মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৮:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
সিরাজগঞ্জে বাসচাপায় চালকসহ তিন সিএনজি যাত্রী নিহত শেষ মুহূর্তে এসে বেড়ায় জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট বেড়ায় রাতের অন্ধকারে নদী ভাঙনে মসজিদ মাদ্রাসা দোকানপাট বিলীন  লালমনিরহাটে আধুনিক পশু জবাইখানার উদ্বোধন গাজীপুরসহ দেশবাসীকে ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপি নেতা ফরহাদ হোসেন। গাজীপুরসহ দেশবাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তানবিরুল ইসলাম রাজিব। গাজীপুরসহ দেশবাসীকে ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সেচ্ছাসেবক দল নেতা রবিউল আলম রবি। গাজীপুরসহ দেশবাসীকে ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাবুল হোসেন।  কোনাবাড়ী বাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন স্বর্ণা চাকলাদার। কোনাবাড়ী বাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ছাত্রদল নেতা ওয়াসিফ সালিফ।

গত দুই সপ্তাহের তাপ প্রবাহে বেড়ার চরাঞ্চলে বাদাম ও তিলের ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কা 

রিপোর্টারের নাম : / ৫৩ বার পড়া হয়েছে।
সময় কাল : সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬

এস আর শাহ্ আলম , স্টাফ রিপোর্টার : গত দুই সপ্তাহের তীব্র তাপদাহের কারণে পাবনার বেড়া উপজেলার চরাঞ্চলের অর্থকারী ফসল চিনাবাদাম তিলসহ (গো-খাদ্য) ঘাস চাষে চরম ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন চাষিরা।

একটানা খরা আর রোদের তাপে চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকার বাদাম ও তিলের ক্ষেত শুকিয়ে বিবর্ণ হয়ে গেছে, যা কৃষকদের মধ্যে লোকসানের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে।

এ মৌসুমে ফলন ভালো হওয়ায় বাজার দামও ভালো পাবেন বলে মনে করছিলেন তারা, কিন্তু ফলনের মাঝপথেই বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তাপদাহ। এতে লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন চিনাবাদাম চাষিরা।গত শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় উপজেলার চর সাঁড়াশিয়া, চর নাকালিয়া , চর নাগদাহ, হাটাইল আঁড়ালিয়া চর সাফুল্লা এবং পেচাকোলা মৌজায় তীব্র তাপদাহে বাদাম এবং তিল  গাছ শুকিয়ে মরে গেছে।চর সাফুল্লা গ্রামের কৃষক গজনবী বলেন , আমাদের চরাঞ্চলে বাদাম অর্থকরী ফসল হিসেবে চাষ করা হয়।

স্বল্প খরচে বেশি লাভ হওয়ায় আমরা  চিনাবাদাম এবং তিল চাষ করে থাকি। আমি ১০ বিঘা জমিতে চিনাবাদাম চাষ করেছি, গত দুই সপ্তাহের তাপদাহ খরায় ৫ বিঘা জমির চিনা বাদামের গাছ রোদে পুড়ে বিবর্ণ হয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে করে ছেলে মেয়ের পড়াশোনার খরচ সহ সারা বছরের সাংসারিক চাহিদা মেটানো তাঁর পক্ষে বেশ কষ্টকর হয়ে যাবে। পেচাকোলা গ্রামের বাদাম চাষি দেলোয়ার হোসেন, হাফিজ, বাবলু শেখ,মাসুদ কাই, রেজাউল, মোজাফফর সরদার বলেন,
১৫ থেকে ২০ বছর আগে যমুনা নদীর করাল গ্রাসে তাঁদের বসতবাড়ি ও আবাদি জমি-জমা নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় কয়েকশ বিঘা জমি নদীর পূর্ব পাশে চরে জেগে ওঠায় সেইসব জমিতে বেশ কয়েক বছর ধরে তারা মিলেমিশে চিনাবাদাম, তিল ধান (গো-খাদ্য) ঘাস সহ বিভিন্ন ফসলাদি চাষাবাদ করে আসছেন।

চলতি বছরও এসব জমিতে চিনাবাদাম, তিল ফসল আবাদ করেছেন  ,তবে দুই সপ্তাহের প্রচন্ড তাপদাহে ও তীব্র খরায় এসব জমির অধিকাংশ চিনাবাদাম ও তিল সম্পূর্ণ বা আংশিক ভাবে ক্ষতি সাধিত হয়েছে। চর নাগদাহ গ্রামের কৃষক ও স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহিদ মোল্লা জানান, তিনি ১০ বিঘা জমিতে তিল চাষ করেছে, কয়েকদিনের খরায় তাঁর প্রায় ৫ বিঘা জমির তিল গাছ এবং ২ বিঘা জমির বাদাম গাছ রোদে পুড়ে বিবর্ণ হয়ে কুঁকড়ে গেছে। প্রচন্ড তাপদাহে  চর নাগদাহ , চর সাফুল্লা, হাটাইল আঁড়ালিয়া, চর সাঁড়াশিয়া মৌজা সহ বিভিন্ন মৌজায় আমার মতন  অনেক কৃষকের আবাদকৃত জমির চিনা বাদাম ও তিল ফসল গাছ খরায় পুড়ে মরে যাওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছ।তিনি আরও বলেন, অল্প খরচ এবং ভালো ফলনের আশায় কৃষকরা চিনাবাদাম বেশি জমিতে চাষ করলেও, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চলতি মৌসুমে উৎপাদন খরচ তোলাই কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। পেচাকোলা গ্রামের কৃষক মো. হাফিজ উদ্দিন বলেন, তারা তিনভাই মিলে পেচাকোলা যমুনা নদীর পূর্ব পাড় চরে প্রায় ১২ বিঘা জমিতে চিনা বাদাম চাষ করেছে।এরমধ্যে প্রায় অর্ধেক জমির বাদাম খরায় পুরে গাছ গুলো মরে গেছে। এতে তাঁদের বাদাম চাষে চলতি বছর লোকসান গুনতে হবে।

এ বিষয়ে বেড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুসরাত কবীর বলেন,কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি না হওয়ায় তীব্র রোদে মাটির প্রয়োজনীয় আদ্রতা শুকিয়ে যাওয়ায় বাদামের দানা পুষ্ট হয় না। যাঁর ফলে বাদাম গাছ বিবর্ণ হয়ে যায়।  চরাঞ্চলের বেশকিছু জমির চিনাবাদাম এবং তিল গাছ রোদে পুড়ে বিবর্ণ হয়ে গেছে।এটা আমিও জানি কৃষি বিভাগ থেকে পরিস্থিতির ওপর  নজর রাখা হলেও,সময় মত বৃষ্টি না হলে এই মৌসুমে চিনাবাদাম ও তিলের উৎপাদন গত বছরের তুলনায় অনেক কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর