হানিট্র্যাপের ফাঁদে সর্বস্ব হারাচ্ছেন অনেকে, বাড়ছে সামাজিক অবক্ষয়ের শঙ্কা
কলমে : আল-আমিন
প্রযুক্তির সহজলভ্যতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপক বিস্তারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে তথাকথিত “হানিট্র্যাপ ” চক্রের তৎপরতা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সময়ে দেওয়া সতর্কতা ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনার পরও প্রতারণার এ কৌশলের শিকার হচ্ছেন অনেক মানুষ।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কিছু সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র আকর্ষণীয় পরিচয় ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে। এরপর ব্যক্তিগত সম্পর্কের আড়ালে ভিডিও কল, ছবি বা ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে সেগুলো প্রকাশের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করে। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা সামাজিক সম্মান রক্ষার জন্য চাঁদার মতো মোটা অঙ্কের অর্থ দিতে বাধ্য হন। আবার কেউ কেউ অর্থ না দিলে ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের প্রতারণা শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, ভুক্তভোগীর মানসিক স্বাস্থ্য, পারিবারিক সম্পর্ক এবং সামাজিক অবস্থানের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলে। ব্যক্তিগত ভিডিও বা ছবি ছড়িয়ে পড়লে অনেকের জন্য সমাজে স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়ে।
সাইবার নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা পরামর্শ দিয়েছেন, অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও বা সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার না করা, সন্দেহজনক ভিডিও কলে অংশ না নেওয়া এবং কোনো ধরনের ব্ল্যাকমেইলের শিকার হলে অর্থ প্রদান না করে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সহায়তা নেওয়া উচিত।
সচেতন মহলের মতে, হানিট্র্যাপ প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন পারিবারিক সচেতনতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে শিক্ষা এবং সামাজিক মূল্যবোধ জোরদার করা। বিশেষ করে তরুণদের অনলাইনে পরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।







