ধি।’

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি স্বপ্ন থেকে সেতুটি আজ দৃঢ় বাস্তবে রূপ নিয়েছে এবং এখন থেকে কেউ সন্দেহ করতে পারবে না যে বাংলাদেশ পারে না।’

একটি চীনা কোম্পানি সেতুটি নির্মাণে জড়িত হওয়ায় এ প্রকল্পে তার দেশের অংশগ্রহণে গর্ববোধ করে লি জিমিং বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সম্ভবত এটাই সবচেয়ে বড় সেতু, যা চীনা কোম্পানিগুলো এ যাবৎ চীনের বাইরে তৈরি করেছে।’

বিদেশি অর্থায়ন ছাড়া এই সেতু নির্মাণ করে বাংলাদেশ বিশ্বকে কী বার্তা দিতে পেরেছে এ প্রশ্নের জবাবে লি বলেন, ‘এই শিক্ষাই পাওয়া গেছে যে, বাংলাদেশের জনগণের ওপর আস্থা রাখা উচিত।’

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘কেউ হয়তো এই সেতুতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক অর্জন দেখতে পছন্দ নাও করতে পারে। তিনি বলেন, ‘সবাই খুশি নয়, কিন্তু, চীনা জনগণ খুশি।’

লি বলেন, ‘পদ্মা সেতু কেবল দুই খন্ড ভূমিকেই সংযুক্ত করবে না বরং এটি জনগণের হৃদয়কে সংযুক্ত করে অভিন্ন সমৃদ্ধি ও ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাবে।’

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘একটি চীনা কোম্পানি সেতুটি নির্মাণ করেছে সে কারণে নয়; বরং চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতার ক্ষেত্রে এটি একটি মাইলফলক হিসেবে থাকবে বলে আমি বিশেষভাবে গর্বিত।’

তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, যাতায়াতের জন্য সেতুটি খুলে দেওয়ার পর এটি বাংলাদেশের জনগণকে উপকৃত করবে, এটি দক্ষিণ এশিয়ার যোগাযোগের ক্ষেত্রে অবদান রাখবে এবং এটি চীন ও বাংলাদেশের ভ্রাতৃত্বের চিরবন্ধন হিসেবে কাজ করবে।’

প্রসঙ্গত, দেশের দীর্ঘতম ৬.১৫ কিলোমিটারের এই পদ্মা সেতু সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি হয়েছে। এজন্য কোনো ধরনের বিদেশি অনুদান কিংবা ঋণ নেওয়া হয়নি। অর্থ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষকে পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করে।

Spread the love

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ বিভাগের আরও খবর
এই নিউজ পোর্টাল এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ ।  About Us | Contact Us | Terms & Conditions | Privacy Policy
Design & Developed by RJ Ranzit
themesba-lates1749691102