গাজীপুরে প্রতারণার অভিযোগে সাবেক ইউপি সদস্য কারাগারে।
প্রতারণার অভিযোগে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ইউনিয়ন পরিষদের ৪,৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক মহিলা মেম্বার জুলেখা বিবিকে (৬০) কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত ৯ টার সময় তার বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায় কালিয়াকৈর থানা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত জুলেখা বিবি গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার কামরাঙ্গাচালা গ্রামের কিয়াম উদ্দিন এর স্ত্রী।
মামলার বর্ননায় জানাযায়, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার কৌচাকুড়ী মৌজার এস এ খতিয়ান নং ৫৬ আর এস খতিয়ান নং ৭৫৫,এস এ দাগ নং ১৮৩৮ আর এস দাগ নং ৩৯০৪ জমির পরিমাণ ১২২ শতাংশ কাতে ৩৩ শতাংশ জমি বায়না সূত্রে ৪০ লক্ষ টাকায় ক্রয় করেন একই এলাকার বাসিন্দা খায়রুল ইসলাম। পরে পুকুরে মাটি ভরাট করেন আরও ৩০ লক্ষ টাকার।
খায়রুল ইসলাম জানান, জুলেখা বিবির সাথে জমি বায়না ও মাটি ভরাট সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী তিনি বায়না বাবদ ৪০ লাখ টাকা এবং উক্ত জমিতে মাটি ভরাট বাবদ ৩০ লাখ টাকা, সবমিলিয়ে মোট ৭০ লাখ টাকা জুলেখা বিবিকে প্রদান করেন।
টাকা গ্রহণের পর চুক্তি ভঙ্গ ও প্রতারণা করায় ব্যবসায়ী কোনো উপায় না পেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর গত ২৩ জুলাই জুলেখা বিবি আদালতের হলফনামা গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেটের সম্মুখে নিজে হাজির হয়ে পাওনা ৭০ লাখ টাকা পরিশোধ করবেন মর্মে লিখিত অঙ্গীকার ও হলফনামায় স্বাক্ষর করেন।
কিন্তু আদালতের কাছে লিখিত অঙ্গীকার করা সত্ত্বেও নির্ধারিত সময়ে আসামি আদালত কিংবা ভুক্তভোগীর সাথে কোনো যোগাযোগ করেননি। বরং আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালত জুলেখা বিবির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এর প্রেক্ষিতে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে গত ১৫ অক্টোবর কালিয়াকৈর থেকে আসামি জুলেখা বিবিকে গ্রেপ্তার করেম।
খায়রুল ইসলাম আরও বলেন,আমার কষ্টার্জিত ৭০ লাখ টাকা হারিয়ে আমি আজ নিঃস্ব হতে বসেছি। আসামি গ্রেপ্তার হলেও আমার পাওনা টাকা উদ্ধার এবং তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হওয়া এখনো বাকি।
অভিযুক্ত নারী যেন কোনো আইনি ফাঁকফোকর দিয়ে পার পেতে না পারেন, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিজ্ঞ আদালতের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
তিনি অবিলম্বে তাঁর আত্মসাৎকৃত ৭০ লাখ টাকা দ্রুত ফেরতের প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
গাজীপুর জেলা জজকোর্টের আইনজীবী আনিসুর রহমান বলেন,আসামীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তারা জামিন চাইবে আমরা জামিনের বিরোধীতা করবো। আগামীকালকে ধার্য তারিখ আছে যদি আসামি পক্ষ শুনানি করে আমরা তার বিরোধিতা করবো।







