শেষ মুহূর্তে এসে বেড়ায় জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট
এস আর শাহ আলম, স্টাফ রিপোর্টার : মুসলিম উম্মার দ্বিতীয় প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আযহার আর মাত্র একদিন বাকি আছে। এরই মধ্যে পাবনার বেড়ায় জমজমাট হয়ে উঠেছে কোরবানি পশুর হাট। এ উপজেলায় সরকারি ভাবে মোট ৩ টি পশুর হাট রয়েছে। সবচেয়ে বৃহত্তর পশুর হাট সিঅ্যান্ডবি
( চতুরহাট) এ হাটে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে কোরবানির জন্য গরু, মহিষ, ভেড়া, ছাগল নিয়ে বিক্রয়ের জন্য খামারিরা আরও আগেই এসেছেন। সপ্তাহে শনি এবং মঙ্গলবার হাটবার হলেও কোরবানি ঈদের জন্য প্রতিদিনই তিনটি হাটে গবাদি পশু ক্রয় বিক্রয় হচ্ছে। এ হাট ছাড়াও নাকালিয়া , বাঁধের হাট, কোরবানি পশুর জন্য স্থায়ীভাবে হাট বসেছে। সরেজমিনে দেখা যায় হাটগুলো ক্রেতা বিক্রেতাদের পদচারণায় কানায় কানায় পূর্ণ হয়েছে।
অনেক খামারি মনে করেছিলেন চাহিদার তুলনায় উপজেলায় দ্বিগুণেরও বেশি গবাদি পশু প্রস্তুত বা জোগান থাকায় লোকসানের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন , কিন্তু রোববার উপজেলার নাকালিয়া পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায় কোরবানির পশু বিক্রি জমজমাট ভাবে চলছে এতে ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ই খুশি।অধিকাংশ ক্রেতাই পশু আগে কিনে বাড়িতে নিয়ে রাখা ঝামেলা মনে করেন তাই ঈদের এক দুইদিন আগে কিনছেন বলেও তারা জানান।
এদিকে স্থানীয় গরুর হাট গুলোতে গতবারের চেয়ে এবার চাহিদা বেশি থাকায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় প্রতিদিনই রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন গরুর হাটে নৌকা ও ট্রাক যোগে বেপারি এবং খামারিরা আরও আগে গরু নিয়ে গেছেন।রোববার নাকালিয়া পশুর হাটে সরজমিনে কথা হয় গরু কিনতে আসা উপজেলার নতুন পেচাকোলা গ্রামের রফিকুল ইসলাম কালুর সাথে তিনি বলেন , ১ লাখ ৪৬ হাজার টাকা দিয়ে ষাঁড় গরু কিনেছি মাংস আনুমানিক ৫ মণ হবে। তবে গতবারের চেয়ে তুলনামূলকভাবে এ বছর কোরবানির পশুর দাম কম দেখা যাচ্ছে। একই হাটের গরুর বেপারি সবুর জানান , মাঝারি এবং ছোট সাইজের গরুর চাহিদা সবসময় বেশি। তাই খামারিদের থেকে এ বছর মাঝারি এবং ছোট সাইজের গরু একটু বেশি দামে কিনতে হয়েছে। এদিকে ডিজিটাল তথ্য প্রযুক্তির ছোঁয়ায়ও এগিয়ে রয়েছে উপজেলার পশুর হাটগুলো অনেকেই স্মার্ট ফোনে ইমো, স্কাইপিসহ বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে ভিডিও কলে দেশ- বিদেশে বাড়িতে থাকা স্বজনদের গরু দেখাচ্ছেন এবং তারা ভিডিও কলে গরু দেখে দেখে পছন্দ করছেন কোনটা কিনবেন।
উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের কৃষক ও ক্ষুদ্র খামারি ইব্রাহিম মুদি জানান, দুই সপ্তাহ আগেও যখন জানলাম চাহিদার তুলনায় আমাদের বেড়ায় দ্বিগুণ গবাদি পশু প্রস্তুত রয়েছে তখন একটু দুশ্চিন্তায় ছিলাম, দীর্ঘদিন ধরে লাভের আশায় গরু লালন-পালন করে মনে হয় লোকসানে পড়তে হবে।কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে কৃষক এবং খামারিদের সেই সংশয়টা কেটে গেছে। বেড়া উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা.মো. সাইফুল ইসলাম জানান, প্রতিটি গরুর হাটেই ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক কাজ করছে। এছাড়াও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আয়োজনে কোরবানির পশু জবাই ও বর্জ্য অপসারণের বিষয় নিয়ে ইমাম ও কসাইদের একদিনের প্রশিক্ষণ ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে।
এ উপজেলায় ৫৩ হাজার ৫ শ’ খামার, ৯২ হাজার ১২০ টি গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া প্রস্তুত রয়েছে। চাহিদার তুলনায় প্রায় ৫২ হাজার গবাদি পশু বেশি রয়েছে বলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান।







