কোনাবাড়ীতে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কোনাবাড়ীতে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সুমাইয়া আক্তার মিতু (১৮) নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।
নিহত সুমাইয়া আক্তার মিতু বাঘের হাট জেলার মোরলগঞ্জ থানার চন্ডীপুর গ্রামের মিজানুর রহমানের মেয়ে। তিনি গত বছর কোনাবাড়ী ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচ এস সি পাশ করেন এবং অনার্সে ভর্তি হওয়ার কথা ছিলো। সে পরিবারের সঙ্গে মহানগরীর কোনাবাড়ী কুদ্দুস নগর এলাকায় বসবাস করতো।
পারিবারিক সূত্রে জানাযায় চলতি মাসের ১৮ তারিখে তার শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। পরে বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি। হঠাৎ অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট সকালে ঢাকা কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকাল সাড়ে ৬ টার সময় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের চাচা মাইঈনুল ইসলাম জানান,ভাস্তিকে নিয়ে কতো স্বপ্ন ছিলো সবার কিন্তু আচমকা একটা ঝড়ে সব লণ্ডভণ্ড হয়ে গেলো। তার মৃত্যুতে বাকরূদ্ধ হয়ে পড়েছে পরিবারের সদস্যরা। তার মৃত্যুতে যেন আশেপাশের বাতাস যেন ভারী হয়ে আসছে। তিনি আরও বলেন,এ্যাম্বুলেন্সে করে তার মরদেহ গ্রামের
বাড়ী নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
গাজীপুরে কয়েক সপ্তাহে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ক্লিনিক গুলোতে ডেঙ্গু রোগীরা ভীড় করছেন।
এদিকে ডেঙ্গু মশা নিধনে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রতিটি ওয়ার্ডে ফগার মেশিন দিয়ে ওষুধ ছিটানে হচ্ছে। তারপরও কমছেনা ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা।
গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মোঃ আমিনুল ইসলাম জানান,আমাদের বাড়ীর আশে পাশে স্থির জমানো পানি যদি তিনদিনের বেশি থাকে তাহলে লার্ভা থেকে এডিশ মশা জন্ম নেয়। ওই মশা যদি কাউকে কামড় দেয় তাহলে তার শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হতে পারে। তিনি বলেন, ফগিং মেশিন দিয়ে যদি স্প্রে করা হয় তাহলে এডিস মশা বৃদ্ধি পাবেনা। একজনের শরীর থেকে আরেকজনের শরীরে ছাড়াবেনা। যার ফলে ডেঙ্গু আক্রান্ত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে ।
এছাড়াও গত ২৩ আগস্ট গাজীপুর মহানগরীর জরুন দক্ষিণ কাশিমপুর এলাকায় সাদিয়া নামে ৭ বছরের এক শিশু ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। নিহত সাদিয়া পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ থানার তেলিপাড়া গ্রামের রেজাউল করিমের মেয়ে। সে পরিবারের সঙ্গে জরুন দক্ষিণ কাশিমপুর এলাকায় ফজলু মোল্লার বাসায় ভাড়া থেকে স্থানীয় একটি নূরানি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করতো।







